গোয়ালন্দে ৮.৫৮ লাখ টাকার মাদকসহ ৪ জন গ্রেপ্তার
গোয়ালন্দে ৮.৫৮ লাখ টাকার মাদকসহ ৪ জন গ্রেপ্তার
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে র্যাবের অভিযানে ৯৯ বোতল স্কাফ ও ১৮৭ বোতল ফেয়ারডিল উদ্ধার, জব্দ মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল-প্রাইভেটকার।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে প্রায় ৮ লাখ ৫৮ হাজার টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্যসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১০)। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেটকার, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-১০-এর সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে।
র্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে একটি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ওই যানবাহন থেকে ২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বাজারমূল্যের ৯৯ বোতল স্কাফ সিরাপ এবং ৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা বাজারমূল্যের ১৮৭ বোতল ফেয়ারডিল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের মোট বাজারমূল্য প্রায় ৮ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বেগমপুর এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে মো. মিলন হোসেন খান (৩৮), একতারপুর এলাকার মৃত হায়দার আলীর ছেলে মো. তরিকুল আহমেদ তারেক (৩৮), ভগবতীতলা এলাকার মৃত আব্দুল মোতালেবের ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম (৪৮) এবং বরগুনার আমতলী এলাকার মৃত দেলোয়ার হোসেন খানের ছেলে মো. জুবায়ের হোসেন জুয়েল (৩৫)।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে স্কাফ সিরাপ, ফেয়ারডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সংগ্রহ করে ফরিদপুর, রাজবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল বলে দাবি করেছে র্যাব।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তার মো. মিলন হোসেন খানের বিরুদ্ধে একটি এবং মো. তরিকুল আহমেদ তারেকের বিরুদ্ধে তিনটি মাদক মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য ও জব্দ করা যানবাহনসহ তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-১০-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাদক নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া), র্যাব-১০-এর অধিনায়ক তপন সরকার, সন্ধ্যা ৬ টায় তথ্য জানানো হয়।