ইসলামপুরে সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলতে ছাত্রদলের মশাল মিছিল, সমাবেশ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা নোয়াখালী জেলা কমিটির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত চিলমারীতে "সাপ্তাহিক সহযোগী" পত্রিকা ১০ম বর্ষে পদার্পণ প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ শ্যামনগরে শারদীয়া দুর্গোৎসব উপলক্ষে অফিসার ইনচার্জের মতবিনিময় নিয়ামতপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মন্দির কমিটির নেতাদের মতবিনিময় সভা বৃহত্তর লাকসামে ১২০ সাংবাদিকের অংশগ্রহণে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত লাখাইয়ে পুকুরের মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দু-পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৪০। শেরপুর গারো পাহাড়ে হাতির অভয়ারণ্য গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে: পরিবেশমন্ত্রী আশাশুনিতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে এসপি দোহাজারীকে উপজেলা ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন শেষে সড়ক অবরোধ পীরগাছায় বসতবাড়ির প্রবেশপথ খুঁড়ে ফেলা, বাড়ির আঙিনা ও ঘরের দেয়াল ঘেঁষে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে চলাচলে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ জাতিকে নেতৃত্ব দিতে যোগ্য ছাত্র তৈরিতে অভিভাবকের ভূমিকা অপরিসীম,বরকত উল্লাহ বুলু লাখাইয়ে পুলিশ অভিযানে ৩কেজি গাঁজা সহ নারী মাদক কারবারী গ্রেপ্তার। শ্যামনগরে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রশিক্ষণ উদ্বোধন দিল্লিতে আটক পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা মহালয়ার অমাবস্যা: পিতৃস্মরণ থেকে দেবীবন্দনা মিরসরাই প্রেস ক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা, সভাপতি আবু সাঈদ ভূঁইয়া, সম্পাদক এম মাঈন উদ্দিন নড়িয়ায় ‘আলোকিত ডিংগামানিক ফাউন্ডেশন’-এর যাত্রা শুরু, সভাপতি মনির হোসেন ও সম্পাদক সোলায়মান খান রানা শ্রীমঙ্গলে বই পড়া উৎসবে ‘মুকুল’ থেকে ‘ফুল’ হয়ে ‘ফল’ রূপের বিস্ময়কর সফর, মোবাইল ও ডিজিটাল পর্দা ছেড়ে বইয়ের পাতায় ২৫ হাজার প্রাণ

‎মোংলায় দশম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণের ঘোষণা: অর্থনৈতিক রূপান্তরের অপেক্ষায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

ছবি সংগৃহীত

মোংলা প্রতিনিধিঃ 

‎

‎মোংলায় দশম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৮৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নৌপরিবহন ও সড়ক ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।..

‎

‎মোংলা নদীর ওপর দশম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন নৌপরিবহন, সড়ক ও সেতু এবং রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। রোববার ১৬ আগস্ট বিকেলে মোংলা বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত এক সংবর্ধনা সভায় তিনি জানান, এই অঞ্চলের যোগাযোগ অবকাঠামোকে আধুনিকায়ন করতে সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করার প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে। মূলত মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে যে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে, তাকে ত্বরান্বিত করতেই এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মোংলাকে একটি পরিকল্পিত শিল্প ও বাণিজ্যিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সেতুটি নির্মিত হলে মোংলা বন্দরের সাথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সুগম হবে এবং পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

‎

‎স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে মোংলা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এসইজেড) কার্যক্রমকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবর মাস থেকে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হবে, যেখানে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পরবর্তী ধাপে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন হলে আরও প্রায় ৬০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই অঞ্চলের বেকারত্ব নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ সংবর্ধনা সভায় মন্ত্রীর কাছে মোংলার অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, কেবল সেতু নির্মাণ নয়, বরং অর্থনৈতিক অঞ্চলের সুবিধাগুলো যেন স্থানীয়রা দ্রুত ভোগ করতে পারে, তা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর তারা বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

‎

‎সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে নেওয়া মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শন করবে না। মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম স্থানীয় নেতাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, মোংলার উন্নয়ন কেবল একটি প্রকল্পের ওপর নির্ভর করছে না, বরং বন্দর ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। প্রশাসনিক ও কারিগরি পর্যায়ে যে সকল জটিলতা রয়েছে, তা নিরসনে দ্রুত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সুশীল সমাজ। তাদের মতে, সরকারি প্রকল্পের সময়সীমা যেন কোনোভাবেই দীর্ঘায়িত না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এসব অবকাঠামোর কাজ দৃশ্যমান হবে এবং স্থানীয় অংশীজনদের সাথে সমন্বয় রেখে প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

‎

‎পরিশেষে, দশম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের এই উদ্যোগ মোংলার আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। ৮৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা গেলে এই অঞ্চলের দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করছে সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত তদারকি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর। যদি এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে সফলভাবে সম্পন্ন হয়, তবে মোংলা বন্দর দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে এবং জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে।

‎

‎

আরও খবর