দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ২১ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম এর ৮ ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উৎযাপন চিলমারীতে দফায় দফায় বাঁধে ধস, দেবে যাচ্ছে ব্লক, জিও ব্যাগ দিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না শ্রীমঙ্গল পৌর বিএনপির ৬নং ওয়ার্ড কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত শ্রীমঙ্গল পৌর বিএনপির ৬নং ওয়ার্ড কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত ফেসবুকে বরুণার পীর ও জামেয়া ইসলামিয়া শ্রীমঙ্গলের প্রিন্সিপালকে নিয়ে অপপ্রচার, নিন্দা ও আইনগত ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি কর্তৃপক্ষের আদমদীঘিতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসুচী বাস্তবায়নের লক্ষে প্রস্ততিমুলক সভা দোকান খোলার মতো বিশ্ববিদ্যালয় না বানিয়ে গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান গড়ুন’ - জাবিপ্রবিতে সারজিস আলম পলাশে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার লাখাইয়ে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে সরকারীভারে নিষিদ্ধ মাছ“পিরানহা,রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুকি। যশোরে স্বর্ণের বারসহ সাতক্ষীরার যুবক আটক লাখাইয়ে সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মী মহিউদ্দিন এর পিতার প্রয়াণ, বিভিন্ন মহলের শোক । শ্যামনগরে সুন্দরবন সংরক্ষণে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ ইউকেবিসিসিআই-এর উদ্যোগে টাওয়ার হ্যামলেটসের পুনর্নির্বাচিত এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমানকে সংবর্ধনা ও নৈশ ভোজ অনুষ্ঠিত ফারজানা হত্যার পলাতক আসামি অবশেষে ধরা পড়ল দোহাজারীতে সাঙ্গু ব্রিজের নিচে অনুমোদনহীন বালু ডাম্পিংয়ের প্রস্তুতি খাবারে তেলাপোকা, হোটেল রাজকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা বাঘায় একই বিছানা থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার নান্দাইলে মাওলানা আফতাব উদ্দিন টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে সার্টিফিকেট বিতরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

বাসস ডেস্ক - রিপোর্টার

প্রকাশের সময়: 24-07-2026 07:56:01 am

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে।

তিনি দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ও ব্যবসা প্রসারের আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

তিনি বলেন, আমাদের বাজেটে বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট প্রণোদনা নিশ্চিত করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে নবায়নযোগ্য শক্তি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা এবং লজিস্টিকস।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে আমরা বিশ্ব দরবারে একটি বৃহৎ উৎপাদন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছি। আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পকে বৈচিত্রময় করছি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও দক্ষতায় অগ্রাধিকার দিচ্ছি।

আজ দুপুরে বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই বা ফিকি) আয়োজিত এফডিআই সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক এফআইসিসিআই এফডিআই সম্মেলন ২০২৬-জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয়। এরপরই একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়।

সম্মেলনে বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন করে মূলধন বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি এ উদ্যোগে তাদের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতারও আশ্বাস দিয়েছেন।


তারেক রহমান বলেন, নতুন ও দূরদর্শী বিএনপি সরকার চায়, আপনারা বাংলাদেশে আসুন, নতুন উদ্যোগ নিন এবং ব্যবসা প্রসারিত করুন।

তিনি বলেন, দেশীয় উদ্যোক্তা বা বিদেশি বিনিয়োগকারী যাই হোন, বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে আপনাদের পাশে থাকবে। এটি কেবল আশ্বাস নয়, এটি আমাদের সরকারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে সত্যি। তবে এর পাশাপাশি আমাদের রয়েছে অফুরন্ত সম্ভাবনা ও সুদৃঢ় ভিত্তি। আমাদের রয়েছে একটি দ্রুত বিকাশমান বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, একঝাঁক তরুণ ও পরিশ্রমী মানবসম্পদ, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং নিরঙ্কুশ জনসমর্থনপুষ্ট একটি নির্বাচিত সরকার। এই শক্তিগুলো একত্রিত হয়ে বাংলাদেশকে এক টেকসই ও স্থায়ী সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য, একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সাথে যুক্ত এবং বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় পরিচালিত অর্থনীতি গড়ে তোলা। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার এই অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি সুস্পষ্ট সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রদান করে।

তারেক রহমান বলেন, আমরা আপনাদের কেবল বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি না, বরং এই রূপকল্প বাস্তবায়নে আমাদের সঙ্গে বিশ্বস্ত অংশীদার হওয়ারও উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্ণ করেছে। কিন্তু আমাদের অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছিল নির্বাচনের অনেক আগেই। আমরা বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়িক চেম্বার, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নীতি-নির্ধারকদের কথা গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছি।

তিনি বলেন, তাদের মূল বার্তাটি ছিল একেবারেই স্পষ্ট। তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগের সুদৃঢ় আইনি সুরক্ষা, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো, সহজীকৃত কর ব্যবস্থা, অর্জিত মুনাফা প্রত্যাহারের নির্বিঘ্ন প্রক্রিয়া, শক্তিশালী পুঁজিবাজার এবং উন্নত অবকাঠামো।

তারেক রহমান বলেন, তাই আমরা আপনাদের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করছি। সে অনুযায়ীই কাজ শুরু করেছি।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের আইনি ও রেগুলেটরি কাঠামোর আধুনিকায়ন করছি। বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করছি। এছাড়া দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা উন্নত করছি। কর ও ভ্যাট প্রশাসনকে সহজ এবং মুনাফা অর্জনের পর তা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াকে ঝামেলামুক্ত করছি।

একইসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা একটি গতিশীল পুঁজিবাজার গঠন, স্টার্টআপগুলোকে উৎসাহিত, অপ্রয়োজনীয় বিধিমালা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর, প্রশাসনিক প্রক্রিয়াসমূহ সহজ এবং সরকারি সেবাসমূহ ডিজিটালাইজড করছি।

এছাড়া নবায়নযোগ্য শক্তিতে অধিকতর বিনিয়োগের পাশাপাশি বন্দর, লজিস্টিকস অবকাঠামো এবং সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।

ঢাকার এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় ৬শ’ বিশিষ্ট প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। উপস্থিত ছিলেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী, বহুজাতিক কোম্পানির নির্বাহী কর্মকর্তা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী নেতা এবং গণমাধ্যমকর্মীগণ।

সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন এফআইসিসিআই এর সভাপতি এবং বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রুপালী হক চৌধুরী। 

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেবল বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে দীর্ঘস্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর।

তিনি বলেন, এখানে উপস্থিত প্রত্যেক ব্যবসায়িক নেতাকে সেই সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের অংশ হতে আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা একসঙ্গে এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারি যা হবে সুদৃঢ়, ন্যায়ভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক।

তারেক রহমান বলেন, আজকের এই মিলনায়তনের দিকে তাকালেই আমি দেখতে পাচ্ছি দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সবচেয়ে প্রতিভাবান করপোরেট প্রধান, সফল বিনিয়োগকারী এবং বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞদের উজ্জ্বল উপস্থিতি। আপনাদের অনেকেই বাংলাদেশকে আপনাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগের প্রধান গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

বিনিয়োগকারীদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের এই উদ্যোগ নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, আধুনিক প্রযুক্তির প্রবর্তন ঘটিয়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে সমৃদ্ধ করেছে এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অভাবনীয় অবদান রেখে চলেছে। এজন্য আপনাদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে প্রবেশের আগে আমি নিজেও একজন ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলাম। আমার সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমি শিখেছি, যে কোনো ব্যবসা কেবল উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে সফল হতে পারে না, ব্যবসার সাফল্যের একটি বড় অংশ নির্ভর করে সরকারের প্রবৃদ্ধি-সহায়ক নীতিমালার ওপর।

তিনি বলেন, আপনাদের সবাইকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আসুন আমরা একসাথে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাই, নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করি এবং আগামীর বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলি। 

প্রধানমন্ত্রী একটি সমৃদ্ধ ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত বাংলাদেশ গড়ার এই অগ্রযাত্রায় সকলকে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান। 


সম্মেলনে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বিদ্যমান সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় হয়। এছাড়া ‘ফিকি এফডিআই’ প্রতিবেদন উন্মোচন করা হয়। এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করা এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিশ্লেষণ, পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন করেন। এতে তিনি অংশগ্রহণকারী কোম্পানি ও সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।


সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, এফআইসিসিআই এর সভাপতি এবং বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রুপালী হক চৌধুরী, বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ দেশি-বিদেশী বিনিয়োগকারী ও প্রতিনিধিবৃন্দ।


Tag
আরও খবর




6a4f625fd1d6d-090726025703.webp
নদীকে বাঁচাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

১৪ দিন ১৮ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে