পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে ঝিনাইগাতীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিতে বাজার ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৪ প্রতিষ্ঠান লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জয়পুরহাট সুগার মিলে ফটক সভা ও বিক্ষোভ সমাবেশ পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে আবু সাঈদ-মুগ্ধ-ওয়াসিমের ছবি আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন অপরাধীদের জন্য দুঃসংবাদ, সেনবাগে ওসি আবদুর রহিমের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত কালিগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক মামলার আসামিসহ ৯ জন কারাগারে ঠাকুরগাঁওয়ে শিশু গণধর্ষণ মামলায় তিনজনের আমৃত্যু, ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঠাকুরগাঁওয়ে কিশোরী সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের আমৃত্যু, ৩ জনের যাবজ্জীবন জোড়াতালি দিয়ে চলছে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: ৭ বছর ধরে নেই আলট্রাসনোগ্রাম, অচলপ্রায় এক্স-রে, ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগীর চাপ দিনাজপুরে ‘ভোরের চেতনা’ পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের মতবিনিময় দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চুরির দুই মাস পর উদ্ধার হলো মনিটর ও ডিভিআর ,আটক ৩ জয়পুরহাটে ৫৫১ বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপসহ একজন গ্রেপ্তার জাবিপ্রবিতে সহকারী প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ পেলেন সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ হাসান বরিশালে ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার আদমদীঘিতে নেশার ট্যাবলেটসহ আটক ব্যক্তিকে জেল-জরিমানা বাংলাদেশ প্রেস ফটো কনটেস্টে আক্কেলপুরের বিপুলের সাফল্য ‎মোংলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শিশুর মৃত্যু: স্বাস্থ্যসেবায় চরম উদ্বেগ ও জনসচেতনতার অভাব কুলিয়ারচরে রাস্তার কাজে অনিয়ম: এলাকাবাসীর তোপের মুখে কাজ বন্ধ ঝিনাইগাতীতে শিক্ষা সফর ও অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠিত ক্রস লার্নিং ভিজিটে সিবিও সদস্যদের শিক্ষা সফর অনুষ্ঠিত

জোড়াতালি দিয়ে চলছে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: ৭ বছর ধরে নেই আলট্রাসনোগ্রাম, অচলপ্রায় এক্স-রে, ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগীর চাপ

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট, জরাজীর্ণ ভবন, চিকিৎসক ও কক্ষের স্বল্পতা এবং অতিরিক্ত রোগীর চাপে কার্যত জোড়াতালি দিয়ে চলছে। দক্ষিণাঞ্চলের দুর্গম এই হাসপাতালটি শুধু গলাচিপা নয়, পার্শ্ববর্তী রাঙ্গাবালী ও দশমিনা উপজেলার হাজারো মানুষের একমাত্র ভরসা। অথচ বছরের পর বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব এবং অবকাঠামোগত সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর ধরে হাসপাতালে কোনো আলট্রাসনোগ্রাম (আল্ট্রাসাউন্ড) মেশিন নেই। ফলে গর্ভবতী নারীসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালের ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন না থাকায় এখনও বহু বছরের পুরোনো অ্যানালগ এক্স-রে মেশিনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। পুরোনো প্রযুক্তির এই মেশিনে পরিষ্কার ছবি না আসায় অধিকাংশ রোগীকেই বাইরে গিয়ে ডিজিটাল এক্স-রে করাতে হয়। এতে চিকিৎসা ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি সময়ও নষ্ট হচ্ছে। শুধু চিকিৎসা সরঞ্জাম নয়, হাসপাতালের ভবনের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। বিভিন্ন ওয়ার্ড ও কক্ষের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। এতে রোগী, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। রুম সংকটও চরম আকার ধারণ করেছে। পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় অনেক সময় একটি কক্ষে দুইজন চিকিৎসককে একসঙ্গে রোগী দেখতে হয়। এতে রোগীদের সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যে কথা বলা, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং মনোযোগ দিয়ে রোগ নির্ণয় ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালটি ৫০ শয্যার হলেও প্রতিদিন ইনডোরে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। অন্যদিকে আউটডোরে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নেন। অর্থাৎ হাসপাতালটি তার ধারণক্ষমতার তিন থেকে চার গুণ বেশি রোগীর চাপ সামাল দিচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে সরকারের বরাদ্দকৃত ওষুধ ও বিভিন্ন পরীক্ষার রিএজেন্ট বছরের শেষ পর্যন্ত টেকে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, মাত্র পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যেই অধিকাংশ ওষুধ ও রিএজেন্ট শেষ হয়ে যায়। ফলে অনেক রোগীকেই বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বা পরীক্ষা করাতে বাধ্য হতে হয়। গলাচিপা উপজেলার বাসিন্দা নিকর হাওলাদার বলেন, "দক্ষিণাঞ্চলের এত বড় জনগোষ্ঠীর জন্য এই হাসপাতালই একমাত্র ভরসা। কিন্তু এখানে আলট্রাসনোগ্রাম নেই, আধুনিক এক্স-রে নেই, ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন, চিকিৎসক ও জনবল বৃদ্ধি এবং ওষুধ-রিএজেন্টের বরাদ্দ বাড়ানো জরুরি।" এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, "গলাচিপা উপজেলার চার লক্ষাধিক মানুষ এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া রাঙ্গাবালী ও দশমিনা উপজেলা থেকেও প্রতিদিন অনেক রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু এটি মাত্র ৫০ শয্যার হাসপাতাল হওয়ায় রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক সময় শয্যা না থাকায় রোগীদের ফ্লোরে রেখে চিকিৎসা দিতে হয়, আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে অন্যত্র চলে যান।" তিনি আরও বলেন, "আমাদের ওষুধ ও রিএজেন্টের যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা রোগীর সংখ্যার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। বরাদ্দ বাড়ানো হলে আমরা আরও উন্নতমানের সেবা দিতে পারব। প্রতিদিন নতুন করে ৫০ থেকে ১০০ জন রোগী ভর্তি হন এবং হাসপাতালে সার্বক্ষণিক দেড়শ থেকে দুইশ রোগী ভর্তি থাকেন।" চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমরা এখনও বহু বছরের পুরোনো অ্যানালগ এক্স-রে মেশিন দিয়ে সেবা দিচ্ছি, যা কাঙ্ক্ষিত মানের নয়। এছাড়া গাইনি বিভাগের আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন প্রায় আট বছর ধরে নষ্ট। নতুন মেশিনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে।" হাসপাতালের ভবন সম্পর্কে ডা. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, "ভবনটি অত্যন্ত পুরোনো। বিভিন্ন সময়ে ফাটল দেখা দেয় এবং মেরামত করা হলেও কিছুদিন পর আবার একই সমস্যা তৈরি হয়। জোড়াতালি দিয়ে এভাবে একটি হাসপাতাল দীর্ঘদিন চালানো সম্ভব নয়।" তিনি আরও বলেন, "সরকারের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। গলাচিপার বাস্তবতা বিবেচনায় আমরা দ্রুত একটি নতুন হাসপাতাল ভবন নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি। এটি বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।" স্থানীয়দের দাবি, দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা এই হাসপাতালকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
আরও খবর