শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার অভিযোগে লিগ্যাল নোটিশ"
শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার, নিজেদের বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে দাবি, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এবং সাংবাদিকদের সাংগঠনিক কার্যক্রমে বাধা প্রদানের অভিযোগে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে প্রাপক করা হয়েছে শান্তিগঞ্জ উপজেলার আস্তমা গ্রামের সোহেল তালুকদার এবং ডুংরিয়া গ্রামের হোসাইন আহমদকে। নোটিশদাতা হিসেবে রয়েছেন শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল কবির ও সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল হক। তাঁদের পক্ষে নোটিশটি প্রেরণ করেন জজ কোর্ট, সুনামগঞ্জের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. এমরান হোসেন খান।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠার সময় প্রণীত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি দুই বছর পরপর নতুন কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সামিউল কবির সভাপতি এবং মো. নুরুল হক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তাঁরা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
নোটিশে আরও দাবি করা হয়, বর্তমান কমিটির অধীনেই ‘শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব’ নামটি সংগঠনের ব্যানার, সাইনবোর্ড, লেটারহেড, সিল, পরিচয়পত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট এবং অন্যান্য প্রচারমাধ্যমে ব্যবহার করা বৈধ। এ বিষয়ে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা আইনবিরোধী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগ করা হয়, নোটিশপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নিজেদেরকে ‘শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব’-এর বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় দিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে তাঁরা নোটিশদাতাদের সাংগঠনিক পরিচয় ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করছেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং সাংবাদিকদের স্বাভাবিক পেশাগত পরিবেশ ব্যাহত করছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে প্রাপকদের প্রতি চারটি বিষয়ে আহ্বান জানানো হয়েছে। সেগুলো হলো— নিজেদেরকে শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে প্রচার করা থেকে বিরত থাকা, নোটিশদাতাদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর, মানহানিকর ও ভিত্তিহীন প্রচারণা বন্ধ করা, সাংবাদিকদের আইনসম্মত সাংগঠনিক কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো ধরনের বাধা না দেওয়া এবং ভবিষ্যতে যেকোনো বিরোধ আইনানুগ ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করা।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে লিখিতভাবে অবস্থান জানাতে হবে। অন্যথায় নোটিশদাতারা তাঁদের আইনগত অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, যার দায়দায়িত্ব নোটিশপ্রাপ্তদের ওপর বর্তাবে।