শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড় এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচার রোধে অভিযান চালানোর জেরে বন বিভাগের দুই কর্মীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন বিট কর্মকর্তা ও একজন ফরেস্ট গার্ড আহত হয়েছেন। আহতদের শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) রাত প্রায় ১০টার দিকে উপজেলার নকশী এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে রাত ১২টার দিকে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
আহতরা হলেন রাংটিয়া রেঞ্জের গজনী বিট কর্মকর্তা সালেহীন নেওয়াজ খান এবং ফরেস্ট গার্ড জিয়াউল ইসলাম।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গারো পাহাড়ের ঝিনাইগাতী জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালু একটি মাহিন্দ্র গাড়িতে করে পাচার করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন বিভাগের একটি দল অভিযান চালিয়ে বালুভর্তি গাড়িটি জব্দ করে। এ সময় কয়েকজন বালু কারবারিকেও আটক করা হয় এবং তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
বন বিভাগের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ওই অভিযানের পর থেকেই অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একটি চক্র ক্ষুব্ধ হয়ে বনকর্মীদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করে। রাতের দিকে নকশী এলাকায় সুযোগ পেয়ে তারা বিট কর্মকর্তা ও ফরেস্ট গার্ডের ওপর হামলা চালায়।
বন বিভাগের লোকজন জানান, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী স্থানীয় ফরহাদ, রোমান, সোহাগ ও জামান মোল্লাসহ ২০-২৫ জন বালু দস্যু দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে।
রাংটিয়া রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার আব্দুল করিম বলেন, “সকালে অবৈধ বালু জব্দ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পর থেকেই একটি চক্র আমাদের সদস্যদের ওপর হামলার সুযোগ খুঁজছিল। বিষয়টি আমরা আগে থেকে বুঝতে পারিনি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে এবং তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শুভ্রাংশু ব্যানার্জি জানান, আহত দুই বনকর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের মাথায় আঘাত রয়েছে। তবে বর্তমানে উভয়ের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
এ বিষয়ে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, বন বিভাগের দুই কর্মী আহত হওয়ার বিষয়টি পুলিশ জেনেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের উদ্যোগও নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “গারো পাহাড়ের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনাও অত্যন্ত নিন্দনীয়। মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
স্থানীয়দের মতে, গারো পাহাড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
১ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৩৭ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে