শত বাঁধা পেরিয়ে ঈশ্বরগঞ্জের প্রমিলা ফুটবলাররা এখন প্রস্তুত হচ্ছে জাতীয় মঞ্চে খেলার জন্য। ইতোমধ্যে শরিফা, নাদিয়া, পুনম, মুক্তা, আকলিমা, পলি ও শেফালিরা তাদের মেধার মাধ্যমে ঢাকায় প্রমিলা লীগে স্থান করে নিয়েছে। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত দুর্বার ক্রীড়া চক্র একাডেমি স্থানীয় খেলার মাঠে তৃণমূল পর্যায়ের ফুটবলারদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করে। এ একাডেমিতে বর্তমানে রয়েছে ৭০ জন ছেলে ও ৩০ জন মেয়ে। যাদের সপ্তাহে ৪ দিন সকাল ৭-৯টা পর্যন্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণের দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা মিঠুন চন্দ্র শীল জানান, অনেক প্রতিবন্ধকতার পরও মেয়েরা আগ্রহ হারায়নি। মেয়েরা এখানে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ পেয়ে থাকে। তবে মেয়েদের আর্থিক সমস্যা, পারিবারিক বাঁধা, আবাসিক সমস্যা, পুষ্টিকর খাদ্যের সমস্যা ও দূর থেকে আসা যাওয়ার সমস্যা অতিক্রম করে তারা কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে জাতীয় মঞ্চে উঠার সুযোগ পাচ্ছে। গত বছর বিভাগীয় পর্যায়ে প্রমিলা অনুর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্ণামেন্ট চ্যাস্পিয়ন হয় এই দলটি। পরবর্তী পর্যায়ে জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পায় ময়মনসিংহ যার মধ্যে রয়েছে এই একাডেমির ১০ মেয়ে খেলোয়ার। মেয়েদের এ সাফল্য দেখে অনেক অভিভাবকরা আগের মতো বিরুপ মন্তব্য করছেন না এমনকি অন্য মেয়েদেরও ফুটবল খেলার জন্য উৎসাহ প্রদান করছেন।
অনূর্ধ্ব ১৭ দলের খেলোয়ার নাদিয়া আফরিন জানান, প্রতিবেশিরা বিভিন্ন সময় বাঁধা দিলেও পারিবারিক সমর্থনের কারনে আমি খেলতে পারছি। ভবিষৎতে বাংলাদেশের জাতীয় দলের হয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।
ঈশ্বরগঞ্জ দুর্বার সমাজকল্যাণ ক্লাবের সভাপতি মশিউর রহমান কাউসার বলেন, নানাবিধ সমস্যা রয়েছে প্রশিক্ষণের জন্য। মেয়েরা প্রশিক্ষণের ভালো সুযোগ পেলে বহুদূর এগিয়ে যাবে।
এই মাঠ থেকে খেলে যাওয়া জাতীয় অনূর্ধ্ব ২৩ ও মোহামেডান স্পোর্টি ক্লাবের খেলোয়ার আশরাফুল হক আসিফ বলেন, এই ক্লাবে যেসব মেয়েরা খেলছে তারা বেশির ভাগই দরিদ্র পরিবারের সন্তান তাই তারা সেরকম সুযোগ সুবিধা পায় না। রাষ্ট্রীয় ভাবে তাদের আর্থিক সুবিধা প্রদান, ড্রেসিং রুম তৈরি করা এবং খেলার সরঞ্জাম প্রদান করা হলে তারাও খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।
জাতীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু জানান, মেয়ের প্রশিক্ষণের জন্য সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হবে। এখানে মেয়েরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে যেন জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখতে পারে সেজন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
৩ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
২ দিন ২৩ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে
৩ দিন ৬ ঘন্টা ৪৯ মিনিট আগে
৬ দিন ২৩ ঘন্টা ৮ মিনিট আগে
৯ দিন ২ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে
১০ দিন ২১ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
২২ দিন ২২ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
৫৬ দিন ২ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে