সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে নাশকতা ও ফৌজদারি মামলার আসামি এক প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত না করা নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা, বিশেষ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কালিগঞ্জ আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম নাশকতা, সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র এবং বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে ছিলেন। থানা সূত্রে জানা যায়, বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ১৯০৮ এর আওতায় দায়ের করা মামলায় গত ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরে ৭ জানুয়ারি ২০২৬ জামিনে মুক্তি পান।
প্রচলিত বিধি অনুযায়ী, কোনো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ৪৮ ঘণ্টার বেশি কারাগারে থাকলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে। একই মামলায় অভিযুক্ত নলতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও শফিকুল ইসলামের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম প্রয়োগ না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে।
এ বিষয়ে উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নুল আবেদিন একাধিকবার আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং কালিগঞ্জের (ভারপ্রাপ্ত) ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সভাপতি মঈনুল হাসান খানের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের অপসারণ ও বরখাস্তের দাবিতে গত রবিবার (১২ এপ্রিল) আবারও ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তবে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ আরও জোরালো হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, শফিকুল ইসলাম পূর্বে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে ভূমি দখল, চাঁদাবাজি, মিথ্যা মামলা দায়েরসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রায় অর্ধকোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে।
বিদ্যালয়টি ২০১০ সালে নিম্ন মাধ্যমিক এবং ২০২২ সালে মাধ্যমিক হিসেবে এমপিওভুক্ত হয়। এর আগে থেকেই প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে।
এদিকে, গত জুলাই আন্দোলনের সময় প্রধান শিক্ষককে অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবির হস্তক্ষেপে প্রশাসন আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠনে গোপনে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আবারও ক্ষোভ বাড়ছে এবং নতুন করে আন্দোলনের প্রস্তুতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জেলা প্রশাসকের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। ফলে কালিগঞ্জজুড়ে বিষয়টি এখন ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে।
৩ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
১৭ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে
১৭ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে