আট মাসের অবুঝ সন্তানটা হয়তো এখনো বাবার গলার স্বর চেনে না। যে বাবা গত ১০ বছর ধরে বিদেশের তপ্ত রোদে ঘাম ঝরিয়েছেন শুধু পরিবারের একটু সুখের আশায়, সেই বাবা ফিরছেন ঠিকই—তবে জীবন্ত নয়, কফিনবন্দি হয়ে। মালয়েশিয়ায় এক কর্মস্থল দুর্ঘটনায় না ফেরার দেশে চলে গেছেন যশোরের এনায়েতপুর গ্রামের মোর্ত্তুজা হোসেন (৩৮)।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকালটা আর দশটা দিনের মতোই শুরু হয়েছিল। মালয়েশিয়ায় একটি নির্মাণাধীন সাইটে ওয়েল্ডিংয়ের (ঝালাই) কাজ করছিলেন মোর্ত্তুজা। কিন্তু হঠাৎ পা ফসকে ওপর থেকে নিচে পড়ে যান তিনি। মাথায় গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই থেমে যায় তার জীবনের স্পন্দন। নিমিষেই বিলীন হয়ে যায় আসন্ন কোরবানির ঈদে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার সব প্রস্তুতি।
লেবুতলা ইউনিয়নের মৃত সোয়েদ মোল্যার কনিষ্ঠ সন্তান মোর্ত্তুজা এক দশক আগে যখন মালয়েশিয়া পাড়ি জমান, তখন চোখে ছিল অনেক স্বপ্ন। কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু নিজের সুখ বিসর্জন দিয়েছেন বারবার। মাত্র ১৩ মাস আগে শেষবার দেশে এসে সন্তানের মুখ দেখেছিলেন। এবার ফেরার কথা ছিল বরাবরের জন্য, কিন্তু নিয়তি তাকে ফিরতে দিচ্ছে কেবল এক নিথর দেহ হিসেবে।
নিহত মোর্ত্তুজার বড় ভাইয়ের স্ত্রী জানান, মরদেহ দেশে আনার জন্য নথিপত্র তৈরির কাজ চলছে। গ্রামের বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে দিশেহারা স্ত্রী ও স্বজনরা। সবার চোখে এখন একটাই প্রশ্ন—বাবার আদর বঞ্চিত এই আট মাসের শিশুটির ভবিষ্যৎ কী হবে?
আমাদের অর্থনীতির চাকা যাদের হাত ধরে ঘোরে, মোর্ত্তুজা ছিলেন সেই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদেরই একজন। তবে তার এই মৃত্যু আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, প্রতিটি রেমিট্যান্সের পেছনে লুকিয়ে থাকে একেকটি জীবনের ঝুঁকি আর স্বজনদের না বলা দীর্ঘশ্বাস। এনায়েতপুর গ্রামের বাতাস এখন মোর্ত্তুজার স্বজনদের কান্নায় ভারী, আর দেশের পথ চেয়ে আছে এক বীর প্রবাসীর শেষ যাত্রার অপেক্ষায়।
৩ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
১৮ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে
২১ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে