যশোরের কেশবপুর ও ভবদহ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের অভিশাপ 'জলাবদ্ধতা' নিরসনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। শনিবার সকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত কেশবপুরের বুরুলি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় বুরুলি খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। কপোতাক্ষ নদ সংলগ্ন এলাকায় পানিবন্দী মানুষের দুঃখ ঘুচাতে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, "শুধুমাত্র রাজনীতির সংকীর্ণতার কারণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি থেকে বাংলাদেশের মানুষ বঞ্চিত হয়েছে। খাল খননে জিয়াউর রহমানের নাম সামনে চলে আসবে, তাই বিগত সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। কিন্তু আমরা এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-কষ্টের একটি স্থায়ী সমাধান সূত্র খুঁজে বের করতে চাই।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিগত সরকার উন্নয়নের নামে পকেট ভারী না করলে ভবদহ সমস্যার সমাধান অনেক আগেই হয়ে যেত।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় জনদুর্ভোগ লাঘবে বদ্ধপরিকর। জলাবদ্ধতা দূর করতে বর্তমানে এই অঞ্চলে ৮১.৫০ কিলোমিটার নদ-নদী এবং ভবদহ এলাকার ২১টি অভ্যন্তরীণ খাল পুনঃখননের কাজ চলমান রয়েছে। বর্ষার আগেই যেন গত বছরের তুলনায় জলাবদ্ধতার কষ্ট অন্তত ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা যায়, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত স্লুইচ গেট সচল ও বাঁধ অপসারণের নির্দেশ দেন তিনি। একইসাথে এই কর্মযজ্ঞে স্থানীয় তরুণ সমাজকে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
বুরুলি খালটি পুনঃখনন সম্পন্ন হলে বুরুলি, পাথরা, পাঁজিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও কৃষ্ণনগর বিলের পানি সহজে আপারভদ্রা নদীতে নিষ্কাশিত হতে পারবে। এতে করে ওই এলাকার কৃষকরা পুনরায় ফসল উৎপাদনের সুযোগ পাবেন এবং পানিবন্দী জীবন থেকে মুক্তি মিলবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি চারাগাছ রোপণ করেন।
যশোরের জেলা প্রশাসক আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মামুনুর রশিদ, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
৩ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
১৮ ঘন্টা ৪ মিনিট আগে
২১ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে