শার্শায় ধানের শীষকে হারিয়ে জয়ী ‘দাঁড়িপাল্লা’: ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে আজিজুর রহমান বিজয়ী কেশবপুরে ‘দাঁড়িপাল্লার’ জয়জয়কার: ধানের শীষকে পেছনে ফেলে বিজয়ী অধ্যাপক মুক্তার আলী যশোর-৩ আসনে অনিন্দ্য অমিতের জয়: নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল কাদেরের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই খাগড়াছড়িতে বেসরকারিভাবে ওয়াদুদ ভূইয়া বিজয়ী মণিরামপুরের রায়: ধানের শীষ-স্বতন্ত্রকে পেছনে ফেলে বিজয়ী গাজী এনামুল হক নোয়াখালীতে ৩জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে অব্যাহতি ধামরাইয়ে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৯, ভোট কেন্দ্র ১৪৭ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্বাচনে নোয়াখালীর হাতিয়াতে হামলায় সাংবাদিকসহ আহত ৩০ নোয়াখেলেীতে নারী ভোটারদের উপছে পড়া ভিড় কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ভোট গ্রহণে আমরা সন্তুষ্ট: নাহিদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেন সাবেক মন্ত্রী বয়সকে তুড়ি মেরে কেন্দ্রে ১২০ বছরের সরণা: 'ভোট তো আমানত, ফেলে রাখি কেমনে?' শ্যামনগরে ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন শেরপুরে ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বই ছিনতাই: একজনের ৩ বছরের কারাদণ্ড যশোর-২: সাবিরা সুলতানার পক্ষে ‘গণজোয়ার’, ভোটের মাঠ থেকে পিছুটান জামায়াত-শিবিরের ঢাকা-২০ আসনে জয়-পরাজয়ে ফেক্টর হিসেবে গন্য করা হচ্ছে নারী ও আওয়ামী লীগ ভোটারদের উৎসবের রঙে যশোরের ভোট: কেন্দ্রজুড়ে তারুণ্যের জোয়ার, সন্তোষ প্রকাশ ভোটারদের ভোটের মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছায় দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে: মঈন খান ভোটের সকালেই উত্তপ্ত যশোর: তালবাড়িয়ায় ককটেল ও হামলা, আহত ২

নির্বাচনে ব্যয় ৩১৫০ কোটি, কোন খাতে কত বরাদ্দ যাচ্ছে

দেশচিত্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশের সময়: 02-02-2026 12:08:03 pm

দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যয়ে নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজন করতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। যা আগের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বেশি। 


এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো ব্যয় হিসেবে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা দাবি করেছিল। তবে প্রাথমিকভাবে তাদের জন্য ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা মোট নির্বাচনী ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ।


আইনশৃঙ্খলা খাতে কোন বাহিনী কত বরাদ্দ পাচ্ছে : 


আইনশৃঙ্খলা খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পাচ্ছে আনসার বাহিনী— ৫৪৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। পুলিশের পেছনে ব্যয় হচ্ছে ২৭০ কোটি ২১ লাখ টাকা। তিন বাহিনীর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মোট ১৮৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাচ্ছে ১৪৮ কোটি ৫৮ লাখ, নৌবাহিনী ২৩ কোটি ৩৭ লাখ এবং বিমানবাহিনী ১৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা।


এছাড়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পাচ্ছে ১০০ কোটি ১৭ লাখ, কোস্ট গার্ড ৩৩ কোটি ৭০ লাখ, র‌্যাব ২১ কোটি ৭৭ লাখ, গ্রাম পুলিশ ১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ফায়ার সার্ভিস ১ কোটি, এনটিএমএসি ৫২ লাখ, স্বশস্ত্র বিভাগ ৫৫ লাখ, ডিজিএফআই ২ কোটি, স্বরাষ্ট্র বিভাগ ৪০ লাখ টাকা পাচ্ছে।


আইনশৃঙ্খলা ছাড়াও অন্যান্য খাতে যত বরাদ্দ :


নির্বাচন পরিচালনা বাবদ ইসি ব্যয় ধরেছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাহিনী ও কর্মকর্তাদের দৈনিক খোরাকি ভাতা ৭৩০ কোটি, সরকারি যানবাহনের জ্বালানি ২৯৮ কোটি, চুক্তিভিত্তিক যানবাহন ২০১ কোটি, বিভিন্ন পণ্য কেনাকাটা ৫৮১ কোটি, সম্মানি ৫১৫ কোটি, যন্ত্রপাতি ক্রয় ১৬২ কোটি এবং মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ে ১০৮ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে।


এছাড়া যাতায়াত ভাতায় ১০৯ কোটি, বিজ্ঞাপন ও প্রচারে ১০৩ কোটি, আপ্যায়নে ১৮৪ কোটি, পরিবহন ব্যয়ে ৮০ কোটি এবং অনিয়মিত শ্রমিকদের মজুরিতে ৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।


গণভোটের প্রচারণায় এবার নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ও ইসি থেকে অর্থ বরাদ্দ নিচ্ছে, যা অতীতের কোনো নির্বাচনে দেখা যায়নি। সূত্র জানায়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ৪৬ কোটি, তথ্য মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৫২ লাখ, ধর্ম মন্ত্রণালয় ৬ কোটি ৯৮ লাখ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৫২ লাখ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়েছে। ইসির জনসংযোগ শাখা ব্যয় করছে ৪ কোটি টাকা।


এছাড়া সিসিটিভি কেনার জন্য এলজিইডি ইসি থেকে ৭০ কোটি টাকা নিয়েছে। গণভোটের ব্যালট ছাপাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ কোটি টাকা।


পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে বিশ্বের ১২৩টি দেশ থেকে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন। প্রতি ভোটগ্রহণে সরকারের গড় ব্যয় প্রায় ৭০০ টাকা। এছাড়া ১০ লাখের বেশি প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারকে প্রশিক্ষণ দিতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৭ কোটি টাকা।


নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে, এবারের নির্বাচনে ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ একাধিক নতুন কার্যক্রম সংযোজন। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট আয়োজন করতে গিয়ে অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানো, আলাদা বাক্স, পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার প্রয়োজন হচ্ছে। একই সঙ্গে ভোট গ্রহণ ও গণনার জন্য বাড়তি জনবল নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং ভাতা বাবদ ব্যয়ও বেড়েছে।


এছাড়া প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার পরিসর বাড়ানোয় ব্যয়ের চাপ আরও বেড়েছে। পোস্টাল ব্যালট ছাপানো, ডাকযোগে পাঠানো, ফেরত আনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আলাদা লজিস্টিক ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন হচ্ছে। এতে করে মুদ্রণ, ডাক ব্যয় এবং তদারকিতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করতে হয়েছে।


ইসি সূত্র জানায়, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে এবার নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনায়ও বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা, নজরদারি, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইটি সাপোর্ট এবং ফলাফল ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হয়েছে। এসব কারণ মিলিয়েই এবারের নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল হতে যাচ্ছে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন।


নির্বাচনী ব্যয় প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসউদ বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনী ব্যয় কমানোর পক্ষে। কিন্তু গণভোট ও পোস্টাল ব্যালট যুক্ত হওয়ায় এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রচারণা ব্যয় আসায় এবার খরচ বেড়েছে।’


আরও খবর