ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘চরম গুরুতর সামরিক আগ্রাসনের’ অভিযোগ এনে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে তিনি এ ঘোষণা দেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার ভোরে কারাকাসের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। একই সময় আকাশে যুদ্ধবিমানের মতো উড়োজাহাজের শব্দও শোনা গেছে।
মাদুরোর কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, “ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ড ও জনগণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পরিচালিত এই চরম গুরুতর সামরিক আগ্রাসন আমরা প্রত্যাখ্যান করছি, নিন্দা জানাচ্ছি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
প্রেসিডেন্ট মাদুরো এই হামলাকে ‘সাম্রাজ্যবাদী আক্রমণ’ আখ্যা দিয়ে দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বাত্মক প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনশৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক জনগণ, সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে মোতায়েন রয়েছে। এটিকে তিনি জনগণ–সেনা–পুলিশের সম্মিলিত প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন।
মাদুরো আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে ভেনেজুয়েলা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, জাতিসংঘের মহাসচিব, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় রাষ্ট্রসমূহের জোট (সেলাক) এবং জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের কাছে আবেদন জানাবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই হামলার নিন্দা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য।
সংবিধান ও জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় দেশের সব জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা সক্রিয় করার ঘোষণাও দেন মাদুরো। একই সঙ্গে তিনি ‘বহিঃকম্পন’ বা বাহ্যিক অস্থিরতার অজুহাতে সারা দেশে জরুরি অবস্থা জারির ডিক্রিতে সই করেন, যার ফলে সরকার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে।
মাদুরোর ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং প্রয়োজনে সশস্ত্র প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে। তিনি অবিলম্বে ‘সমন্বিত জাতীয় প্রতিরক্ষা কমান্ড’ সারা দেশে মোতায়েনের নির্দেশ দেন এবং আঞ্চলিক ও পৌর প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোকে বিলম্ব না করে কার্যক্রম শুরু করতে বলেন।
জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে মাদুরো বলেন, আত্মরক্ষার অধিকার ভেনেজুয়েলা সংরক্ষণ করে। তিনি বিশ্বজুড়ে সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানান। বক্তব্যের শেষে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের উদ্ধৃতি দিয়ে ঐক্য, সংগ্রাম ও বিজয়ের ডাক দেন তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার কারাকাসে চালানো এসব হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী জড়িত। সিবিএস নিউজ ও ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিবিএসের প্রতিবেদক জেনিফার জ্যাকবস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, শনিবার ভোরে কারাকাসে বিস্ফোরণ ও উড়োজাহাজের উপস্থিতির বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবগত ছিলেন।
তবে এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। রয়টার্সের এক প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভেনেজুয়েলার ভেতরে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাচ্ছে, তবে হামলার বিস্তারিত তিনি জানাননি।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
১৮ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে
১ দিন ১৯ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
২ দিন ২৩ ঘন্টা ১ মিনিট আগে
২ দিন ২৩ ঘন্টা ৭ মিনিট আগে
৪ দিন ১ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
৪ দিন ২০ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
৫ দিন ২০ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
৬ দিন ১০ মিনিট আগে