শার্শায় ধানের শীষকে হারিয়ে জয়ী ‘দাঁড়িপাল্লা’: ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে আজিজুর রহমান বিজয়ী কেশবপুরে ‘দাঁড়িপাল্লার’ জয়জয়কার: ধানের শীষকে পেছনে ফেলে বিজয়ী অধ্যাপক মুক্তার আলী যশোর-৩ আসনে অনিন্দ্য অমিতের জয়: নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল কাদেরের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই খাগড়াছড়িতে বেসরকারিভাবে ওয়াদুদ ভূইয়া বিজয়ী মণিরামপুরের রায়: ধানের শীষ-স্বতন্ত্রকে পেছনে ফেলে বিজয়ী গাজী এনামুল হক নোয়াখালীতে ৩জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে অব্যাহতি ধামরাইয়ে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৯, ভোট কেন্দ্র ১৪৭ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্বাচনে নোয়াখালীর হাতিয়াতে হামলায় সাংবাদিকসহ আহত ৩০ নোয়াখেলেীতে নারী ভোটারদের উপছে পড়া ভিড় কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ভোট গ্রহণে আমরা সন্তুষ্ট: নাহিদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেন সাবেক মন্ত্রী বয়সকে তুড়ি মেরে কেন্দ্রে ১২০ বছরের সরণা: 'ভোট তো আমানত, ফেলে রাখি কেমনে?' শ্যামনগরে ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন শেরপুরে ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বই ছিনতাই: একজনের ৩ বছরের কারাদণ্ড যশোর-২: সাবিরা সুলতানার পক্ষে ‘গণজোয়ার’, ভোটের মাঠ থেকে পিছুটান জামায়াত-শিবিরের ঢাকা-২০ আসনে জয়-পরাজয়ে ফেক্টর হিসেবে গন্য করা হচ্ছে নারী ও আওয়ামী লীগ ভোটারদের উৎসবের রঙে যশোরের ভোট: কেন্দ্রজুড়ে তারুণ্যের জোয়ার, সন্তোষ প্রকাশ ভোটারদের ভোটের মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছায় দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে: মঈন খান ভোটের সকালেই উত্তপ্ত যশোর: তালবাড়িয়ায় ককটেল ও হামলা, আহত ২

নাগরিক নিরাপত্তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত

দেশচিত্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশের সময়: 24-12-2025 01:11:31 pm

◾মো:মাহিন উদ্দিন  : গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নির্বাচন শুধু ক্ষমতা বদলের প্রক্রিয়া নয়, এটি নাগরিক আস্থা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। আর এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে। তাই নির্বাচন ও নাগরিক নিরাপত্তা একে অপরের পরিপূরক। একটি ছাড়া অন্যটি পূর্ণতা পায় না।


নির্বাচনের সময় সাধারণ মানুষের প্রধান প্রত্যাশা থাকে নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ। ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে শুরু করে ফল ঘোষণা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না থাকলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি শুধু ভোটার উপস্থিতিই কমায় না, বরং পুরো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থাকে দুর্বল করে দেয়।


অন্যদিকে, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নাগরিক নিরাপত্তাকেও শক্তিশালী করে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনস্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নৈতিক ও সাংবিধানিক বৈধতা অর্জন করে। এতে রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বাড়ে, সামাজিক অস্থিরতা কমে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর চাপও হ্রাস পায়।

নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা, ভোটারদের সুষ্ঠু প্রবেশাধিকার, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো ধরনের হিংসা, ভয় বা প্ররোচনার কারণে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে বাধাগ্রস্ত হলে নির্বাচনের সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই নিরাপত্তার মধ্যে শুধু শারীরিক নিরাপত্তা নয়, তথ্যের নিরাপত্তাও অন্তর্ভুক্ত। তথ্যের স্বচ্ছতা ও নাগরিক সচেতনতা নিশ্চিত না হলে জনগণের ভোটাধিকার পূর্ণভাবে সঞ্চালিত হয় না।


এছাড়া নির্বাচনের নিরাপত্তা শুধু ভোটের দিন সীমিত থাকে না। প্রার্থী মনোনয়ন, প্রচারণা, এবং ভোট গণনার প্রতিটি ধাপে আইনশৃঙ্খলার দৃঢ় উপস্থিতি প্রয়োজন। দেশের অভিজ্ঞতা দেখায় যে, যেখানে নির্বাচনী নিরাপত্তা শক্তিশালী হয়েছে, সেখানে ভোটাররা নির্ভয়ে অংশগ্রহণ করেছে এবং ফলাফল স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে।

তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুধুমাত্র বাহিনীর উপস্থিতি নয়। এটি সমাজের প্রত্যেক স্তরের সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের ফলও বটে। নাগরিকরা যখন শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করে, রাজনৈতিক দলগুলো যখন নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলে, এবং প্রশাসন সময়মতো পদক্ষেপ নেয়, তবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।


বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের সমন্বিত ভূমিকা নিশ্চিত করতে না পারলে নাগরিক নিরাপত্তা যেমন হুমকির মুখে পড়ে, তেমনি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাও ক্ষুণ্ন হয়।


অতএব, যে কোনো দেশের গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো সুষ্ঠু নির্বাচন। আর সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হয় কেবল তখনই যখন নাগরিক, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিলিতভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে কেবল হিংসা রোধ নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা স্থাপন করা। এভাবেই নিরাপত্তাই দাঁড়ায় সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান ভিত্তি। নির্বাচন ও নাগরিক নিরাপত্তা আলাদা কোনো বিষয় নয়। নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, আবার গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি নাগরিক নিরাপত্তাও টেকসই হয় না। গণতন্ত্রকে কার্যকর রাখতে হলে এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য ও সমন্বয় নিশ্চিত করাই সময়ের দাবি।


লেখক : মো:মাহিন উদ্দিন 

শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ

আরও খবর