শার্শায় ধানের শীষকে হারিয়ে জয়ী ‘দাঁড়িপাল্লা’: ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে আজিজুর রহমান বিজয়ী কেশবপুরে ‘দাঁড়িপাল্লার’ জয়জয়কার: ধানের শীষকে পেছনে ফেলে বিজয়ী অধ্যাপক মুক্তার আলী যশোর-৩ আসনে অনিন্দ্য অমিতের জয়: নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল কাদেরের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই খাগড়াছড়িতে বেসরকারিভাবে ওয়াদুদ ভূইয়া বিজয়ী মণিরামপুরের রায়: ধানের শীষ-স্বতন্ত্রকে পেছনে ফেলে বিজয়ী গাজী এনামুল হক নোয়াখালীতে ৩জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে অব্যাহতি ধামরাইয়ে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৯, ভোট কেন্দ্র ১৪৭ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্বাচনে নোয়াখালীর হাতিয়াতে হামলায় সাংবাদিকসহ আহত ৩০ নোয়াখেলেীতে নারী ভোটারদের উপছে পড়া ভিড় কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ভোট গ্রহণে আমরা সন্তুষ্ট: নাহিদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেন সাবেক মন্ত্রী বয়সকে তুড়ি মেরে কেন্দ্রে ১২০ বছরের সরণা: 'ভোট তো আমানত, ফেলে রাখি কেমনে?' শ্যামনগরে ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন শেরপুরে ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বই ছিনতাই: একজনের ৩ বছরের কারাদণ্ড যশোর-২: সাবিরা সুলতানার পক্ষে ‘গণজোয়ার’, ভোটের মাঠ থেকে পিছুটান জামায়াত-শিবিরের ঢাকা-২০ আসনে জয়-পরাজয়ে ফেক্টর হিসেবে গন্য করা হচ্ছে নারী ও আওয়ামী লীগ ভোটারদের উৎসবের রঙে যশোরের ভোট: কেন্দ্রজুড়ে তারুণ্যের জোয়ার, সন্তোষ প্রকাশ ভোটারদের ভোটের মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছায় দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে: মঈন খান ভোটের সকালেই উত্তপ্ত যশোর: তালবাড়িয়ায় ককটেল ও হামলা, আহত ২

ভোলা বরিশাল সেতু বাংলাদেশর অর্থনীতিতে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ।

Md Hasnine ( Contributor )

প্রকাশের সময়: 23-11-2025 06:34:35 pm

কুইন আইল্যান্ড অফ বাংলাদেশ খ্যাত দ্বীপ জেলা ভোলা। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সুফল হিসাবে এ জেলার বিপুল পরিমাণ সম্পদ দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি বিকাশের মেরুদণ্ড হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না ভোলা- বরিশাল সেতু না হওয়ার কারণে। এখন পর্যন্তক ভোলা জেলার সাথে কোন জেলার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হয়নি। অপর সম্ভাবনাময় এই ভোলা জেলা সঠিক তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে পারলে হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের সিঙ্গাপুর। এই জেলায় বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। সরকারি এক হিসাব মতে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা আসে নদীর ইলিশ, গ্যাস ও পর্যটন শিল্প থেকে। দক্ষিণাঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ সমৃদ্ধ জেলাই হচ্ছে ভোলা।


গবেষক ও বিশ্লেষকরা মনে করেন ভোলা বরিশাল সেতু তৈরির মাধ্যমে পদ্মা সেতুর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে। ভোলা জেলার প্রাকৃতিক সম্পদ যদি সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করা  যায় তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিরাট এক পরিবর্তন আসবে। ভোলায় রয়েছে প্রায় দুই ট্রিলিয়ান ঘনফুট গ্যাসের মজুত। বর্তমানে ৬টি কূপ থেকে প্রতিদিন উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ ১২০ এমএমসিএফ। যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। যাতায়াতের সুবিধা না থাকায় এই বিপুল পরিমাণ গ্যাস থেকে দেশের অর্থনীতিতে তেমন অবদান রাখা যাচ্ছে না। এছাড়া এখানে রয়েছে গ্যাস ভিত্তিক চারটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র যা থেকে প্রতিদিন ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। আর এই গ্যাস ও বিদ্যুৎকে কেন্দ্র করে তৈরি হতে পারে অসংখ্য শিল্প কারখানা। যার মাধ্যমে কর্মসংস্থান মিলবে অসংখ্য বেকার নারী ও পুরুষের। বেকারত্ব লাঘবের মাধ্যমে যারা অর্থনীতিতে অবদান রাখবে । কিন্তু যাতায়াতের পর্যাপ্ত সুব্যবস্থা না থাকায় এই শিল্প কারখানা গুলো গড়ে উঠতে পারতেছে না। 


স্বর্ণ মুদ্রা হিসেবে খ্যাত সর্বাধিক ইলিশ মাছ আরোহিত হচ্ছে এ জেলা থেকে। বছরে এক লক্ষ আশি হাজার মেট্রিক টন ইলিশ ধরা পড়ে জেলেদের জালে। যার বাজার মূল্য প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। জেলেদের জালে ধরা পড়া এই মাছ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাজধানীর সহ বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি করা হয়। রাজধানীর সাথে সরাসরি যাতায়াতের সুবিধা না থাকায় অনেক সময় এ মাছ নিয়ে ভোগান্তির শিকার হতে হয় জেলেদের। ভোলা বরিশাল সেতু থাকলে পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দিনের মাছ দিনে বিক্রি করতে পারতেন জেলেরা। এখন জেলেরা রাতের বেলা মাছ ধরার পর পরের দিন বিকাল পর্যন্তক অপেক্ষা করতে হয় মাছ রাজধানীতে পোঁছানোর জন্য। এতে প্রায় ১৫- ১৮ ঘন্টা সময় লেগে যায়। যার মধ্যে মাছ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে অনেক বেশি। কিন্তু ভোলা- বরিশাল সেতু হলে পদ্মা সেতু ব্যবহারে মধ্যে মাত্র ৭-৮ ঘন্টায় রাজধানীতে পোঁছানো সম্ভব হবে।


এই জেলায় প্রতি বছর ২০০ কোটি টার বেশি তরমুজ উৎপাদন হয়। যা ঢাকাসহ দোশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করা হয়। যাতয়াতের সুব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা তাদের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। তরমুজ পচনশীল একটি পণ্য হওয়ায় ঢাকার অনেক আরদ্দার ব্যবসায়ী ঝুঁকি নিতে চান না। তারা মনে করেন তরমুজ পৌঁছাতে যে সময় লাগে তাতে তরমুজ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভবণা বেশি।

 এখানে রয়েছে ব্লাক ডায়মন্ড। এই অমূল্য সম্পদ ব্লাক ডায়মন্ড সংগ্রহের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যার প্রাথমিক মূল্য ধরা হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। জেলার চাহিদা মেটানোর পর সাড়ে পাঁচ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয় এই জেলায়। যার মূল্য প্রায় হাজার কোটি টাকা। জেলায়  উৎপাদিত সবজি (শশা, করলা, রেখা, পেঁপে, ক্যাপসিক্যাম, আলু, ঢেঁরস, পেঁয়াজ) জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি হয়। অর্থনৈতিক এমন সমৃদ্ধ জেলা ভোলা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এই বিচ্ছিন্ন জেলাকে অন্যান্য জেলার সাথে যুক্ত করতে প্রয়োজন ভোলা- বরিশাল সেতু তৈরি। 

অন্যদিকে দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের ২১ জেলার সহজ যোগাযোগের ক্ষেত্রে ট্রানজিট হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে ভোলা জেলা। অপরূপ সৌন্দর্যের এ জেলায় প্রতিদিন আসছেন পর্যটকরা। ক্রমেই বিকশিত হচ্ছে পর্যটন শিল্পের। এখানে শীতকালে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যায়। জীবন্ত ইলিশ তোলার দৃশ্য উপভোগ করা যায় মেঘনার তুলাতলি পাড়ে বসে। চরফ্যাশনের বেতুয়া প্রশান্তির পাড়, কুকরিমুকরি, তারুয়া সৈকত, মনপুরার দক্ষিণা হাওয়া বিচ, শেখ রাসেল পার্ক, লালমোহনের সজিব ওয়াজেদ ডিজিটাল পার্ক, তেঁতুলিয়া নদীর পারে বঙ্গবন্ধু উদ্যান, জ্যাকব টাওয়ার ছাড়া ও রয়েছে অসংখ্য পর্যটনের স্পট। এ পর্যটন স্পটগুলো যোগাযোগের ব্যসবস্থা ভালো না হওয়াই দিন দিন জনমানুষ শূন্য হয়ে পড়ছে। পদ্মা সেতু এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও যোগাযোগে শতাব্দীর সোপান এ কথা নিশ্চিত । তবে এর সুফল শতভাগ নিশ্চিত হবে ভোলা-বরিশাল ব্রিজ নির্মাণের মধ্য দিয়ে। তখন মাত্র ৬-৭ ঘণ্টায় ভোলার পণ্য ঢাকায় পৌঁছবে। ভোলা জেলা আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতির বিরাট পরিবর্তন করবে বলে মনে করেন অনেকে।

Tag
আরও খবর