রাষ্ট্রপতির আইনি সুরক্ষা দায়িত্বকালীন সময়ের জন্য: তথ্য উপদেষ্টা বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ‘সবই করতে চাই, কিন্তু হাত-পা বাঁধা’—ঝিনাইগাতীতে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী চিলমারীতে "নদী ভাঙন রোধ ও বাঁধের ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য স্থায়ী সমাধানের দাবিতে মানববন্ধন দৌলতদিয়ার দুই বিদ্যালয়ে বাল্যবিবাহ, মাদক ও সাইবার আসক্তি বিষয়ে সচেতনতামূলক সভা দোহাজারীতে ৫০ টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ছুরিকাঘাত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি: সিইসি গোয়ালন্দের পদ্মা নদীতে অভিযানে ৩৫টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও জাল জব্দ, আগুনে ধ্বংস দিনাজপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে সেলাই মেশিন বাইসাইকেল ও শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ নির্মাণের ১১ বছর পরও তালাবদ্ধ শার্শার ১০ শয্যার হাসপাতাল শ্রীবরদীতে প্রাথমিক শিক্ষকদের সুপারভিশন ও মনিটরিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত নাগেশ্বরীর গর্ব তাজু ভাই ২.০ এখন ‘টাইমস টুডে’-তে: রাজমিস্ত্রির সহকারী থেকে সাংবাদিকতার নতুন যাত্রা শ্যামনগরে দুই ক্লিনিককে মোবাইল কোর্টে জরিমানা মৌলভীবাজারে আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পবিপ্রবিতে নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য সাইফুল ইসলাম, ট্রেজারার আতিকুর রহমান শ্রীমঙ্গলে ঝুলে আছে মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ চন্দনাইশে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার, নিঃসঙ্গ জীবনের করুণ পরিণতি ছায়াময় ক্যাম্পাস গড়ার প্রত্যয়ে ট্যুরিস্ট ক্লাব সাস্টের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নোয়াখালীতে লাকড়ির ঘরে মিলল এলজি-কার্তুজ জয়পুরহাট চিনিকলে জিয়া পরিষদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

স্বচ্ছ নির্বাচনই গণতন্ত্রের শ্বাসপ্রশ্বাস

সম্পাদকীয় ডেস্ক - প্রতিনিধি

প্রকাশের সময়: 21-11-2025 08:54:13 am


◾ নবাব শাহজাদা : ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হয়ে উঠতে যাচ্ছে। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে এসে আমরা এখন এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি—স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন—নতুন করে পর্যালোচনার দাবি রাখে। তাই ২০২৬ সালের নির্বাচন কেমন হবে, তা শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্যই এক গভীর ভাবনার বিষয়। আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই, যেখানে জনগণ তাদের ভোটাধিকার অবাধে প্রয়োগ করতে পারে, ভয় বা প্রভাবমুক্ত থেকে নিজেদের পছন্দের নেতৃত্ব নির্বাচন করতে পারে।


একটি দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া গণতন্ত্রের আয়না। এই আয়না যদি স্বচ্ছ থাকে, তবে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা ও ন্যায়বোধ টিকে থাকে। কিন্তু যদি এই আয়না ঘোলা হয়ে যায়, তবে রাষ্ট্রের কাঠামোতে অস্বচ্ছতা, দুর্নীতি ও অনাস্থা ঘনীভূত হতে থাকে। বাংলাদেশের মানুষ বারবারই প্রত্যাশা করেছে এমন একটি নির্বাচন, যেখানে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলো সমান দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করবে। আমরা চাই ২০২৬ সালের নির্বাচন হোক সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন—একটি সত্যিকার অর্থে প্রতিযোগিতামূলক, অংশগ্রহণমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন।


এই নির্বাচনে সবচেয়ে প্রয়োজন হবে আস্থার পরিবেশ। মানুষ যখন ভোটকেন্দ্রে যাবে, তখন যেন তাদের মনে প্রশ্ন না জাগে—"আমার ভোটটা আদৌ গণনা হবে তো?" এই প্রশ্নই যদি নাগরিকের মনে জায়গা করে নেয়, তবে গণতন্ত্রের মূল শিকড় দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হবে এমন এক পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে ভোটার, প্রার্থী এবং পর্যবেক্ষক—সবাই সমানভাবে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা পায়।


এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচন যেন কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার প্রতিযোগিতা না হয়ে ওঠে, বরং এটি হোক জাতির ভবিষ্যৎ গঠনের এক পবিত্র প্রক্রিয়া। দলগুলোকে সহনশীল হতে হবে, প্রতিপক্ষের মতামতকে শ্রদ্ধা করতে হবে, এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়েও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে হবে। সহিংসতা, অপপ্রচার, ভুয়া তথ্য কিংবা প্রশাসনিক প্রভাবের মতো কৌশল দিয়ে কেউই দীর্ঘমেয়াদে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে না।


আমরা এমন নির্বাচন চাই, যেখানে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ বাড়বে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যারা গড়ে তুলবে, তাদের কণ্ঠস্বর এই নির্বাচনে শোনা জরুরি। একইসঙ্গে নারী ভোটারদের নিরাপত্তা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, কারণ তাদের সিদ্ধান্তই সমাজের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বকে পরিপূর্ণ করে।


২০২৬ সালের নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক ইভেন্ট নয়, এটি হবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারার পরীক্ষা। এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা বিশ্বকে দেখাতে পারব, আমাদের দেশ পরিণত হয়েছে একটি সচেতন, সভ্য ও দায়িত্বশীল জাতিতে। তাই আমরা চাই এমন একটি নির্বাচন, যেখানে কোনো সন্দেহ থাকবে না, থাকবে না কারচুপির অভিযোগ, থাকবে কেবল জনগণের স্পষ্ট রায়।


গণতন্ত্রের প্রাণ হলো বিশ্বাস। আর সেই বিশ্বাসের ভিত্তি তৈরি হয় একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে। তাই ২০২৬ সালে আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই, যা হবে স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও বিশ্বাসযোগ্য—যেখানে বিজয়ী হোক গণতন্ত্র, আর বিজিত হোক অবিশ্বাস, সহিংসতা ও বিভাজনের রাজনীতি। কারণ সৎ নির্বাচনই পারে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি স্বপ্নময় ও ন্যায়ের বাংলাদেশ উপহার দিতে।


লেখক  : নবাব শাহজাদা 

শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ 

আরও খবর