ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় মাত্র তেরো দিন আগে ইউরোপের দেশ সাইপ্রাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন যশোরের বেনাপোল সীমান্তের পুটখালী গ্রামের হাফিজুর রহমান (৪৫)। কিন্তু তাঁর সেই স্বপ্ন এক নিমেষেই ভেঙে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। নির্মাণ কাজ করার সময় সাত তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার ছয় দিন পর মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই প্রবাসী শ্রমিক।তিনি পুটখালী গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে। মাত্র তেরো দিন আগে, গত ৯ সেপ্টেম্বর ইউরোপে পাড়ি জমানোর পর ১৭ সেপ্টেম্বর একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজে যোগ দেন তিনি। কিন্তু জীবনের কী নির্মম পরিহাস, কাজের প্রথম দিনেই অসাবধানতাবশত ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান তিনি। সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করলেও টানা ৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে তিনি হার মানেন।পরিবার সূত্রে জানা যায়, উন্নত জীবনের আশায় ১২ লাখ টাকা খরচ করে এক বন্ধুর মাধ্যমে সাইপ্রাসে গিয়েছিলেন হাফিজুর। এর মধ্যে ৭ লাখ টাকাই ছিল মানুষের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ। তাঁর অকাল মৃত্যুতে একদিকে যেমন স্বজন হারানোর বেদনা, তেমনি অন্যদিকে রেখে যাওয়া বিশাল ঋণের বোঝা পরিবারটিকে অসহায় করে তুলেছে।
দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় গরুর ব্যবসা বন্ধ থাকায় বহু মানুষই এখন জীবিকার সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। হাফিজুরও ছিলেন তাঁদেরই একজন। তাঁর মৃত্যুতে পুরো পুটখালী গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।পুটখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তানজিলা খাতুন এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, "সংসারের অভাব ঘোচাতে বিদেশে গিয়েছিল হাফিজুর। তাকে হারিয়ে পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে গেল। দ্রুত যেন তাঁর মরদেহ দেশে ফেরত আসে, সে বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা চাই।"শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাজিব হাসান জানিয়েছেন, নিহত হাফিজুরের পরিবারকে সরকারি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত মরদেহ দেশে ফেরাতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে।বিদেশে গিয়ে প্রবাসী হওয়া হাফিজুরের স্বপ্ন এখন নিথর মরদেহ হয়ে ফিরে আসছে। পেছনে পড়ে রইল শোকে পাথর হয়ে যাওয়া পরিবার, অনিশ্চয়তার বোঝা এবং পুটখালী গ্রামের ভারি আকাশ।
১ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে
১৩ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
১৫ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
১৫ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে