রংপুরের পীরগাছায় দলবদ্ধ হয়ে বসত ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঘরে থাকা আসবাবপত্র ভাঙচুর ও মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি গত বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পীরগাছা ইউনিয়নের তালুক ইসাদ গ্রামের আনছার আলীর ছেলে নুরনবী মিয়ার বাড়ীতে ঘটে। এঘটনায় নুরনবী মিয়া বাদী হয়ে ওই গ্রামের আনছার আলীর ছেলে নুর ইসলাম (২৯), জহুরুল ইসলামের ছেলে আতোয়ার রহমান (৪২), আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রাজু মিয়া (৫০), রাজু মিয়ার ছেলে আশিকুর রহমান (২২), আতোয়ার রহমানের স্ত্রী মোর্শেদা বেগম (৩৮) ও রাজু মিয়ার স্ত্রী রাশিদা বেগমের (৪২) নামে পীরগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তালুক ইসাদ গ্রামের আনছার আলীর ছেলে নুরনবী ও নুর ইসলাম। তারা আপন দুই ভাই। পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মাঝে দ্ব›ন্দ্ব চলে আসছিল। ঘটনার দিন নুর ইসলামের সাথে তার বাবা আনছার আলীর কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে নুর ইসলাম তার বাবাকে মারার জন্য তেড়ে আসেন। নুরনবী তার বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে নুর ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে যায়।
এর ফলে একই তারিখে বিকেলে নুরনবী বাড়ীতে অবস্থান করাকালীন নুর ইসলাম বর্ণিত অভিযুক্তদের ডেকে নিয়ে আসেন। তাদের দলবদ্ধভাবে বাড়ীতে প্রবেশ করা দেখে নুরনবী আতঙ্কে ঘরের দরজা বন্ধ করে ঘরে আশ্রয় নেন। পরে বর্ণিত অভিযুক্তরা ঘরের দরজা ভেঙ্গে নুরনবীকে মারধর করে ঘরে থাকা আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা ক্ষতিসাধন করে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা জমি বিক্রয়ের এক লক্ষ আশি হাজার টাকা, এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন বের করে নিয়ে যান।
আনছার আলী ও নুরনবী সাংবাদিকদের বলেন, তারা দলবদ্ধভাবে বাড়ীতে প্রবেশ করে ঘরের দরজা ভেঙ্গে সবকিছু ভাঙচুর করে। এসময় নুরনবীর স্ত্রীকে কয়েক দফা মারধরে করে নুর ইসলাম। নুরনবী নিরাপত্তাহীনতায় আছেন বলে জানান তিনি।
অভিযুক্ত নুর ইসলাম তার ভাইয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের অভিযোগ মিথ্যা বরং ওরাই আমাকে মারধর ও আমার ঘরের জিনিসপত্র চুরি করেছে। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পীরগাছা থানা এসআই নুর আলম জানান, আমি অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। নুরনবী যদি মামলা করে মামলা নেওয়া হবে।