ধানিবুনিয়ার গ্রামের রাস্তার বিষাক্ত জল উদগীরনকারী এসএস ইন্টারন্যাশনাল এগ্রো ফার্মের বিপরীত পাশের বাড়ির মালিকের নাম কৃষ্ণ। ফার্মের দূষিত জল রাস্তা মাড়িয়ে কৃষ্ণদের বাড়িতেও সব সময় প্লাবিত থাকে। কৃষ্ণের স্ত্রীর গত কয়েক মাস হল ক্যান্সার ধরা পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিমত ফার্মের নির্গত ক্ষতিকারক বর্জ্যের কারণেই কৃষ্ণের স্ত্রী আজ ক্যান্সারে ভুগছে। এই ফার্মে প্রায় ১৮ হাজার মুরগি ও ৭০ টির মত গরু রয়েছে। রোগ ব্যাধিতে পশু পাখি গুলি যাতে আক্রান্ত হতে না পারে, তার জন্য সবসময় হাই এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। যেমন সালফার ডাই অক্সাইড, নাইট্রিক অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, নেফ্রোটক্সিড ইত্যাদি। ফার্মের গরু মুরগির নির্গত পয়: বর্জ্যের ভেতরেও এই সমস্ত হাই অ্যান্টিবায়োটিক থেকে যায়।ফার্মের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা যখন চেনা ও বিষ্ঠা ধুয়ে পরিষ্কার করে তখন এই সমস্ত ক্ষতিকারক এন্টিবায়োটিক মিশ্রিত বর্জ্য জলের সাথে মিশে এসিড হয়ে যায়।তারপর এই বিষাক্ত এসিড মিশ্রিত জল গড়িয়ে রাস্তা ও আশেপাশের বাড়ি প্লাবিত করে।দিনের পর দিন এই এসিড মিস্ত্রিত জলে গাছ-পালা মরে, বাচ্চা-মহিলা- বুড়োদের হাত-পায়ে চুলকানি,ঘা হয়।এমনকি হার্ট ও কিডনিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটির ধারাবাহিক প্রভাবে ক্যান্সার ও লিভার সিরোসিস এর মত কঠিন রোগ হতে পারে। এই বাড়িতে থাকলে কৃষ্ণর স্ত্রীর রোগের মাত্রা দ্রুতই প্রসারিত হবে, সে কারণে সে এখন ঘর-সংসার পেলে তার বাপের বাড়িতে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। কৃষ্ণর বাড়ি আগে ধানিবুনিয়া লাগোয়া কানাইডাঙ্গা গ্রামে ছিল। ধানিবুনিয়ার গর্ব কৃষক নেতা হীরালাল বাইনের ছেলে রাধাকান্ত বাইনের বাড়ি ছিল এটি। পারিবারিক প্রয়োজনে এ সম্পত্তিটি কৃষ্ণর কাছে বিক্রি করে উনার সন্তান স্বপন বাইন এখন প্রাইমারি স্কুলের পাশে পুরনো বাড়িতে চলে যায়। গত ১৫ বছর কৃষ্ণর পরিবার এই বাড়িতেই বসবাস করছে। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলন, প্যারি কমিউন গঠন করে ৭২ দিন পাকিস্তান থেকে ধানিবুনিয়াকে স্বাধীন রাখা, পুলিশের গুলিতে ভাই রমাকান্ত নিহত হলেও রাধাকান্ত বাইন সহযোদ্ধাদের নিয়ে পুলিশ তাড়িয়ে থানায় উঠিয়ে দেয়ার মত গৌরবময় ইতিহাসের সাথে জড়িত এই বাড়ির মাটি। সেই মাটির সন্তানদের রোগ ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার কারণ সৃষ্টিকারী একজন উড়ে আসা জুড়ে বসা বহিরাগত শফিকুলের সাহস কীভাবে হয়, তা এলাকাবাসী বুঝতে পারে না।
এছাড়া গত ১৭ জুলাই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নারী-পুরুষরা প্রতিবাদে ফার্মের সামনে রাস্তার জলে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছিল। গত ২৪ জুলাই ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মুহাম্মদ আল আমিন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ও ফার্মটি পরিদর্শন করেন। এরপর ৭ দিনের মধ্যে ফার্ম মালিককে নির্গত পয়: বর্জ্যের বিষাক্ত জল অপসারণের নির্দেশ প্রদান করেন। সহৃদয় ইউএনও মহোদয়ের জনস্বার্থ বিবেচনায় এ তড়িৎ পদক্ষেপের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্যালুট ও অভিনন্দন জানানো হয়। তবে,এলাকার পরিবেশ নষ্টকারী, গাছ-পালা ধ্বংসকারী, জান-মাল, রোগ-ব্যাধির যোগানদার এই ফার্মটি কি তার স্বীয় দায় দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারে না কখনো এমন টাই আপামোর জন সাধারণের প্রশ্ন ??
৪ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ৮ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৮ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৫০ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে