গ্রামের ছেলে বাধন এখন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার। কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার নুতন অনন্ত পুর আদর্শ গ্রামে তার বেড়ে ওঠা। বাবা মোঃ রফিকুল ইসলাম ও মাতা মোছাঃ লিপি বেগমের ২য় সন্তান। নুতন অনন্ত পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার হাতে খড়ি। ২০১৭ সালে নূতন অনন্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ -৫ এবং ২০১৯ সালে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষা জিপিএ -৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পরিসংখ্যান ও ডেটা সায়েন্স বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে সেখান থেকে স্নাতকে সিজিপিএ -৩.৮১ ও স্নাতকোত্তরে ৩.৬৬ ডিগ্রি অর্জন করেন।মহান আল্লাহ তাআলার অশেষ কৃপায় আমি সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। এই অর্জন আমার কাছে শুধু একটি চাকরি পাওয়ার সাফল্য নয় বরং একটি নতুন দায়িত্বের সূচনা। শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ পেয়েছি, এটিই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তবে আমার পথচলা এখানেই শেষ নয়। ৪৭তম বিসিএস ছিল আমার জীবনের প্রথম বিসিএস। সামনে আরও কয়েকটি বিসিএসে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে এবং আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমি চেষ্টা অব্যাহত রাখব।এভাবে অনুভূতি ব্যক্ত করেন , ৪৭তম বিসিএসে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত মোঃ বাধন ইসলাম।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার নুতন অনন্ত পুর আদর্শ গ্রামের গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে উঠা মোঃ বাধন ইসলাম। কথা প্রসঙ্গে তিনি আরো জানান, "বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতে আমার লক্ষ্য ছিল গবেষণা করা এবং উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়া। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবতা বিবেচনা করে স্নাতক সম্পন্ন করার পর বিসিএসের প্রস্তুতি শুরু করি। একই সময়ে স্নাতকোত্তরের পড়াশোনাও চালিয়ে যাই।
আমার কাছে বিসিএস কখনোই শুধু একটি চাকরি ছিল না। আমি এটিকে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখি, যেখানে নিজের জ্ঞান, দক্ষতা, সততা ও দায়িত্ববোধকে কাজে লাগিয়ে দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বিসিএসের প্রতিটি ক্যাডারের নিজস্ব গুরুত্ব ও দায়িত্ব রয়েছে। আমার জন্য সেই সুযোগটি এসেছে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের মাধ্যমে এবং এই দায়িত্ব নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করতে চাই।"
কিভাবে বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন, এ প্রসঙ্গে জানান,"বিসিএসে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হতে প্রিলিমিনারি, লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষা এই তিনটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়।
প্রিলিমিনারি প্রস্তুতির শুরুতে আমি বিসিএসের সিলেবাস ও পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণে গুরুত্ব দিই। একদিকে বিসিএসের প্রস্তুতি, অন্যদিকে স্নাতকোত্তরের পড়াশোনা চললেও পরিকল্পিতভাবে সময় ব্যবস্থাপনা করার চেষ্টা করেছি। গণিত, বিজ্ঞান, বাংলা ব্যাকরণ, ইংরেজি ব্যাকরণ এবং তথ্য ও প্রযুক্তি আমার শক্তির জায়গা ছিল। অন্য বিষয়গুলো বারবার পড়েছি এবং নিয়মিত অনুশীলন করেছি। আল্লাহ তা'আলার রহমতে বিসিএসের ইতিহাসে অন্যতম কঠিন প্রশ্নে অনুষ্ঠিত প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে সক্ষম হই।
লিখিত পরীক্ষার জন্য আমাদের হাতে মাত্র দুই মাস সময় ছিল, যা একজন প্রথমবারের পরীক্ষার্থীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে গণিত ও বিজ্ঞান আমার শক্তির জায়গা ছিল। বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ বিষয়াবলী ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর জন্য আমি নিয়মিত উত্তর লেখার অনুশীলন করেছি, বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকা পড়েছি এবং প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছি। একই সময়ে স্নাতকোত্তরের থিসিসের কাজও চলছিল। এমনকি শেষ লিখিত পরীক্ষার পরদিনই আমার থিসিস ডিফেন্স ছিল। সব ব্যস্ততার মধ্যেও আল্লাহ তাআলার রহমতে লিখিত পরীক্ষায় সফল হই।
আমার মতে, মৌখিক পরীক্ষার সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি হলো প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি। পাশাপাশি নিজের একাডেমিক বিষয়, প্রথম পছন্দের ক্যাডার এবং সমসাময়িক বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন।"
তিনি আরো জানান, বর্তমানে আমি সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। এই দায়িত্ব নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
তিনি বর্তমান প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলেন, আজকের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা অন্য কারও সঙ্গে নয়, নিজের সঙ্গে। প্রতিদিন নিজেকে গতকালের চেয়ে একটু উন্নত করার চেষ্টা করতে হবে। সফলতার দৃশ্যমান অংশ সবাই দেখে, কিন্তু তার পেছনের দীর্ঘ প্রস্তুতি, ব্যর্থতা এবং আত্মত্যাগের গল্প খুব কম মানুষই জানে।
নিয়মিত পড়াশোনা, পত্রিকা ও বই পড়ার অভ্যাস, বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা এবং বিশ্লেষণধর্মী চিন্তার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। মুখস্থ বিদ্যার পরিবর্তে বিষয় বুঝে শেখার চেষ্টা করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, নিজের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে এবং মহান আল্লাহ তাআলার ওপর ভরসা রাখতে হবে।
এই অর্জনের জন্য সর্বপ্রথম মহান আল্লাহ তা'আলার প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করে বলেন, আমার বাবা-মা, পরিবারের সদস্য, শিক্ষকবৃন্দ, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং বন্ধুদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞ। তাঁদের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতাই আমার এই পথচলার সবচেয়ে বড় শক্তি।
সততা, অধ্যবসায় এবং মহান আল্লাহ তা'আলার ওপর অটল বিশ্বাস রেখে চেষ্টা চালিয়ে গেলে সো সাফল্য পাবে। তাই ফলাফলের চেয়ে প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে, হাল ছাড়া যাবে না এবং নিজের লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তিনি সবার দোয়া কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, নুতন অনন্ত পুর আদর্শ গ্রামে পাশাপাশি একজন নারী ও দুইজন পুরুষ বিভিন্ন ক্যাডারে বিসিএসএ সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন। এ।নিয়ে আনন্দের সীমা নেই। #
১ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ০ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে