ভূল নম্বরে চলে যাওয়া টাকা উদ্ধার করে মালিককে দিল শ্যামনগর থানা পুলিশ আদমদীঘি রহিম উদ্দীন ডিগ্রী কলেজে একাদশ শ্রেণির ক্লাস উদ্বোধন চৌদ্দগ্রামে জমি বিরোধের জেরে স্কুলছাত্রীর ওপর হামলা, গুরুতর আহত স্বাভাবিক হচ্ছে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি: পেট্রোবাংলা ‘জাতিসংঘকে সমঝোতামূলক বিশ্বের কেন্দ্রে দেখতে চায় বাংলাদেশ’ জুমার দিন যে আমলগুলো ভুলবেন না “সেনবাগে নাড়ী, চট্টগ্রামে বাড়ী” শাহজাহান খোকনের পারিবারিক পরিচয় সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী মিরসরাইয়ে মুক্তিযোদ্ধা মেজর মোস্তফা কলেজে নবীন বরণ সৈয়দ ফজলুল হক কলেজে নবীনদের বরণ, শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণের প্রত্যয়। উলিপুর সরকারি কলেজের শিক্ষক অলোকেশ রায়েকে বিদায় সম্বর্ধনা মির্জাসহ স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের পৃথক মামলা কুলিয়ারচরে মাদকাসক্ত ছেলের দেওয়া আগুনে পুড়ল মা-বাবার মাথা গোঁজার ঠাঁই ‎কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে মোংলায় বিক্ষোভ মিছিল যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচ দিনের আলটিমেটাম ইরানের সাইফউদ্দিনের ইনজুরি, এশিয়ান গেমসে কপাল খুলল আলিসের সাগর উত্তাল, কমেছে গ্যাস সরবরাহ শ্মশান এলাকার ঘের ঘিরে মাদক বেচাকেনার অভিযোগ কুতু্বদিয়ায় ১টি গাছ থেকে ৬০হাজার টাকার ডাব বিক্রি শেরপুরে ইংলিশ স্পেলিং স্টার প্রতিযোগিতার কেন্দ্রভিত্তিক পুরস্কার বিতরণ জাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত

১৯৭১ সালের ( ৩ই ডিসেম্বর ) পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত হয়েছিল দেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা ঠাকুরগাঁও


স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মরণপণ লড়াই আর মুক্তিকামী জনগণের দুর্বার  প্রতিরোধে  ১৯৭১ সালের নভেম্বরের শেষ থেকেই পিছু হটতে শুরু করে পাকিস্তানি সৈন্যরা।  তুমুল লড়াই ও তীব্র প্রতিরোধের ফলে পাকিস্তানি বাহিনী  টিকে থাকতে পারেনি  দেশের উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁয়ে। 

অবশেষে  এ অঞ্চলের স্বাধীনকামী মানুষেরা নিজ মাতৃভূমির অঞ্চল  ঠাকুরগাঁওকে ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর  পাকিস্তানি বাহিনী থেকে মুক্ত করতে  সক্ষম হয় । এ কারণেই আজকের দিনটিকে পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

প্রতিবারের মতো এবারো নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতের পর সারা দেশের মতো ঠাকুরগাঁয়েও পাকিস্তানি সৈন্যরা আক্রমণ করে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর। গ্রামে গ্রামে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠনে মেতে ওঠে তারা। 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জাটিভাঙ্গা ও রাণীশংকৈলে খুনিয়া দীঘির পাড়ে মুক্তিকামীদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়। ১৭ এপ্রিল জগন্নাথপুর, গড়েয়া শুখাপনপুকুরী এলাকার মুক্তিকামী মানুষ ভারত অভিমুখে যাত্রাকালে স্থানীয় রাজাকাররা তাদের আটক করে। পরে তাদের পাথরাজ নদীর তীরে গুলি করে হত্যা করা হয়।

একইভাবে রাণীশংকৈল উপজেলার খুনিয়া দীঘির পাড়ে গণহত্যা চালানো হয়। পাকিস্তানি বাহিনী ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী  , হরিপুর,  

পীরগঞ্চ  ও রাণীশংকৈল উপজেলার স্বাধীনকামী ও নিরীহ সাধারণ মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে। নির্বিচারে হত্যার কারণে পরবর্তীকালে এটি খুনিয়া দীঘি নামে পরিচিতি লাভ করে।

১৯৭১ সালের ১৫ এপ্রিলের মধ্যেই আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনীর দখলে চলে যায় ঠাকুরগাঁও। কিন্তু পাকিস্তানি বাহিনীকে প্রতিরোধে সংগঠিত হতে থাকে ঠাকুরগাঁওয়ের মুক্তিকামী মানুষরাও।  

স্কোয়াড্রন লিডার এম খাদেমুল বাশারের নেতৃত্বে ৬ নম্বর সেক্টরের অধীন তৎকালীন ঠাকুরগাঁও মহকুমার মুক্তিকামী মানুষেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে  নিজ মা মাতৃকার মাটিকে হানাদারমুক্ত করতে।  

২৯ নভেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের তৎকালীন পঞ্চগড় থানা প্রথম শত্রুমুক্ত হয়। পঞ্চগড় হাতছাড়া হওয়ার পর মনোবল ভেঙে পড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর।

২ ডিসেম্বর রাতে ঠাকুরগাঁয়ে প্রচন্ড গোলাগুলি শুরু হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণ -পণ লড়াইয়ে সে রাতেই শত্রুবাহিনী ঠাকুরগাঁও থেকে পিছু হটতে শুরু করে। অবস্থান নেয় ২৫ মাইল নামক স্থানে।  

৩ ডিসেম্বর ভোররাতে শত্রুমুক্ত হয় ঠাকুরগাঁও শহর। সকাল থেকেই ঠাকুরগাঁও শহরে মানুষ জড়ো হতে থাকে। শহরের বিভিন্ন স্থানে বের হয় আনন্দ মিছিল। হাজার মানুষের কণ্ঠে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত হয় ঠাকুরগাঁওয়ের পথঘাট।

Tag
আরও খবর