নাগেশ্বরীতে বিএনপির ৭ দিনের কর্মসূচি শুরু: প্রথম দিনে বিশাল বিক্ষোভ ও সমাবেশ কুলিয়ারচরের ইউএনও ইয়াসিন খন্দকারের সাংবাদিকদের সাথে বিদায়ী চা-চক্র অনুষ্ঠিত শ্রীমঙ্গলে সনাক-ইয়েস-এসিজি’র অভিজ্ঞতা বিনিময়: দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান কারিতাস সীডস কর্মসূচির এমএলই শিক্ষকদের শিখন সহভাগিতা পরিদর্শন আশাশুনি প্রেসক্লাবের ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে ---রবিউল বাশার এমপি রংপুর কারমাইকেল কলেজে নজরুল বর্ষ উদযাপন জয়পুরহাটের রায়কালীতে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন কাজী নাজমুছ সাদাত এডাব-নোয়াখালীতে ৩ দিনব্যাপী আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণের উদ্বোধন শ্রীমঙ্গলে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস উপলক্ষে র‍্যালি-মানববন্ধন বালিয়াডাঙ্গীতে মিড ডে মিলের দুধ পানে ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি সাতক্ষীরায় শ্যামনগরে এমপি গাজী নজরুলের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত ঈশ্বরগঞ্জে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস পালিত ‎রামপালে ২০ কেজি গাঁজাসহ প্রাইভেটকার জব্দ, দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার হাফিজার সভাপতি, হাসান সম্পাদক ও মতি সাংগঠনিক সম্পাদক, আদমদীঘি প্রেসক্লাবের নয়া কমিটি গঠন গৃহবধু হত্যা মামলায় জয়পুরহাটে দু'জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড যশোরে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি ও কৃষিতে অনিয়মের প্রতিবাদে স্মারকলিপি পেশ মিরসরাইয়ে মাদকবিরোধী গণমিছিল ও সমাবেশ জোরারগঞ্জে অপূর্ব জুয়েলার্সের উদ্বোধন কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করতে এনবিআরের নতুন পরিকল্পনা দৈনিক খবর পত্রের বড়লেখা প্রতিনিধি খলিলুর রহমান এর পিতার ২২ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

মহাসাগরের বিষধর ‘রঙিলা’ সাপ কক্সবাজার সৈকতে

মাথা লম্বা– আকৃতিতে দেহ থেকে ভিন্ন। শরীরের উপরিভাগের অর্ধেক কালো, গাঢ় নীলাভ ও বাদামি রঙের। নিম্নাংশ হলুদাভ তীব্র চিত্রিত। পুরোটা দেখে মনে হতেই পারে রঙিলা কোনো বিশেষ বস্তু। আদতে এটি বিষাক্ত ‘ইয়েলো বেলিড’ সাপ। যাদের বাস প্রশান্ত মহাসগরের পানির ওপরের স্তরে। সচারচর উপকূলে দেখা মেলে না। সম্প্রতি সেই বিরল দৃশ্য দেখা গেছে কক্সবাজার। এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত তিনটি ইয়েলো বেলিড সাপ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ভেসে এসেছে। এর মধ্যে সবশেষ বুধবার (৫ জুন) বিকালে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে দেখা যায় একটি।


মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব সমুদ্রবিজ্ঞানী সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, হলুদ-পেটযুক্ত বা ইয়েলো বেলিড সাপ প্রশান্ত মহাসাগরীয় এবং ভারত মহাসাগরের গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে ১৮-২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বসবাস করে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বিস্তৃত সাপ। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের সাগরেও এটির বিস্তৃতি রয়েছে। এই সাপটি সাধারনত সৈকত থেকে দূরে সাগরের মুক্ত জলে সাঁতার কাটে। এরা সাগরের উপরের স্তরে অর্থাৎ পেলাজিক স্তরে বসবাস করে। সাগর তলে এদের দেখা পাওয়া যায় না। অসুস্থ বা আহত হয়ে উপকূলে ভেসে এলে এই সাপের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তখন সতর্কতার সঙ্গে নাড়াচাড়া না করলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি এবং ছোবলের শঙ্কা থাকে।

কক্সবার সৈকতের লাইফগার্ড জয়নাল আবেদীন বলেন, গত এক সপ্তাহে সৈকতে ভেসে আসে তিনটি অসুস্থ সামুদ্রিক সাপ। প্রত্যেকটা ইয়েলো বেলিড। বুধবার লাবনী পয়েন্টে ভেসে আসা সাপটি সাগরে অবমুক্ত করা হয়েছে। এর আগে সোমবার একটি সাপ পর্যটকরা পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে এই সাপের দেখা মেলে। সাপটি বিষাক্ত হওয়ায় এ ব্যাপারে পর্যটকদের সতর্ক করা হয়েছে।


কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো. ইয়ামিন হোসেন বলেন, পর্যটকদের বিভিন্ন সতর্কতা দেওয়া হয়। বিচ কর্মীরা মাইকিং করে, হোটেল ও সৈকতের প্রবেশদ্বারে ডিজিটাল ডিসপ্লেতে নানা নির্দেশনা দেওয়া হয়। যেহেতু সৈকতে বর্ষা মৌসুমে সামুদ্রিক সাপের দেখা মিলছে তাই এ ব্যাপারে নির্দেশনার পাশাপাশি মাইকিং করা হবে। পর্যটকদের আরও সতর্ক করা হবে।


ছোবলের প্রভাব


সমুদ্রবিজ্ঞানী সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর বলেন, ইয়েলো বেলিড সাপের বিষদাঁত বা ফ্যাংগুলি বেশ ছোট– ১ দশমিক ৫ মিলিমিটার। খুব সামান্য পরিমাণে বিষ ঢালতে পারে। তবে সামুদ্রিক সাপের এরাই বেশি ভয়ঙ্কর। এদের শক্তিশালী নিউরোটক্সিন এবং মায়োটক্সিন রয়েছে। এনভেনোমেশন বা বিষক্রিয়ার লক্ষণে রয়েছে পেশিব্যথা এবং শক্ত হয়ে যাওয়া, চোখের পাতা ঝুলে যাওয়া, তন্দ্রা এবং বমি হওয়া ইত্যাদি। গুরুতর কামড়ে সম্পূর্ণ পক্ষাঘাত এবং মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তবে এই সাপটির কামড়ে প্রাণহানির ঘটনা বিশ্বব্যপী খুবই বিরল।


তিনি জানান, ইয়েলো বেলিড মূলত হাইড্রোফিনি সাবফ্যামিলির একটি বিষধর সাপ। দেহের উপরিভাগ কালো থেকে গাঢ় নীলাভ-বাদামি রঙের। নিম্নাংশ হলুদাভ থেকে তীব্রভাবে চিত্রিত। লেজ প্যাডেল আকৃতির এবং গাঢ় দাগ বা হলুদ। দেহের হলুদ রংয়ের জন্যই একে ইয়েলো বেলিড নামে ডাকা হয়। দৈহিক আঁশ ছোট, মসৃণ এবং ষড়ভুজ আকারের; মাথার আঁশ বড় এবং নিয়মিত। বড় চোখের একটি নীলচে-কালো আইরিস আছে। উপকূল এবং প্রবাল প্রাচীর থেকে দূরে খোলা সমুদ্র এদের আবাসস্থল, ফলে উপকূলের লোকজন সচারাচর এদের দেখতে পান না বলে অনেকেই সাপটিকে বিরল প্রজাতির মনে করেন।


জন্মদিন থেকে শিকারি


সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর বলেন, সাগরের প্রাকৃতিক পরিবেশে ইয়েলো বেলিডের প্রধান খাদ্য মাছ। সাগরের উপরের স্তরে চুপচাপ শিকারের অপেক্ষা থাকে। নিচ থেকে কোনো মাছ কাছাকাছি এলেই এরা আক্রমণ করে। সাঁতার কাটে দেহের পার্শ্বীয় ভারসাম্য দিয়ে। সামনে ও পেছনে– উভয় দিকে যেতে পারে। ডাইভিং, পালানো এবং খাওয়ানোর সময় প্রতি সেকেন্ডে এক মিটার পর্যন্ত গতিতে ছুটতে পারে। দ্রুত সাঁতার কাটার সময় তারা কখনও কখনও মাথা পানি থেকে বের করে দেয়। স্থলভাগে সোজা থাকতে পারে না। কার্যকরভাবে চলতে পারে না। সারা বছরই প্রজনন করতে পারে। স্ত্রী ইয়েলো বেলিড একসঙ্গে দুই থেকে ছয়টি বাচ্চার জন্ম দেয়; যার দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫০ মিলিমিটার। এরা যথেষ্ট চর্বিযুক্ত দেহ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। জন্মের প্রথম দিন থেকেই শিকার করতে পারে।

Tag
আরও খবর