লোহাগাড়ায় স্কুলশিক্ষক অপহরণ, দুই ঘন্টার মধ্যে উদ্ধার, আটক ২ লোহাগাড়ায় স্কুলশিক্ষক অপহরণ, ৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার; গ্রেপ্তার ২ পবিপ্রবিতে বৃহত্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় ছাত্র ফোরামের নতুন কমিটি ঘোষণা শ্রীমঙ্গলে দুই দফা অভিযান: ২৬ হাজার ঘনফুট অবৈধ বালু জব্দ দিনাজপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থীতা‌‌ নির্ধারণে ফাজিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন তরুণদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়ার আদমদীঘিতে মাদক কারবারি গ্রেফতার ২২৩ টাকা বেড়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম ২০৬০ কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যাওয়া তাড়াইলের গ্ৰামীণ সংস্কৃতি ডোমারে আনসার-ভিডিপির সঞ্জীবন প্রকল্পে সঠিক নির্বাচন ও বাস্তবায়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভা জাবিপ্রবিতে শিক্ষকদের জন্য টার্নিটিন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত লালপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দুই বোনের পাটকেলঘাটা থানার নতুন ভবনের নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ এমপি আশাশুনিতে সার ডিলার নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ, তদন্তের আবেদন লাখাইয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিক্রি হচ্ছে মোরগের কলিজা, পা ও মাথা,রয়েছে স্বাস্থ্যঝুকি। সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিক এহসানের বিরুদ্ধে সাইবার মামলা, প্রত্যাহারের দাবি সাংবাদিক মহলের চিয়ড়া স্পোর্টস ফেডারেশনের মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন, টাইব্রেকারে বদরপুরের জয় জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

মুজিবনগর দিবস’ বাঙালির জাতির একটি অবিস্মরণীয় দিন

দেশচিত্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশের সময়: 17-04-2024 02:43:28 am

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঐতিহাসিক ‘মুজিবনগর দিবস’, বাঙালি জাতির পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক ‘মুজিবনগর দিবস’, বাঙালি জাতির পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে।


বুধবার ঐতিহাসিক ‘মুজিবনগর দিবস’ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করছি জাতীয় চার নেতা-শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম, শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ, শহীদ মোহাম্মদ মনসুর আলী এবং শহীদ আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকে। শ্রদ্ধা জানাই মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ অকুতোভয় বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি এবং ২ লাখ সম্ভ্রমহারা নির্যাতিত মা-বোনদের প্রতি।’


তিনি আরো বলেন, ‘‘১৯৭০ সালের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে আওয়ামী লীগ জাতীয় এবং প্রাদেশিক পরিষদে সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ যথাক্রমে ১৬৭টি এবং ২৯৮টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।


আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সকল সংসদ সদস্য রেসকোর্স ময়দানে ৬-দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র প্রণয়নের শপথ গ্রহণ করেন। ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’-সংগীত দিয়ে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এসময় আমার দেশ তোমার দেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ স্লোগান দেন। তিনি ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে দীর্ঘ ২৩ বছরের শাসন-শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রদান করেন।


তাঁর নির্দেশনাবলী সারা পূর্ব বাংলায় অক্ষরে অক্ষরে পালিত হয়। তখন থেকেই সকল প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম তাঁর নির্দেশিত পথেই পরিচালিত হতে থাকে।’’


তিনি বলেন, ‘১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে শতাধিক দেশি-বিদেশি সাংবাদিকের উপস্থিতিতে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে। পাশাপাশি এদিন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুমোদিত হয়। মেহেরপুর হয়ে উঠে অস্থায়ী সরকারের রাজধানী এবং সেদিন থেকে এ স্থানটি ‘মুজিবনগর’ নামে পরিচিতি লাভ করে। মুজিবনগর সরকারের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান বিমান বাহিনী বোমাবর্ষণ ও আক্রমণ চালিয়ে মেহেরপুর দখল করে। ফলে, বাংলাদেশের সরকার ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় এবং সেখান থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালাতে থাকে।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘পাকিস্তানি জান্তা সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নারকীয় তান্ডবলীলা ও হত্যাযজ্ঞ চালায়। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। স্বাধীনতার সাড়ে ৩ বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে। এরপর ৩ নভেম্বর জেলখানায় মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চারনেতাকেও তারা নৃশংসভাবে হত্যা করে। সেই থেকে দীর্ঘ ২১ বছর বাংলাদেশে গণতন্ত্র ছিল না। 


১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর আমরা জাতির পিতাসহ জাতীয় চারনেতা হত্যার বিচার করেছি। পরবর্তিতে ২০০৯ সালে পুনরায় সরকার গঠনের পর ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবতা বিরোধী অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি। সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পথ বন্ধ করেছি।’’


গত সাড়ে পনের বছরে সরকার উন্নয়নের সকল সূচকে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘আমরা দারিদ্র্যের হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশের নীচে নামিয়ে এনেছি। আমরা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করেছি। এবারে আমাদের লক্ষ্য ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা করা। 


২০৩০ সালের মধ্যে ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট’ অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। আমরা বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ প্রণয়ন করেছি এবং এর বাস্তবায়ন করছি।’’



আরও খবর