চট্টগ্রাম বাগানবাজারে বড় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ছোট ভাই খুন। বন্ধুদের সঙ্গে সাঁতার কাটতে গিয়ে কলেজ ছাত্র নিখোঁজ নোয়াখালীতে ঈদ আনন্দ মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন শ্যামনগর গাবুরায় ৯০০ দরিদ্র প‌রিবা‌রে ব্রতীর কুরবানীর মাংস বিতরণ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নাগেশ্বরী উপজেলা শাখার উদ্যোগে ঈদ পূর্ণমিলন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ন্ত্রণে শেরপুরে মোবাইল কোর্ট অভিযান কচুয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ কামাল হোসেন বাবুলের ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় ও মোটরসাইকেল শোডাউন কালবৈশাখীর তাণ্ডবে নিভল শিশুর প্রাণ ছাত্র জীবনে আড্ডা নয়, পড়াশোনায় মন দেওয়ার সুযোগ ও সময় ‎মোংলায় প্রতিমন্ত্রীর দেয়া ঘর পেলো গৃহহীন পরিবার মধুপুরে সুজন হত্যার প্রতিবাদে গোপদ গ্রামবাসীর গণমিছিল ও মানববন্ধন শান্তিগঞ্জে হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে জামায়াতের কুরবানির গোসত বিতরণ শ্যামনগরে চামড়ার ক্রেতা সংকট, দুর্গন্ধ এড়াতে মাটিতে পুঁতে ফেলা হচ্ছে চামড়া পাঁচবিবিতে ২৭টি গরু জবাই করে সসহায়-দুস্থ মানুষের মাঝে মেয়র প্রার্থীর কোরবানীর গোশত বিতরণ ঈদুল আযহা উপলক্ষে জয়পুরহাট চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৬ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে মধুপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত বগুড়ার শেরপুরে শেরপুর ধনুট আঞ্চলিক সড়ককে ত্রিমুখী মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪ বাঘারপাড়ায় দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে প্রকৃতির এক অপূর্ব বিস্ময় শ্রীমঙ্গলে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকি করছেন পৌর প্রশাসক জিয়াউর রহমান দিনাজপুরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসব মুখর পরিবেশে ঈদুল আযহার প্রধান জামাত সম্পন্ন

সময়ের ট্রেন

ইসলামিক সংগীত শিল্পী ও তরুণ লেখক আহমদ উসমান।


আহমদ উসমান

সেই নব্বই দশকের গোড়া থেকে আজ একবিংশ শতাব্দী।

কালস্রোতে অনেকদূর ভেসে এসেছি। বয়স কি কম হলো!মানুষকে বলা হয়

a traveller Between life and death 

মৃত্যু কখন এসে সামনে দাড়ায় সেই ভাবনায় দিন কাটে।

আজ জীবনের পঁচিশ তম বসন্তে দাড়িয়ে দেখি আমার অতীত আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে, সে ডাক উপেক্ষা করা কঠিন।

আমরা বর্তমান নিয়ে বসবাস করছি,ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করি কল্পনা করি। পেছনে যা ফেলে আসি তা অতীত। আর তা নিয়ে আমরা যা কথা বলি তা হয়ে যায় স্মৃতিচারণ। আমরা প্রতিমুহূর্তে মরি প্রতিমুহূর্তে বাঁচি। এই মৃত সময়গুলোকে একত্রে করলে সেটারই নাম হয়ে যায় স্মৃতি। 

আমার গড় আয়ূর তিন ভাগের এক ভাগই শেষ, সেহেতু স্মৃতিচারণের জন্য অনেকটাই অতীত আছে আমার। কোন বৃষ্টি আসি আসি ভোর বেলা ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামলে,হেমন্তের মরে আসা বিকেলে একঝাঁক বক আকাশ কাঁপিয়ে উড়ে গেলে কিংবা গ্রীষ্মের দুপুরে প্রচন্ড রোদে কলাপাতা মড়মড়িয়ে উঠলে আমার বর্তমান যেনো কালবৈশাখী ঝড়ে উড়ে যাওয়া ধূলোর মতো উড়িয়ে নিয়ে যায় আমার ফেলে আসা দিনে।

আমি অতীত মনে করতে চাই না। অনেকেই কষ্ট দিয়েছে দুঃখ দিয়েছে, অপেক্ষায় বসিয়ে রেখেছে দিনমান, আমি এগুলো ভুলে যেতে চেয়ছি বারবার, কিন্তু দুর্ভাগ্য ক্রমে আমি অনেক কিছু ভুলিনা।

তবে স্মৃতি সত্যিই মধুর। স্মৃতির কাছে ফিরলেই পরিস্কার দেখতে পাই আমার ফেলে আসা সরল গ্রাম, নদী প্রান্তর খোলা মাট।মাঝেমাঝে ফেলে আাসা দিন গুলোতে ফিরে যেতে মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। কিন্তু সময় অ্যাবাউট টার্ন করেনা। তাই পেছনের দিন গুলোতে তাকিয়ে স্মৃতির জাবর কেটে পা পা করে সামনে আগাই।

ছোটবেলা কেটেছে গ্রামে। একান্নবর্তী সংসারে নিম্ন মধ্যবিত্ত জীবনযাপন ছিলো আমাদের। তখন আমাদের একটা প্রজন্ম ছিলো সবাই পিটে পিটি। 

উম্মাদের মতো আমরা দিগদিগন্তে ছুটে বেড়িয়েছি।বাড়ির পাশের সুরমা নদী সাঁতরে পার হয়েছি, বিরাট বিরাট মাট ঘুরে বেড়িয়েছি, সদলবলে গুলতি নিয়ে পাখির খুঁজে দিন কাটিয়ে দিয়েছি। বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা আমাদের শৈশবের চমৎকার দিনগুলোর কথা ভাবতেই পারবেনা। অপরুপ ধানে গানে ভরা গ্রাম শৈশব পাওয়া শেষ প্রজন্ম মনে হয় আমরাই ছিলাম।

শৈশবে আমাদের গ্রামের অদূরে একটা বট গাছ ছিলো,তার ছায়ার নিচে মেলা বসতো প্রতি বৈশাখে।লোকেরা বলতো বান্নি। তার পাশে ছিলো একটা ভাঙ্গা মন্দির, সবাই বলতো এখানে ভূত প্রেত আছে, খবরদার কেউ যাবেনা। গা ছমছম করতে করতে তবু্ও গেছি,কিছু নেই।ভীষণ নির্জন। গ্রামের উত্তরে একটা দিঘি ছিলো, প্রচুর লাল পদ্ম ফুটতো। আমরা দঙ্গল ছেলেরা দু'দলে ভাগ হয়ে এপার ওপার থেকে কাঁদা ছুড়াছুঁড়ি খেলতাম। এক সময় চোখ রক্তজবার মতো টকটকে লাল করে ভয়ে ভয়ে ঘরে ফিরতাম। আমাদের তখন একটা থিওরী ছিলো কি নাম একটা পাতার!সে পাতা বগলের নিচে বা পাতা খেলে চোখের লাল আভাটা কমে যেতো,আমরা সে পাতা চিবুতে চিবুতে ঘরে ফিরতাম,তবে কাজ কতটুকু হতো বুঝতে না পারলেও পাতার উপর আমাদের বিশ্বাস ছিলো।

তো আমাদের দস্যিপনায় বিরক্ত হয়ে গ্রামের মানুষ বলতো পদ্ম দিঘিতে বিশাল কুন্ডলী আছে,মানুষ টানে। আমি হাবলা টাইপের ছিলাম তবে সাহসী। একদিন লম্বা শ্বাস নিয়ে ডুব দিলাম। যতই নিচের দিকে এগুতে লাগলাম ততই ঠান্ডা পানি। যত নিচে নামছি তত ঠান্ডা বাড়ছে হিম ঠান্ডা। একেবারে তলায় গিয়ে দেখি কাঁদা। তারপর প্রতিযোগিতা কে কাঁদা তুলতে পারে। 

প্রাইমারীতে যখন পড়তাম তখন স্কুল পালাতাম খুব। 

কখনো বাড়ি থেকে স্কুলের নাম নিয়ে বেড়িয়ে রাখালদের সাথে গরু চড়াতে চলে যেতাম। বই লুকিয়ে রাখতাম খড়ের গাদায়। বর্ষায় জাম পাকতো, তিন চার ঘন্টা গাছেই কাটিয়ে দিতাম। পেট ভরে জাম খেয়ে সুর্য যখন মধ্যাকাশ থেকে হেলে পড়তো তখন গাছ থেকে নেমে বাড়ি ফিরতাম। মা ভাবতেন স্কুল থেকে ফিরছি।

আমাদের শৈশবে সবচেয়ে বেশি মজা হতো ঈদ এলে। রোযা শেষের দিকে চলে এলে ঈদের কাপড় কিনে লুকিয়ে রাখতাম কাউকে দেখাতামনা। ঈদের সকালে সবাই মিলে হৈহল্লা করে পুকুরে। তারপর বের করতাম ঈদের পোশাক। কারটা বেশি সুন্দর এনিয়ে কি যে প্রতিযোগিতা। সালামির রেওয়াজ টা তখন ওঠে যাচ্ছিলো।

ঈদুল আজহার দিন আমরা গরুর হাড্ডি জমিয়ে রাখতাম। বিকালে সেগুলো নিয়ে বাড়ির পেছনের জঙ্গলে নিয়ে যেতাম। হাড্ডি গুলো রশি দিয়ে এমন ভাবে বেঁধে লটকিয়ে রাখতাম যাতে সহজে ছুঁতে না পারা যায়। তারপর আমরা অবস্থান নিতাম খানিক দুরত্বের ঝোপের আড়ালে, খেলা জমতো তখন।মাংশের গন্ধ পেয়ে গর্ত থেকে বেড়িয়ে আসতো শেয়াল। হাড্ডি ছুঁয়ার জন্য কি যে লম্ফঝম্প। একেকটার পাগলের মতো অবস্থা হতো। আমরা ঝোপের আড়ালে বসে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেতাম। এরকম হাজারো স্মৃতি আছে শৈশবের। 

আমরা দুরন্ত ছিলাম।তবে কারো ক্ষতি করিনি কোনদিন ।

হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সবাই ভালোবাসাতো।

তারপর একটু বড়ো হলাম যখন, গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে আসলাম। একা চলতে শিখে গেছি তখন।কেমন শান্ত শিষ্ট হয়ে গিয়েছিলাম। তার মূলে ছিলো পড়াশোনা আর মা বাবার কড়া শাসন। 

তখন আর পড়াশোনায় ফাঁকি দেইনি, প্রতিদিন স্কুলে যেতাম। প্রচুর ছেলেমেয়েদের সাথে বন্ধুত্ব হয়েছে। মনে পড়ে একবার প্রেমে পড়েছিলাম আমাদের ক্লাশের সমবয়সী একটা মেয়ের। গুটাগুটা অক্ষরে একদিন চিঠি লিখে তার বইয়ের ভেতর লুকিয়ে দিয়ে ছিলাম। পরের দিন স্কুলে গেছি উত্তরের আশায়। টিফিনের পরে উত্তর নিয়ে এলেন মজিদ স্যার! স্যারের হাতে একগজ দৈর্ঘ্যের বেত আর অন্য হাতে চিঠি। স্যার সপাৎসপাৎ বেত লাগালেন পশ্চাৎদেশে।ক্লাসের সবাই পিটপিট করে থাকায় আমার দিকে।স্যার চোখ পাকিয়ে বলে গেলেন প্রথম বার বলে ছেড়ে দিলাম... অথচ মজিদ স্যারকেই পুরো স্কুলে আমার কাছে কবি কবি লাগতো,কেমন রোমান্টিক চেহারা। আমার কান্না পেয়েছিলো মার খেয়ে নয়,চিঠি ফাঁস হওয়ায়। কৈশোরের প্রেম বন্ধুত্ব কিছুই ঠেকেনি সময়ের চাকায় সব হারিয়ে গেছে। কেবল ঠিকে আছে আমার সোনালী শৈশব। 

শেষবার যখন গ্রামে যাই তখন অনেক কিছু পাল্টে গেছে।কুপী হারিকেনের বদলে গ্রামে এসেছি ইলেক্ট্রিসিটি, ছনে ছাওয়া ঘরের জায়গায় আধপাকা টিনসেড ঘর।বন কেটে উজাড় সব। শৈশব স্মৃতি হিসেবে কেবল ঠিকে আছে স্কুল ঘরের পাশে বাঁজ পড়া খেজুর গাছটা।ছোটবেলায় চাঁদনী রাতে গাছ দুটুকে মনে হতো বিশাল দৈত্য বুঝি তার দুপা মাটিতে রেখে সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে। 


আজ শৈশব কৈশোর পেরিয়ে তারুণ্যে। 

শহরের ধূলি বালি জমা কংক্রিটের রাস্তা ধরে হাটতে হাটতে চোখে ভেসে ওঠে গ্রামের আঁকাবাকা মেঠোপথ, দিগন্ত ছুঁয়া সবুজ প্রান্তর, পাখির গান,ফুলে ফুলে প্রজাতির নাচ। শহরের ব্যাস্ত জীবনে খানিক অবসর পেলেই মন ছুটে যায় বহুদূরের মায়াবী গ্রামে, হারিকেনের টিম টিম আলোয় পড়তে বসা সন্ধ্যায়। এই দ্রুততর যান্ত্রিক জীবনে খানিক ফুসরত পেলেই চোখে প্রথমে যে ছবিটা ভেসে ওঠে সেটা শৈশব কৈশোরের চিত্র, দুরন্তপনা আর ডানপিটে জীবনযাপনের। 

ফেলে আসা দিনগুলো কি ভুলে যাওয়া সম্ভব!

ফেলে আসা দিনের একেকটা মূহুর্ত যেনো মহামূল্যবান শোপিস,প্রতিটি মুহূর্ত সুন্দরী বালিকার ভুবনে ভুলানো হাসির মতো যা ফুরিয়ে গেলেও হৃদয়ে তার রেশ থেকে যায়। ফেলে আসা দিনগুলোকে আমি ভুলতে চাইলে ও ভুলতে পারিনা, ফেলে আসা দিনগুলো যেনো আমার পেছনে হেঁটে বেড়ায় সর্বক্ষণ।

Tag
আরও খবর