উলিপুরে ট্রেনে কাটা পরে বৃদ্ধার মৃত্যু লোহাগড়ায় গ্রাম পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মাসব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ" কোর্সের উদ্ধোধন ঝিনাইগাতীর নকশী সীমান্ত থেকে ১৪৭ বোতর ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ উদ্ধার নালিতাবাড়ীর সিবিও নেতৃবৃন্দের জামালপুরের উন্নয়ন সংঘের সীডস প্রকল্প পরিদর্শন মাঝ নদীতে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ট্রলারডুবে নিখোঁজ দুই জেলে ইসরায়েলে ভোট আজ, চ্যালেঞ্জের মুখে নেতানিয়াহু জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী কুলিয়ারচরে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মঘণ্টায় তালা: চরম ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার না হলে তারেক রহমানও একই পথে হাঁটবেন: নাহিদ ইসলাম দুধ-কলা একসঙ্গে খেলে শরীরে কী ঘটে? ইয়োহেই সাসাকাওয়ার নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না পুলিশ : আইজিপি চুনতিতে ৪০ বছর পর উদ্ধার বনভূমিতে বৃক্ষরোপণ সিংড়ায় স্বামীর থাপ্পড়ে স্ত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ সিংড়ায় স্বামীর থাপ্পড়ে স্ত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ জয়পুরহাটে হত্যা মামলার ২৩ বছর পর মোজাম নামে একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড শ্যামনগরে দলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে মতবিনিময় সভা মারকাজুত তাহফিজ মাদ্রাসার ১৮ সংবর্ধিত হাফেজকে নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণের ঘোষণা, এক বছরে হিফজ সম্পন্নকারীদের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার বিমানে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ঝিনাইগাতীর সীডস প্রকল্পের সিবিও নেতৃবৃন্দের দেওয়ানগঞ্জে সিএসএ কার্যক্রম পরিদর্শন ও অভিজ্ঞতা বিনিময় জাবিপ্রবির সার্বিক উন্নয়নে রাষ্ট্রপতির সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস

নিয়োগে বাড়ছে ঘুষের প্রভাব : দরকার সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ

দেশচিত্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশের সময়: 02-10-2023 11:11:40 am

© ফাইল ছবি


◾ মোহাম্মদ শাকিল আহমেদ  : বর্তমান সময়ে চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা কি ? প্রশ্নের উত্তরে সহজেই বলা যায় চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা টাকা। কারণ, বর্তমান সময়ে চাকরি প্রার্থীর যোগ্যতায় নয় বরং পরিবারের টাকার উপর নির্ভর করে। পরিবারের টাকার পরিমাণটা বেশি হলে তবে সে প্রথম শ্রেণীর চাকরি প্রত্যাশা করে, একটু কম হলে মধ্যম বা নিম্ন শ্রেণির চাকরি। আর যদি পরিবারের টাকা উল্লেখযোগ্য পরিমানে না থাকে তাহলে যোগ্যতা থাকার পরেও চাকরি নয় বরং হতাশা ও টাকার আফসোসই শেষ পরিণতি। 


এখন প্রশ্ন আসতে পারে পরিবারের টাকার সাথে চাকরির কি সম্পর্ক? চাকরি হয় চাকরি প্রার্থীর যোগ্যতার উপর ভিত্তি করে। এখানে পরিবারের টাকা থাকলো বা না থাকলো তাতে কি? এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায় হুম, চাকরি যোগ্যতার উপর ভিত্তি করেই হয় তবে তা টাকার যোগ্যতা মানে ঘুষ। বর্তমান চাকরির বাজারে নিয়োগে ঘুষ নেই এমন চাকরি খুজে পাওয়া দায়। অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে বড় কর্মকর্তা, প্রত্যেক পদেই নিয়োগে ঘুষ দিতে হয় কয়েক লক্ষ টাকা। এমনকি অফিস সহকারী পদে নিয়োগ পেতে হলেও দিতে ৭/৮ লক্ষ টাকা আর একটু বড় কর্মকর্তা হতে গেলে গুনতে হয় ২০/২৫ লক্ষ টাকা। এ-তো সাধারণ চাকরির বাজার, এখন একটু ডিফেন্সের চাকরির বাজার নিয়ে ভাবা যাক। ডিফেন্স বলতে আমরা সাধারণ বুঝি বাহিনীকে। যারা সমাজে শৃঙ্খলা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে। তবে এই শৃঙ্খলা রক্ষার বাহিনীতেও নিয়োগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারি ঘুষ নামক অনিয়মের অভিযোগ অহরহ। সাধারণত এই সকল বাহিনীতে নিয়োগে দিতে হয় ১২/১৫ লক্ষ টাকা তবে তা যদি একটু বড় কর্মকর্তার চাকরি হয় তাহলে টাকার পরিমাণটা হয়ে দাঁড়ায় দ্বিগুণ ।


মোটকথা বাংলাদেশে প্রায় সকল ধরনের সরকারি চাকরিতেই ঘুষের ছড়াছড়ি। ঘুষ যেন এক অতি লাভবান বানিজ্যে পরিনত হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন প্রতিবছর বাংলাদেশে সরকারি চাকরির পদ ফাঁকা হয় প্রায় ৫০ হাজার। এরমধ্যে ২ হাজার পদে নিয়োগ পায় পিএসসি কর্তৃক নির্বাচিত চাকরি প্রত্যাশিরা। বাকি ৪৮ হাজার পদের প্রায় ৭৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৩৬ হাজার পদে নিয়োগ দেওয়া হয় ঘুষের মাধ্যমে। যা মোট ফাঁকা পদের প্রায় ৭০ শতাংশ, অর্থাৎ দেশের চাকরির বাজারের সিংহভাগ চাকরিই হয় ঘুষের মাধ্যমে। এতে করে একদিকে যেমন প্রকৃত যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীরা চাকরি পাচ্ছে না অপরদিকে অযোগ্য লোক গুরুত্বপূর্ণ পদে বসায় তারা দেশের উন্নয়নেও তেমন ভুমিকা রাখতে পারছে না। বিষেশ করে এই ঘুষ বানিজ্যের কারণে সমাজে অসমতা সৃষ্টি হচ্ছে। সমাজে ধনী শ্রেণির লোকরা টাকার মাধ্যমে তাদের সন্তানকে কে চাকরি যোগাড় করে দিতে পারলেও সমাজের গরিব মানুষেরা সহায়-সম্বল হারিয়ে সন্তানদের পড়াশোনা করানোর ফলে পর্যাপ্ত টাকার অভাবে ঘুষের মাধ্যমে সন্তানকে চাকরি যোগাড় করে দিতে পারছে না।


এতে করে সমাজের ধনীরা চাকরির মাধ্যমে আরো ধনী হলেও আগে থেকে সমাজের পিছিয়ে পরা গরিবরা বেকারত্বের কারণে আরো পিছিয়ে পরতেছে। যা সমাজে ধনী এবং গরিবের শ্রেণি বৈষম্য আরো স্পষ্ট করতেছে। শুধু তাই নয়, সমাজের নিম্ন বা মধ্যবিত্ত শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা যখন সহায়-সম্পত্তি হারিয়ে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির বাজারের ঘুষ বানিজ্যের কারণে চাকরি পায় না তখন তারা জীবিকার তাগিদে নানান অপরাধ মূলক কাজে নিজেকে জরাতে বাধ্য হয়। যা পরবর্তীতে দেশ ও জাতির জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিছু শিক্ষার্থী বেকারত্বের গ্লানি নিতে না পেরে আত্নহত্যার মতো জঘন্য কাজ করে পরপারে পারি জানাচ্ছে। আবার একশ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থীরা ঘুষের কারণে দেশে চাকরি না পেয়ে বাধ্য হয়ে পারি জানাচ্ছে বিদেশে যা মেধা পাচারের অন্যতম কারণ।


খুঁজলে হয়তো ঘুষের কারণে এরকম হাজারো ক্ষতিকর দিক খুজে পাওয়া যাবে। যে ক্ষতি গুলো শুধু ব্যাক্তির নয় বরং দেশেরও। যা দেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন ও শাসননীতিকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করতেছে। 


ঘুষ নামক এমন ক্ষতিকর প্রক্রিয়া যদি বন্ধ করা না যায় তাহলে এটি সমাজে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পরার মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবক্ষয় ঘটাতে পারে। এজন্য এটি বন্ধে প্রশাসনকে ও প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদেরকেও সোচ্চার হতে হবে। প্রশাসনের উচিত ঘুষের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া। ঘুষ দাতা ও গ্রহীতা উভয়ের জন্য কঠোর শাস্তির আইন প্রনয়ণ ও তার বাস্তবায়ন করা। 


ঘুষ বানিজ্য বন্ধে সবথেকে কার্যকর ভুমিকা রাখতে পারে সাধারণ জনগণ অর্থাৎ চাকরি প্রার্থী ও তার পরিবার। চাকরি প্রার্থী যদি ঘুষের মাধ্যমে চাকরি না নেয় বরং ঘুষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে তবেই ঘুষ প্রত্যাশিরা ঘুষ না নিয়েই চাকরি দিতে বাধ্য হবে। শুধু চাকরি প্রার্থী বা তার পরিবার নয় বরং আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকে ঘুষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা। আমাদের মধ্যে যারা ঘুষ প্রত্যাশি তাদের উচিত এই দেশ এবং দেশের জনগণের সার্থে ঘুষ নেওয়া বন্ধ করা, তাহলে তারাও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারবে। এতে করে ঘুষ নামক এই অভিশাপ হয়তো বাংলাদেশ থেকে চিরতরে বিদায় নিবে। যা সমাজে প্রতিষ্ঠা করবে সাম্যতা। পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠীও চাকরির উপর ভর করে এগোতে পারবে সামনের দিকে । তারাও দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পাবে। আর এমন একটি সাম্য ও ঘুষ মুক্ত দেশ সকলেরই কাম্য। 



লেখক : মোহাম্মদ শাকিল আহমেদ 

শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক 

বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ঢাকা কলেজ। 



আরও খবর



6ad3adc1cb7fd-171026111753.webp
দুর্গোৎসব: পূজার আড়ালে যে মানবতার পাঠ

১০ দিন ৪ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে


6ac3b9837d6ba-051026085147.webp
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা তবুও অবহেলিত

২১ দিন ২২ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে