ঘরে ঘুমিয়ে থাকা মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ মিলল ধান খেতের পাশে আশাশুনিতে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে ইজিবাইক ও হোটেলের চাল বিধ্বস্থ ★অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পথচারী ও হোটেলের লোকজন ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হাফেজ রোকনুজ্জামান রিপন ৪বছরের শিশু রুহি হত্যার প্রধান আসামিসহ গ্ৰেফতার ৩ কৃষকের উপস্থিতি দেখে সটকে পড়লেন সার ডিলার ও কৃষি কর্মকর্তা বাঁশ ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ কৃষকের চাঁদপুর–রায়পুর সড়কে আনন্দ বাস ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ৩ বাঁশখালীর বাহারছড়া সাগরপাড়ে প্রকৃতির মায়াবী সৌন্দর্য নির্মল বাতাস ও মনোরম পরিবেশে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা শৈলকুপার ভাটই বাজারের আসাননগর তামাক ডিপোর বিপরীতে একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ দিনাজপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত গবাদিপশু পালনে আত্মকর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে অভিবাসন ফেরতদের প্রশিক্ষণ প্রদান ও সনদ বিতরণ আক্কেলপুরে ৭২ কেজি ৯০০ গ্রাম কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার, আটক ৪ শার্শায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সভাপতিসহ আটক ২ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের জেরে কচুয়ায় সাংবাদিক নাছির উদ্দিন ও তার কন্যা শিশুকে মারধরের অভিযোগ ঝটিকা অভিযান থেকে উঠান বৈঠক-মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে সক্রিয় ওসি আব্দুর রহিম, এখন দায়িত্বে কে? নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে সাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যু বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের মূলপর্ব শুরু আজ আজ বিশ্ব গন্ডার দিবস ১৯৮ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন বিশ্ববাজারেও বাড়ল তেলের দাম

রাজাকারের তালিকা করবে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল: সংসদে বিল পাস

দেশচিত্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশের সময়: 30-08-2022 12:20:09 am

ফাইল ছবি

◾ নিউজ ডেস্ক


রাজাকারদের তালিকা তৈরির পথে আইনি বাধা কাটছে। এ জন্য রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনীসহ স্বাধীনতা-বিরোধীদের তালিকা তৈরির বিধান রেখে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন পাস করেছে। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বিল-২০২২’ সংসদে পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। 


এর আগে গত ৫ জুন বিলটি সংসদে তোলেন মন্ত্রী মোজাম্মেল হক। পরে বিলটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। 


বর্তমান সরকার স্বাধীনতা-বিরোধী রাজাকারদের তালিকা তৈরি করতে কয়েক বছর আগেই উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে, আইনি বাধার কারণে সেই উদ্যোগে ছেদ পড়ে। এই বিল পাস হওয়ার পরে সেই বাধা আর থাকছে না। এখন বিলটিতে রাষ্ট্রপতি তাতে সম্মতি দিলে গেজেট আকারে প্রকাশিত হওয়ার পর তা আইনে পরিণত হবে। 


সংসদে উত্থাপিত বিলে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইনে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা’ এই আইনে গৃহীত হবে বলে উল্লেখ ছিল। তবে সংসদীয় কমিটি সেই সংজ্ঞা পূর্ণাঙ্গভাবে বিলে অন্তর্ভুক্ত করেছে। বিদ্যমান আইনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীদের তালিকা প্রকাশের বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই। 


বিলে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বাহিনীর সদস্য হিসেবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন বা আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য হিসেবে কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন বা আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য হিসেবে সশস্ত্র যুদ্ধে নিয়োজিত থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন—তাঁদের স্বাধীনতা-বিরোধী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। 


এতে আরও বলা হয়েছে, খুন, ধর্ষণ, লুট, অগ্নিসংযোগের অপরাধমূলক ঘৃণ্য কার্যকলাপ দ্বারা নিরীহ মানুষকে হত্যার মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধ সংগঠিত করেছেন অথবা একক বা যৌথ বা দলীয় সিদ্ধান্তক্রমে প্রত্যক্ষভাবে, সক্রিয়ভাবে বা পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন তাঁদের তালিকা প্রণয়ন ও গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠাবে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল।


কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা ১২ জন করা হয়েছে বলে বিলে জানানো হয়েছে। আগের আইনে ৯ জন ছিলেন। কাউন্সিলের প্রধান উপদেষ্টা হবেন প্রধানমন্ত্রী। কাউন্সিলের আটজন সদস্য প্রধান উপদেষ্টা মনোনয়ন দেবেন, যারা বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য হবেন। 


উপদেষ্টা পরিষদে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী থাকবেন। প্রধান উপদেষ্টা মনোনীত পাঁচজন সদস্য মনোনয়নের ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের ফোর্স কমান্ডার, সাব সেক্টর কমান্ডার অথবা কমান্ডারগুলোর বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, এই বিষয়ক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি বা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবও এই পরিষদে থাকবেন। 


কাউন্সিল মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা সংশ্লিষ্ট সব সংগঠনের নিবন্ধন প্রদান, সাময়িকভাবে স্থগিত ও বাতিল করতে পারবে। ২০১৯ সালে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধনের খসড়া তৈরি করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ওই বছর ২৯ ডিসেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সুপারিশও নেওয়া হয়। ২০২০ সালের মার্চ মাসে আইনের ভাষা পরিমার্জনের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বাংলা ভাষা বাস্তবায়ন কোষে পাঠানো হয়। 


 ২০২০ সালের ডিসেম্বরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে দুটি সংশোধনী দিয়ে ওই খসড়ার নীতিগত অনুমোদন করা হয়। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা গত জুনে মন্ত্রিপরিষদ সভায় পাঠানো হয়। এ বছরের জানুয়ারি মানে খসড়া আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। 


রাজাকারদের তালিকা তৈরি করতে ২০২০ সালে একটি উপ-কমিটি করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটি প্রথমে রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরে খসড়া আইনটি মন্ত্রিসভায় যাওয়ার পর তাঁরা সিদ্ধান্ত পাল্টান। গত এপ্রিলে আগের কমিটি ভেঙে নতুন করে উপ-কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। 


বিলটির ওপর আলোচনায় জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরেও একটি পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযোদ্ধার তালিকা তৈরি করা যায়নি। যারা মুক্তিযুদ্ধ করেনি তারাও এখন মুক্তিযোদ্ধা। পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে, ২ হাজার মুক্তিযোদ্ধার বয়স ৫০ বছর। স্বাধীনতারও ৫০ বছর পর তাদের বয়সও ৫০ বছর! সঠিকভাবে যাচাই বাছাই করে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা করা উচিত।’ 

আরও খবর