তেতৈয়া দাওয়াতুল ইসলাম দাখিল মাদরাসায় বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও নুরুল আমিন এমপিকে সংবর্ধনা লাখাইয়ে চোরাই মোটরসাইকেল সহ আটক -১। শ্যামনগরে চিংড়ীতে জেলি পুশ, ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা শ্যামনগরে এবার এসএসসি,দাখিল ও সমমান পরীক্ষার্থী ২৯৭৮ জন কোম্পানীগঞ্জে নাছের ও মুছাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা মাদ্রাসার পুকুরে ডুবে তা'মীরুল মিল্লাত টঙ্গী'র সপ্তম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু মাদ্রাসার পুকুরে ডুবে তা'মীরুল মিল্লাত টঙ্গী'র সপ্তম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু নওগাঁয় বিপুল দেশীয় অস্ত্রসহ ৩ সন্ত্রাসী গ্রেফতার চৌদ্দগ্রাম দারুচ্ছুন্নাৎ দাখিল মাদরাসায় পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠান জয়পুরহাট হার্ট ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত লাখাইয়ে দূর্নীতি কমিশন এর বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরুষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত। ‎বাঘের তাড়া খেয়ে লোকালয়ে হরিণ, সুন্দরবনে অবমুক্ত দিনাজপুর বিরলে র‌্যাব-১৩ এর অভিযানে ৩৯৬ বোতল এসকাফসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। চিলমারীর "কড়াই বরিশাল চরে" মেয়েদের প্রীতি হ্যান্ডবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে আদমদীঘিতে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্ততিমুলক সভা আদমদীঘিতে চোরাই অটোভ্যানসহ চোরচক্রের সদস্য গ্রেপ্তার যশোরের শার্শায় চাঁদার দাবিতে যুবককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম গৃহবন্দী সংখ্যালঘু পরিবার, ভাঙচুরের পর আঙিনায় সবজি আবাদ,বসতভিটা দখলের চেষ্টা সাতক্ষীরায় বাড়তি দামে তেল বিক্রি, জরিমানায় দুই স্টেশন যশোরে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক জালিয়াতি: ৩৫ বছরের ব্যবসায়ীর লাখ টাকা জরিমানা

রাজাকারের তালিকা করবে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল: সংসদে বিল পাস

দেশচিত্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশের সময়: 30-08-2022 12:20:09 am

ফাইল ছবি

◾ নিউজ ডেস্ক


রাজাকারদের তালিকা তৈরির পথে আইনি বাধা কাটছে। এ জন্য রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনীসহ স্বাধীনতা-বিরোধীদের তালিকা তৈরির বিধান রেখে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন পাস করেছে। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বিল-২০২২’ সংসদে পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। 


এর আগে গত ৫ জুন বিলটি সংসদে তোলেন মন্ত্রী মোজাম্মেল হক। পরে বিলটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। 


বর্তমান সরকার স্বাধীনতা-বিরোধী রাজাকারদের তালিকা তৈরি করতে কয়েক বছর আগেই উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে, আইনি বাধার কারণে সেই উদ্যোগে ছেদ পড়ে। এই বিল পাস হওয়ার পরে সেই বাধা আর থাকছে না। এখন বিলটিতে রাষ্ট্রপতি তাতে সম্মতি দিলে গেজেট আকারে প্রকাশিত হওয়ার পর তা আইনে পরিণত হবে। 


সংসদে উত্থাপিত বিলে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইনে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা’ এই আইনে গৃহীত হবে বলে উল্লেখ ছিল। তবে সংসদীয় কমিটি সেই সংজ্ঞা পূর্ণাঙ্গভাবে বিলে অন্তর্ভুক্ত করেছে। বিদ্যমান আইনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীদের তালিকা প্রকাশের বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই। 


বিলে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বাহিনীর সদস্য হিসেবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন বা আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য হিসেবে কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন বা আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য হিসেবে সশস্ত্র যুদ্ধে নিয়োজিত থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন—তাঁদের স্বাধীনতা-বিরোধী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। 


এতে আরও বলা হয়েছে, খুন, ধর্ষণ, লুট, অগ্নিসংযোগের অপরাধমূলক ঘৃণ্য কার্যকলাপ দ্বারা নিরীহ মানুষকে হত্যার মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধ সংগঠিত করেছেন অথবা একক বা যৌথ বা দলীয় সিদ্ধান্তক্রমে প্রত্যক্ষভাবে, সক্রিয়ভাবে বা পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন তাঁদের তালিকা প্রণয়ন ও গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠাবে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল।


কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা ১২ জন করা হয়েছে বলে বিলে জানানো হয়েছে। আগের আইনে ৯ জন ছিলেন। কাউন্সিলের প্রধান উপদেষ্টা হবেন প্রধানমন্ত্রী। কাউন্সিলের আটজন সদস্য প্রধান উপদেষ্টা মনোনয়ন দেবেন, যারা বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য হবেন। 


উপদেষ্টা পরিষদে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী থাকবেন। প্রধান উপদেষ্টা মনোনীত পাঁচজন সদস্য মনোনয়নের ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের ফোর্স কমান্ডার, সাব সেক্টর কমান্ডার অথবা কমান্ডারগুলোর বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, এই বিষয়ক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি বা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবও এই পরিষদে থাকবেন। 


কাউন্সিল মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা সংশ্লিষ্ট সব সংগঠনের নিবন্ধন প্রদান, সাময়িকভাবে স্থগিত ও বাতিল করতে পারবে। ২০১৯ সালে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধনের খসড়া তৈরি করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ওই বছর ২৯ ডিসেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সুপারিশও নেওয়া হয়। ২০২০ সালের মার্চ মাসে আইনের ভাষা পরিমার্জনের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বাংলা ভাষা বাস্তবায়ন কোষে পাঠানো হয়। 


 ২০২০ সালের ডিসেম্বরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে দুটি সংশোধনী দিয়ে ওই খসড়ার নীতিগত অনুমোদন করা হয়। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা গত জুনে মন্ত্রিপরিষদ সভায় পাঠানো হয়। এ বছরের জানুয়ারি মানে খসড়া আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। 


রাজাকারদের তালিকা তৈরি করতে ২০২০ সালে একটি উপ-কমিটি করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটি প্রথমে রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরে খসড়া আইনটি মন্ত্রিসভায় যাওয়ার পর তাঁরা সিদ্ধান্ত পাল্টান। গত এপ্রিলে আগের কমিটি ভেঙে নতুন করে উপ-কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। 


বিলটির ওপর আলোচনায় জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরেও একটি পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযোদ্ধার তালিকা তৈরি করা যায়নি। যারা মুক্তিযুদ্ধ করেনি তারাও এখন মুক্তিযোদ্ধা। পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে, ২ হাজার মুক্তিযোদ্ধার বয়স ৫০ বছর। স্বাধীনতারও ৫০ বছর পর তাদের বয়সও ৫০ বছর! সঠিকভাবে যাচাই বাছাই করে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা করা উচিত।’ 

আরও খবর