চলমান শ্রমিক বিক্ষোভে ৫ শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে: বিজিএমইএ নোয়াখালীতে ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির আনন্দ শোভাযাত্রা দোকান ঘর-সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ব্যবসায়ীর জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ ৪ নভেম্বর থেকে সারাদেশে গ্যাসের সরবরাহ কমবে: পেট্রোবাংলা দুবলার চরে পাঁচ মাসের শুঁটকি মৌসুম শুরু, ১০ হাজার জেলের কর্মযজ্ঞ পোশাক খাতের অস্থিরতা নিয়ে জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবীনগরে মামার বাড়িতে বেড়াতে এসে কিশোরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে শেরপুরে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব ঋণ বিতরণ নওগাঁর নিয়ামতপুরে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে ঋণের চেক ও সনদপত্র বিতরণ মিরসরাইয়ে জাতীয় যুব দিবসে শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠকের সম্মাননা পেলেন গোলাম মর্তুজা জাতীয় যুব দিবসে মিরসরাইয়ের ফয়সাল আলম পেলেন শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তার সম্মাননা ইসলামপুরে যমুনা নদীতে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এক আসামিকে আটক করেছে পুলিশ পীরগাছায় জাতীয় যুব দিবস উদযাপন, যুব ঋণ বিতরণ র‌্যালি, আলোচনা সভা জয়পুরহাটে এসআরবির অভিযানে ইয়াবা ও টাপেন্টাডলসহ মাদক ব্যবসায়ী মিলন গ্রেপ্তার শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন ঝিনাইগাতীতে কারিতাস ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে জাতীয় যুব দিবস পালিত রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে জাতীয় যুব দিবস পালিত মাদক, বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে রাজবাড়ীতে উঠান বৈঠক ও সমাবেশ উলিপুরে জাতীয় যুব দিবস পালিত জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে শান্তিগঞ্জে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

এসআই জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়সহ বাদী-বিবাদীর কাছে ঘুষগ্রহণের অভিযোগ

জামালপুরের ইসলামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলায় হয়রানির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়সহ বাদী-বিবাদীর কাছে ঘুষগ্রহণের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। 


ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসআই জিল্লুর কখনো মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেন। কখনো তদন্তের নামে ঘুষ নেন। আবার কখনো থানায় আটিকিয়ে উদ্দেশ্য হাসিল করেন। তাঁর এসব অনিয়ম-দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ সেবাপ্রার্থীরা। তবে অভিযুক্ত এসআই জিল্লুর রহমানের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা। 


এসআই জিল্লুরের ঘুষগ্রহণের বিষয়ে আইনগত প্রতিকার চেয়ে এক ভুক্তভোগী পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ওই ভুক্তভোগীর নাম জহুরুল ইসলাম। তিনি উপজেলার চিনাডুলী ইউনিয়নের শিংভাঙ্গা গ্রামের মৃত শাহ আলমের ছেলে। 


ঘুষ নিয়েও আসামি গ্রেপ্তার করে না এসআই জিল্লুর :  


অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুলাই বিকেলে পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে একই এলাকার মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে দেলু ও লিটনের লোকজন 

জহুরুলকে বেধড়ক মারধর করে। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ছয় দিন পর চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেন জহুরুল। 

এনিয়ে জহুরুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. হামেদা বেগম বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে খরচ বাবদ টাকা দাবি করেন এসআই জিল্লুর। পরে তাঁকে সাড়ে চার হাজার টাকা দেন জহুরুল। পরবর্তী সময়ে অভিযোগটি মামলা হিসেবে এফআইআর করতে মোটা অংকের ঘুষ দাবি করেন এসআই জিল্লুর। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে জহুরুল ২৫ হাজার টাকা ঘুষ দিলে গত ৩ আগষ্ট অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। মামলারটি তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পান এসআই জিল্লুর। 


ভুক্তভোগী জহুরুল ইসলাম বলেন, দুই দফায় ২৯ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েও এখন পর্যন্ত মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি এসআই জিল্লুর। বিপরীতে তিনি রাগারাগি করে। জানতে পেরেছি আসামিদের কাছে মোটা অংকের ঘুষ নিয়েছেন তিনি। আমরা মামলার কার্যক্রম নিয়ে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি।'


থানায় আটকিয়ে রাখার অভিযোগ: 


অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৩০ মে সন্ধ্যায় উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক মেম্বার আশরাফ আলীর প্রতিবেশী কোরবান আলীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি হয়। এনিয়ে ওইদিন রাতে কোরবান আলী বাদী হয়ে আশরাফ মেম্বারসহ, তাঁর স্ত্রী এবং দুই ছেলের নামে ইসলামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের পেক্ষিতে ৪ জুন বিকেলে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে থানায় আশরাফ মেম্বারকে একটি কক্ষে ঢুকিয়ে তালাবদ্ধ করে দেন এসআই জিল্লুর। পরে রাত ১১টার দিকে কোরবান আলীর সঙ্গে আর কোনদিন বিরোধে জড়াবে না মর্মে মুচলেকা নিয়ে আশরাফ মেম্বারকে ছেড়ে দেওয়া হয়। 

থানা থেকে ছাড়া পাওয়া আশরাফ আলী মেম্বার বলেন, 'মারধরের ঘটনা ঘটেনি। তবে কথা-কাটাকাটি হয়েছে। মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে থানায় আটকিয়ে ৬ ঘণ্টা পর আমাকে ছেড়ে দিয়েছে এসআই জিল্লুর।'


মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ : 


গত ১১ জুলাই গভীর রাতে মোবাইল ফোনে সম্পর্কের জের ধরে পাশ্ববর্তী বকশীগঞ্জ উপজেলার এক কলেজ পড়ুয়া ছাত্র কয়েকজন সহপাঠীকে নিয়ে উপজেলার সীমান্তবর্তী একটি মহিলা মাদ্রাসার ১৭ বয়সী এক ছাত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসে। বিষয়টি ছাত্রীর পরিবারের লোকজন টের পাওয়ায় ওই কলেজছাত্র দ্রুত শটকে পড়লেও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর সহযোগী দুই তরুণকে আটক করে। পরদিন ১২ জুলাই এসআই জিল্লুর ওই ছাত্রীর বাবার বসতবাড়ি থেকে দুই তরুণকে থানায় নিয়ে যান। ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা অপ্রাপ্ত বয়সী হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করলে পরিবারের জিম্মায় ওইদিন ভোর রাত থানা থেকে দুই তরুণকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু অপর দুই তরুণের বাড়ি গিয়ে মামলার ভয় দেখিয়ে স্বজনদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন এসআই জিল্লুর।

এঘটনায় এক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, বকশীগঞ্জে আমাদের বাড়িতে এসে এসআই জিল্লুর মামলার ভয় দেখিয়েছে। পরে আমরা তাঁকে ৬০ হাজার টাকা দিয়েছি।' 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  যুবদলের এক নেতা বলেন, মামলা করতে সাড়ে চার হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে উল্টো তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের মিথ্যে অভিযোগে মামলা ঢুকে দিয়েছে এসআই জিল্লুর। 

এসআই জিল্লুরের অভিযোগ অস্বীকার : অভিযুক্ত এসআই মো. জিল্লুর রহমান বলেন, 'অভিযোগ ঠিক নয়। দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমার বিরুদ্ধে এক টাকার ঘুষগ্রহণের সত্যতা কেউ প্রমাণ করতে পারবে না।'


কর্তৃপক্ষের বক্তব্য :  


এসআই জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে গেলে জানা যায়, ইসলামপুর সার্কেল কর্মকর্তা ইতোমধ্যে বদলি অন্যত্র চলে গেছেন। 


সার্কেল কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ গ্রহণে দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন বলেন, 'এসআই জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।'


ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, 'এসআই জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।'


আরও খবর