দৌলতদিয়ার দুই বিদ্যালয়ে বাল্যবিবাহ, মাদক ও সাইবার আসক্তি বিষয়ে সচেতনতামূলক সভা
দৌলতদিয়ার দুই বিদ্যালয়ে বাল্যবিবাহ, মাদক ও সাইবার আসক্তি বিষয়ে সচেতনতামূলক সভা
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া মডেল হাই স্কুল ও জামতলা হাই স্কুলে বাল্যবিবাহের কুফল, মাদকের বিস্তার প্রতিরোধ এবং সাইবার আসক্তি পরিহার বিষয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ) সকাল ১১টায় দৌলতদিয়া মডেল হাই স্কুল এবং বেলা ১টায় জামতলা হাই স্কুলের গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশের উদ্যোগে পৃথকভাবে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ, মাদক ও সাইবার আসক্তি বর্তমান সমাজের অন্যতম প্রধান সামাজিক ব্যাধি। এসব অপরাধ ও আসক্তি থেকে শিশু-কিশোর ও তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুলিশ এবং সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, "গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সমাজের সব ধর্ম, বর্ণ, বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। নতুন প্রজন্ম যেন মাদক, বাল্যবিবাহ ও সাইবার আসক্তির মতো সামাজিক সমস্যায় জড়িয়ে নিজেদের, পরিবার ও দেশের জন্য বোঝা হয়ে না ওঠে, সে লক্ষ্যেই আমাদের এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।"
মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থীদের বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব, মাদকের ভয়াবহতা, সাইবার আসক্তির নেতিবাচক দিক, অনলাইনে নিরাপদ থাকার কৌশল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগী হওয়া, নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়া এবং একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) হুমায়ূন রেজা রেজা, দৌলতদিয়া মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম, জামতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, উভয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষিত, নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচিকে সময়োপযোগী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিমত প্রকাশ করেন।