হাতিয়ায় সেই স্কুলে ফের আরো ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ রায়কালী ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মতিউর রহমানের মোটরসাইকেল শোডাউন শিশুকে দুধ খাওয়ানোর সময় চাচিকে কুপিয়ে হত্যা, ভাতিজা আটক জমি নিয়ে বিরোধে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ লাখাইয়ে মসজিদ নির্মাণের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু। নোয়াখালীতে যুবদল নেতার নামে পোস্টারিং, চেয়ারম্যান হলে গাঁজা-ইয়াবা ফ্রি দেবো সরকারের বিতরণকৃত বিনামূল্যের পাঠ্যবই আটকের ঘটনায় মধুপুরে গ্রেফতার-১, থানায় মামলা নোয়াখালী জেলা যুবলীগের সভাপতি ইমন ভট্র গ্রেপ্তার শ্যামনগরে কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা ও জলবায়ু ন্যায্যতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা সততার যোগ্যতায় অনন্য: বহুলীতে সর্বস্তরের মানুষের আস্থার প্রতীক জেলা বিএনপির উপদেষ্টা এস এম রঞ্জু ‎ পীরগাছায় মুজাহিদ কমিটি (চরমোনাই) ছেড়ে জামায়াতে যোগ দিলেন মোখলেছুর রহমান ‎ ‎রামপালের দ্বিতীয় ইউনিট বন্ধে তীব্র লোডশেডিংয়ে, ভারতীয় প্রকৌশলীর বিলম্বে অসন্তোষ আক্কেলপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী মতিউর রহমান মতু মোটরসাইকেল শোডাউন বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ এখন স্থিতিশীল রাষ্ট্র: মাহদী আমিন ভেজাল সার মজুত, ব্যবসায়ীকে ১ মাসের কারাদণ্ড নতুন নামে যাত্রা শুরু করল র‍্যাব এশিয়ান গেমস উপলক্ষ্যে জাপান গমন করলেন সেনাবাহিনী প্রধান নওগাঁর নিয়ামতপুরে মাদকবিরোধী অভিযান : তিনজন আটক পলাশপোলে পথচারীকে আটকে টাকা আদায়ের অভিযোগ আদমদীঘিতে বাঁশঝাড়ে জুয়ার আসর থেকে ৪ জন গ্রেফতার

নির্মাণের ১১ বছর পরও তালাবদ্ধ শার্শার ১০ শয্যার হাসপাতাল

সরকারি অর্থে নির্মিত আধুনিক ভবন। রোগীদের জন্য বেড আছে, চেয়ার-টেবিল আছে, চিকিৎসাকেন্দ্রের সাইনবোর্ডও টাঙানো। নেই শুধু চিকিৎসাসেবা। নির্মাণের ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী গোড়পাড়া বাজারে সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি আজও চালু হয়নি। একদিকে কোটি টাকার সরকারি সম্পদ অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে চিকিৎসার অভাবে চারটি ইউনিয়নের লাখো মানুষকে প্রতিনিয়ত ছুটতে হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরের হাসপাতালে। স্থানীয় সূত্র জানায়,উপজেলার সীমান্তবর্তী নিজামপুর, ডিহি, লক্ষণপুরসহ আশপাশের এলাকার মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০১৩ সালে কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালে নির্মাণ শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। কিন্তু এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ১১ বছর। এখনও সেখানে একজন চিকিৎসকও বসেননি, একজন রোগীও চিকিৎসা পাননি। মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় হাসপাতাল ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। দরজা-জানালায় মরিচা ধরেছে, দেয়ালের রং খসে পড়ছে। রোগীদের জন্য আনা বেড, চেয়ার-টেবিল ও অন্যান্য আসবাবপত্র ধুলাবালিতে ঢেকে নষ্ট হওয়ার পথে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে পরিত্যক্ত ভবনটি মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, হাসপাতালটি চালু থাকলে প্রসূতি মা, নবজাতক ও জরুরি রোগীরা সহজেই চিকিৎসাসেবা পেতেন। কিন্তু এখন কোনো রোগী গুরুতর অসুস্থ হলে নাভারণ বা যশোর সদর হাসপাতালে নিতে হয়। অনেক সময় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সড়কপথে রোগীর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেও চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার এই বাস্তবতা সীমান্তবাসীর কাছে চরম হতাশার। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে হাসপাতালটি চালুর আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে কোটি কোটি টাকার সরকারি বিনিয়োগ কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। উপজেলা মা, শিশু স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মেডিকেল কর্মকর্তা ডাক্তার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “ভবন ও কিছু আসবাবপত্র পাওয়া গেছে। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতির বরাদ্দ এখনও পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি পদ অনুমোদন ও জনবল নিয়োগ না হওয়ায় সেবা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি।” স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের দীর্ঘদিনের সমন্বয়হীনতা এবং প্রশাসনিক জটিলতাই হাসপাতালটি চালু না হওয়ার অন্যতম কারণ। এ বিষয়ে যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, “গোড়পাড়াসহ উত্তর শার্শার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটি দ্রুত চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হচ্ছে।” সীমান্তাঞ্চলের মানুষের দাবি, আর কোনো আশ্বাস নয়—দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি বরাদ্দ এবং বহু প্রতীক্ষিত গোড়পাড়ার ১০ শয্যার হাসপাতালটি চালু করে লাখো মানুষের চিকিৎসাসেবার অধিকার নিশ্চিত করা হোক।
আরও খবর