জামালপুর-২ ইসলামপুর আসনের এমপি সুলতান মাহমুদ বাবুর ব্যবহৃত এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাবের মালিকানাধীন গাড়ি ভাঙচুরকারীদের বিরুদ্ধে ঘটনার এখনো নেওয়া হয়নি দলীয় কিংবা আইনগত কোনো পদক্ষেপ। তবে একই সময় ইউসুফ নামে ছাত্রদলের এক নেতাকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিএনপির ৬ নেতাসহ ৭ আসামি জামিন পেয়েছেন।
আজ সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে জামালপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করলে, সংশ্লিষ্ট বিচারক তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে গতকাল রোববার রাতে মারধরের শিকার উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ইউসুফের ভাই তাঁরা মিয়া বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
জামিনপ্রাপ্ত আসামিরা হলো, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল আহম্মেদ বাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়ান আহমেদ রিপন, ইসলামপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জোনায়েদ হোসেন সাব্বির, সাধারণ সম্পাদক রাব্বি মিয়া, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহগণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল হাসান রনি, পৌর ছাত্রদলের সদস্য মনজুরুল হাসান মঞ্জু এবং বিএনপি নেতা নবাবের গাড়ির চালক মো. রাজিম।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিদের সঙ্গে পূর্ব থেকে বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে ছাত্রদল নেতা ইউসুফের বিরোধ চলে আসছে। ইসলামপুর থানা গেটের সম্মুখে পাকা সড়কের উত্তর পাশে
আসামিরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ইউসুফকে লোহার এলোপাতাড়ীভাবে মারধর করে আসামিরা। এসময় ইউসুফের পরিহিত প্যান্টের পকেটে থাকা ৫০ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেয় তারা।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকেলে উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নস্থ সুলতান মাহমুদ বাবু মডেল কলেজে এমপি সুলতান মাহমুদ বাবুকে সংবর্ধনা দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। এতে অন্যান্যের মধ্যে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম নবাব, এমপির বড় মেয়ে নাসিদা সাফিজ বিনতী এবং ছোট মেয়ে সানজিয়া সাফিজ দ্যুতি।
কলেজ কক্ষে অনুষ্ঠান চলাকালে বাইরে বিনতীর অনুসারী উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হাসমতের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাবের অনুসারী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়ান আহমেদ রিপনের কথা কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতারা তাৎক্ষণিকভাবে চেষ্টা করলেও বিষয়টি মীমাংসা হয়নি। এনিয়ে বিনতীর বেশকিছু অনুসারী অনুষ্ঠান স্থল থেকে চলে এসে নবাবের অনুসারীদের শায়েস্তা করতে কলেজ গেট এলাকায় অবস্থান নেওয়ার গুঞ্জন উঠে। বিষয়টি টের পেয়ে সেখানে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নেওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে।
অনুষ্ঠান শেষে জেলা পরিষদ ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে গাড়ি রেখে ডাকবাংলোতে উঠেন দুই মেয়েসহ এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু এবং বিএনপি নেতা নবাব।
মাগরিবের নামাজের আজান চলাকালে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একদল লোক ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে ঢুকে সেখানে রাখা নবাবের গাড়ি ভেবে এমপির গাড়ি ভাঙচুর করে। পরে বিষয়টি ভুল বুঝতে পেরে দ্বিতীয় দফায় নবাবের গাড়িটিও ভাঙচুর করে তারা। রাত ৮টার দিকে ভাঙচুর করা গাড়ি দুইটি থানা প্রাঙ্গণে রাখার সময় এমপির গাড়িতে থাকা পানির বোতল নিয়ে পানি খেতে চান নবারের এক অনুসারী। এতে বাঁধা দেওয়ায় বিনতীর অনুসারী ছাত্রদল নেতা ইউসুফকে মারধর করে নবারের অনুসারীরা। ইউসুফকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
এনিয়ে রোববার বিকেলে পৌর শহরের ধর্মকুড়া এলাকায় দলীয় অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকে বিএনপি নেতা নবাব বলেন, আমার এবং এমপি মহোদয়ের গাড়ি ভাঙচুরকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি করছি। সিসি ফুটেজ দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এমপি আর আমার মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। আসছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, শনিবার রাতে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজমউদ্দৌলা পাহলোয়ান বলেন, সাধারণ সম্পাদক নবাব দলীয় পদ ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এখন দলের বদনাম করতেছে। আমরা দলীয় পদ থেকে নবাবের বহিষ্কারের দাবি করছি।
ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তব গাড়ি ভাঙচুরের পর ইউসুফ নামে একজনকে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে।
৪ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে