দৌলতদিয়ায় বাসডুবির ঘটনায় চালক সুপারভাইজার ও হেলপারের বিরুদ্ধে মামলা
দৌলতদিয়ায় বাসডুবির ঘটনায় চালক সুপারভাইজার ও হেলপারের বিরুদ্ধে মামলা
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এসবি পরিবহনের একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবুজার গিফারী বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় বাসের চালক, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর এলাকার বাসিন্দা মো. ঝন্টু আলী (৪৮), সুপার ভাইজার, কুষ্টিয়ার সুগ্রীবপুর এলাকার বাসিন্দা মো. আজমল হোসেন (৩৮) এবং হেলপার, আলামপুর এলাকার বাসিন্দা শাকিব হোসেনের (২২) নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে।
এছাড়া এস বি সুপার ডিলাক্স (নন-এসি) পরিবহনের (রেজি. নং ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৫৬৪৯) বাস পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরকেও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এজাহারে ফেরির অবকাঠামো ও যাত্রীদের মালামাল মিলিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন শুক্রবার সকালে দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে মেহেরপুরের গাংনি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এস বি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের বাসটি ফেরিঘাটে পৌঁছায়।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার জন্য চালককে নির্দেশ দেন নৌ-পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিসি'র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
নির্দেশনা অনুসারে বাসের প্রায় ৩৭ থেকে ৪০ জন যাত্রী নেমে পায়ে হেঁটে ফেরির দিকে যেতে থাকেন।
এর কিছুক্ষণ পর বাসের চালক ঝন্টু আলী বাসটি স্টার্ট দিয়ে বেপরোয়া ও অবহেলামূলকভাবে চালাতে শুরু করেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, ঘটনার সময় পারাপারের জন্য নির্ধারিত ফেরি ‘বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর’-এ না তুলে বাসটি দ্রুতগতিতে পন্টুন অতিক্রম করে সেখানে অবস্থানরত ‘করবী অক্সফ্যাম’ নামের অপর একটি ফেরির ওপর উঠে যায়। পরে ফেরিটির শেষ প্রান্তের র্যাম্পে সজোরে ধাক্কা দিলে র্যাম্পের শিকল ও সিটকিনি ছিঁড়ে যায় এবং বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
নৌ পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার আগে সুপারভাইজার ও হেলপার কৌশলে লাফ দিয়ে ফেরিতে নেমে যান। আর চালক সাঁতরে পন্টুনের কাছে এলে নৌ-পুলিশ ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
দুর্ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে ডুবে যাওয়া বাসটি নদী থেকে তুলে আনা সম্ভব হয়।
পরে বাসটি জব্দ করে নৌ পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং অধিকাংশ গ্লাসসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এজাহারে দাবি করা হয়, দুর্ঘটনায় করবী অক্সফ্যাম ফেরির র্যাম্প, ক্যাবল ও শিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি যাত্রীদের ব্যাগ ও মালামালের একটি অংশ পানিতে ভিজে, ডুবে বা হারিয়ে যায়। সব মিলিয়ে আনুমানিক ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, মামলায় এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নৌ-পুলিশ তদন্ত কাজ শুরু করেছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস জানান, দুর্ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের মালামাল যাচাই-বাছাই করে যাত্রীদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।