বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল অলিম্পিয়াডে প্রথম হলেন পবিপ্রবির রত্না রানি শ্যামনগরের স্বাস্থ্য স্বেচ্ছাসেবককে স্বাস্থ্য বিষয়ক উপকরণ বিতরণ ‎মায়ের লাশে অবহেলা: মোংলা পোর্টের পদ হারালেন বিতর্কিত যুগ্ম সচিব আনিসুর রহমান বেনাপোলে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়ি বহরে হামলা, আহত ৪ টিকিট কেটেও দেশে ফেরা হলো না প্রবাসী ফরহাদের ​নিউইয়র্কে ক্যান্সারের সঙ্গে এক বছর লড়ে নোয়াখালীর প্রবাসীর মৃত্যু, চিকিৎসায় ব্যয় ৩০ কোটি টাকা ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্তৃক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন ও মুরগির বাচ্চা বিতরণ যশোর প্রেসক্লাবে সদস্যপদ নিয়ে চরম ক্ষোভ: ৭ দিনের আল্টিমেটাম সাংবাদিক ইউনিয়নের নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ ঈদে গজনী ও মধুটিলায় পর্যটকদের ঢল, প্রকৃতির টানে মুখর গারো পাহাড়, জমজমাট দুই পর্যটন কেন্দ্র কয়রায় চলাচলের পথকে কেন্দ্র করে মারপিটের ঘটনায় থানায় মামলা অসহ্য গরম থেকে বাঁচতে যা করবেন রায়পুরে ইয়াবাসহ বিএনপি নেতা শামীম গ্রেপ্তার কালিন্দী নদী পেরোতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ দুইজন সাতকানিয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু জননেতা আসহাব উদ্দীন চৌধুরীর মমতাময়ী মায়ের মৃত্যুতে ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর গভীর শোক প্রকাশ সাতক্ষীরার সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশী আহত অক্সিজেন না দেওয়ার অভিযোগে মৃত্যু গরমে সুস্থ থাকার উপায়, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন নাঙ্গলকোটের নারায়নকোট গ্রামে প্রত্যয় সংগঠনের ১৬তম টিউবওয়েল উদ্বোধন খাগড়াছড়িতে চিরকুট লিখে যুবকের আত্মহত্যা

‎মায়ের লাশে অবহেলা: মোংলা পোর্টের পদ হারালেন বিতর্কিত যুগ্ম সচিব আনিসুর রহমান

ছবি সংগৃহীত

মোংলা প্রতিনিধিঃ

‎মিরপুরের ফ্ল্যাটে বৃদ্ধা মায়ের পচনধরা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নৈতিক স্খলনের দায়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য পদ থেকে অপসারিত হলেন যুগ্ম-সচিব এ কে এম আনিসুর রহমান।..
‎রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরের একটি ফ্ল্যাট থেকে ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের পচনধরা ও পোকায় খাওয়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) এ কে এম আনিসুর রহমান। গত ৩১ মে পুলিশ যখন ওই ফ্ল্যাট থেকে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করে, তখন তার সন্তান আনিসুর রহমান আইনি জটিলতা এড়াতে নিজের জন্মদাত্রী মাকে অস্বীকার করে চরম নৈতিক অবক্ষয়ের পরিচয় দেন। এই অমানবিক ও বিতর্কিত আচরণের প্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বুধবার ৩ জুন সন্ধ্যায় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে বর্তমান পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ করে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করেছে। প্রশাসনিক এই কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে রাষ্ট্রের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার ব্যক্তিগত জীবনের চরম ব্যর্থতা ও নৈতিক স্খলনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হলো।

‎তদন্ত সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে নুরজাহান বেগম ওই ফ্ল্যাটে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন, অথচ উচ্চশিক্ষিত সন্তান হিসেবে আনিসুর রহমান তার মায়ের কোনো প্রকার খোঁজখবর রাখতেন না। ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ উদ্ধারের সময় তার শরীরের অবস্থা দেখে প্রতীয়মান হয় যে, মৃত্যুর বেশ কয়েকদিন পরও কেউ তার খবর নেয়নি, যা অবহেলার এক চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত। ঘটনার পর ওই কর্মকর্তা প্রথমে মাকে শনাক্ত করতে অস্বীকার করে যে কৌশল অবলম্বন করেছিলেন, তা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী বৃদ্ধার প্রতি এই চরম অবহেলা কেবল পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন নয়, বরং একজন সরকারি কর্মকর্তার সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব পালনের ব্যর্থতাকে নগ্নভাবে প্রকাশ করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একটি ফ্ল্যাটে পচনধরা লাশ পড়ে থাকার পরও সন্তানের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়া এক ভয়াবহ সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরেছে, যা নাগরিক সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়েছে।

‎ঘটনার ভয়াবহতা ও সামাজিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী সচিবালয়ে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেন। প্রতিমন্ত্রীর এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তটি কার্যকর করা হয়, যা সরকারের পক্ষ থেকে দায়বদ্ধতার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রশাসনিক বিধিমালার আলোকে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। এদিকে, বাস মালিক সমিতি বা অন্যান্য পরিবহন খাতের মতো নয়, বরং সরকারি আমলাতন্ত্রের এমন একটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে অস্বস্তি বিরাজ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে যে, ব্যক্তিগত জীবনের নৈতিক স্খলন বা অপরাধমূলক অবহেলার দায়ে কোনো সরকারি কর্মকর্তাকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উন্মোচন করা হবে।

‎এই ঘটনাটি কেবল একটি প্রশাসনিক অপসারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বাংলাদেশের উচ্চবিত্ত ও শিক্ষিত শ্রেণির মানুষের পারিবারিক ও মানবিক মূল্যবোধের চরম বিপর্যয়ের একটি প্রতীকী উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের ঘটনা সমাজ ও রাষ্ট্রে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মনে আস্থার সংকট তৈরি করছে। ভবিষ্যতে পরিবহন খাত বা অন্য যেকোনো সরকারি সেক্টরে এমন অমানবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নজরদারি ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন আচরণ দেশের সামগ্রিক প্রশাসনিক ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর এক ধরনের নৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও খবর