সাতক্ষীরার নবাগত জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসকের আয়োজিত একটি সরকারি প্রেস ব্রিফিং বর্জন করেছেন জেলার কর্মরত প্রায় ৬০ জন সাংবাদিক। বুধবার (১৩ মে) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রচার কার্যক্রম নিয়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করার উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকাল ১১টায় প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশ নিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত হন। তবে সেখানে গিয়ে তারা পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা না থাকায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, সম্মেলন কক্ষে প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকদের তুলনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যক্তি ও অপসাংবাদিকদের উপস্থিতি ছিল বেশি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে পেশাগত দায়িত্ব পালন করা অনেক সাংবাদিক দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিকরা আয়োজকদের কাছে দ্বিতীয় ধাপে বা আলাদা করে প্রেস ব্রিফিং আয়োজনের অনুরোধ জানান।
এ সময় জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, দ্বিতীয়বার প্রোগ্রাম করার সুযোগ নেই। আগে আসলে বসার জায়গা পেতেন। সাংবাদিকদের দাবি, জেলা প্রশাসকের এমন মন্তব্য ছিল অসম্মানজনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন।
জেলা প্রশাসকের বক্তব্যে উপস্থিত সাংবাদিকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এবং একপর্যায়ে সম্মিলিতভাবে প্রেস ব্রিফিং বর্জন করে সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন। এ সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা তথ্য অফিসার জাহারুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রতিনিধি আবুল কাশেম বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসক অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত নয়। এ কারণেই আমরা প্রেস ব্রিফিং বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপ্পি বলেন, জেলা প্রশাসক নিজেই নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধাঘণ্টা পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন। অথচ সাংবাদিকদেরই দোষারোপ করেছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
সাংবাদিক নেতারা আরও বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের জন্য ন্যূনতম সম্মান, শৃঙ্খলা ও বসার পরিবেশ নিশ্চিত করা জেলা প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল। কিন্তু সেখানে পেশাদার সাংবাদিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।
প্রেস ব্রিফিং বর্জন করে বেরিয়ে আসা সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর কল্যাণ ব্যানার্জি, সময় টেলিভিশনের মমতাজ আহমেদ বাপ্পি, আর টিভির রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, দক্ষিণের মশালের সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেকী ইলাহী, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের আবুল কাশেম, বাংলাভিশনের আসাদুজ্জামান, এখন টেলিভিশনের আহসান রাজিব, যমুনা টিভির আকরামুল ইসলাম, স্টার নিউজের গাজী ফরহাদসহ জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা।
৫০ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ১ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ২৭ মিনিট আগে