জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর অনেক জনপ্রতিনিধি সাধারণ মানুষের সঙ্গে এক ধরনের দূরত্ব বা “বাধা” তৈরি করেন, যার ফলে জনগণ তাদের সমস্যাগুলো সহজে তুলে ধরতে পারেন না এবং অনেক সমস্যার দ্রুত সমাধানও হয় না।
তিনি জানান, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি নিয়মিত এলাকায় যাতায়াত করছেন এবং প্রতি তিন মাসে দুই উপজেলায় “মতবিনিময়” আয়োজন করছেন। তবে এটিকে তিনি প্রচলিত অর্থে সভা না বলে সরাসরি মতবিনিময় হিসেবে উল্লেখ করেন। কারণ, বড় সভায় সীমিতসংখ্যক মানুষ কথা বলার সুযোগ পান, কিন্তু তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে একান্তভাবে ওয়ান টু ওয়ান কথা বলতে চান।
মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) দিনব্যাপী উপজেলা পরিষদ চত্বরে ত্রৈমাসিক মতবিনিময় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, এই মতবিনিময়ের মাধ্যমে এলাকার শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিকরা বিভিন্ন সমস্যার কথা সরাসরি তুলে ধরছেন। এতে নতুন প্রতিনিধি হিসেবে তার দৃষ্টির বাইরে থাকা অনেক বিষয় সামনে আসছে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নীতিগত বিষয়েও জনগণের মতামত পাচ্ছেন, যা সংসদে তুলে ধরতে সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, এলাকার উন্নয়ন সংক্রান্ত নানা বিষয়—রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির, কবরস্থান-শ্মশানসহ সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি মানুষ সরাসরি জানাচ্ছেন। তরুণদের খেলাধুলা ও সামাজিক কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। এসব চাহিদা তালিকাভুক্ত করে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে, যাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
কৃষকদের বর্তমান দুরবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ধানের মৌসুমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। প্রায় সাড়ে সাতশো টাকায় ধান বিক্রি করতে হচ্ছে, অথচ উৎপাদন খরচ—সার, তেল ও শ্রমিকের মজুরি—সবই বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এক মণ ধান বিক্রি করে একজন শ্রমিকের মজুরিও পরিশোধ করা যাচ্ছে না। সরকারের ধান-চাল ক্রয়মূল্যও গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি না পাওয়ায় কৃষকরা হতাশ।
তিনি বলেন, ঢাকায় বসে নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রভাব সরাসরি গ্রামাঞ্চলের কৃষকদের ওপর পড়ে। তাই মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা জানা অত্যন্ত জরুরি, যা জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমেই সম্ভব।
এমপি আরও জানান, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে সুপারিশপত্রের অভাবে অগ্রগতি থেমে থাকে। এসব ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়া হচ্ছে, যাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সহজে সরকারি সহায়তা পায়।
এছাড়া সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনেও তিনি কাজ করছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, অনেকেই জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) ভুল তথ্যের কারণে বিভিন্ন সেবায় ভোগান্তির শিকার হন। এসব ক্ষেত্রে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, একটি “জনসেবা সেন্টার” চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে মানুষ বিভিন্ন সেবা ও পরামর্শ পাবে। ইতোমধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে কিছু কার্যক্রম শুরু হয়েছে, বিশেষ করে চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া রোগীদের সহায়তায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সবশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও জবাবদিহিতার এই চর্চা শুধু তার এলাকায় নয়, সারা দেশে প্রতিষ্ঠিত হলে একটি সুন্দর, দায়িত্বশীল ও জনমুখী রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।
মতবিনিময়ে উপজেলার প্রায় দুই শতাধিক মানুষের কথা শোনেন সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এবং সেগুলো সমাধানের আশ্বাসও দেন।
৪৪ মিনিট আগে
৪৫ মিনিট আগে
৪৭ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে