নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা ও পৌরসভা ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে নানা গুঞ্জন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে জোর আলোচনা চলছে—সেনবাগ উপজেলা ছাত্রলীগের একাধিক সাবেক নেতা ও সক্রিয় কর্মী নাকি এবার ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবিতে জায়গা পেতে যাচ্ছেন। এ নিয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও উদ্বেগ।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সম্প্রতি সেনবাগ উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই “দলবদলকারী” কিছু মুখকে নিয়ে গোপন দৌড়ঝাঁপ চলছে। অভিযোগ উঠেছে, বিগত সময়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকা কয়েকজন ব্যক্তি এখন ছাত্রদলের ব্যানারে সক্রিয় হয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। ফেসবুকে অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী স্ট্যাটাস দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তাদের দাবি, যারা দীর্ঘদিন মামলা-হামলা, নির্যাতন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও ছাত্রদলের রাজনীতি করেছেন, তাদের মূল্যায়ন না করে “সুবিধাবাদীদের” নেতৃত্বে আনা হলে সংগঠনের আদর্শিক ভিত্তি ধ্বংস হয়ে যাবে।
স্থানীয় কয়েকজন ছাত্রদল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “যারা একসময় ছাত্রলীগের মিছিল-মিটিংয়ে সামনের সারিতে ছিল, এখন তারাই ছাত্রদলের পদ পাওয়ার চেষ্টা করছে। এতে ত্যাগী নেতারা হতাশ হয়ে পড়ছেন।”
তবে অপর একটি পক্ষ বলছে, রাজনীতিতে পরিবর্তন আসতেই পারে। কেউ অতীতের ভুল থেকে বের হয়ে নতুন রাজনৈতিক আদর্শে কাজ করতে চাইলে তাকে সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে সেই সুযোগ দিতে গিয়ে যেন প্রকৃত ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন না করা হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, এর আগেও সেনবাগ ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। ২০২২ সালে ঘোষিত এক আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে অভিযোগ ওঠে যে সেখানে বিবাহিত, প্রবাসী এমনকি ছাত্রলীগের কর্মীদেরও পদ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন পর্যন্ত করেছিলেন পদবঞ্চিত নেতারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেনবাগে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে বহিষ্কার, পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও সাংগঠনিক দ্বন্দ্বের কারণে স্থানীয় রাজনীতিতে অস্থিরতা আরও বেড়েছে।
এদিকে সেনবাগের সাধারণ নেতাকর্মীদের প্রশ্ন—ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের বাদ দিয়ে যদি বিতর্কিত ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সংগঠনের সাংগঠনিক শক্তি কতটা টিকে থাকবে?
এ বিষয়ে এখনো জেলা বা কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা—সেনবাগ ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা হলে হয়তো বেরিয়ে আসবে বহু অজানা তথ্য ও অন্তর্দ্বন্দ্বের চিত্র।
১২ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
১৮ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
১৯ ঘন্টা ৪ মিনিট আগে
২০ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে
২২ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে
২২ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
২২ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে
২২ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে