ইসরায়েলের সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকোট এমইএস কনভেনশন হলে এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের নবীনদের বরন ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত ‎ ‎বিষের ছোবলে বিপর্যস্ত সুন্দরবন, অপরাধ দমনে ১৩৫ জনের তালিকা ২৪ আমাদের আমাদের করতে থাকলে কারোরই থাকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম এআই সিনেমায় সিনথিয়া! জিয়া পরিবার ঐক্যের রাজনীতিতে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর সদস্যপদ স্থগিত করল অভিনয়শিল্পী সংঘ আধুনগর ইউপি চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দীনের বরখাস্তের আদেশ স্থগিত মঙ্গল দীপ জ্বেলে পালিত হলো শ্মশান দীপাবলী উৎসব মিরসরাইয়ে উইজডম ন্যাশনাল ক্যাডেট একাডেমির প্রসপেক্টাস উন্মোচন আদমদীঘিতে জুয়ার আসর থেকে ৫ জুয়াড়ি গ্রেফতার আদমদীঘিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ নন্দীগ্রামে মেধা মূল্যায়নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে কৃষক পরিবারকে বিরোধপূর্ণ পৈতৃক বসতভিটা দখল দিলেন বিচারক জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি ও স্থানীয় অভিযোজনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে কপ৩১-এ অংশ নিচ্ছে লিডার্স সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৭ বাংলাদেশী নিহত নাঙ্গলকোটে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা কুলিয়ারচরে ৭ নভেম্বর উপলক্ষ্যে বিএনপির র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্রের বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী জাবিপ্রবিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে ৫ শিক্ষক নিয়োগ, ইউজিসির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে দেওয়া হচ্ছে বেতন

বানিয়াচংয়ে বিদ্যুতের লুকোচুরিতে কদর বাড়ছে হাতে তৈরী পাখার

বৈশাখের তপ্ত রোদ আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত। এর ওপর পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুত বিভ্রাট। যান্ত্রিক পাখার বাতাস যখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই সাধারণ মানুষের পরম বন্ধু হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্র্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হাতের তৈরি পাখা। বানিয়াচং উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে এখন বাঁশের তৈরী, বেতের তৈরী, সুতোর পাখা আর কাপড়ের পাখার চাহিদা তুঙ্গে। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ঘরে ঘরে ফিরছে এই গ্রামীণ ঐতিহ্য। বিদু্যুত না থাকাকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা এখন হাতের পাখা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের প্রশান্তি দিতে এই পাখার বিকল্প নেই। এক সময় হাতপাখা ছিল বাঙালির আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের অংশ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় তা হারিয়ে যেতে বসেছিল। কিন্তু বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি সংকট ও বিদু্যুতের এই লোডশেডিংয়ের সময়ে হাতপাখা আবারও তার প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করছে। পরিবেশবান্ধব এই পাখা কেবল শরীরই জুড়ায় না, এটি গ্রাম বাংলার লোকশিল্পকেও বাঁচিয়ে রেখেছে। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, তালপাখা, নকশি পাখা, বাশের পাখা, বেতের পাখা, এবং কাপড়ের তৈরি বাহারি পাখার পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। আজাদ নামের এক ক্রেতা বলেন, “বিদু্যুত কখন আসে আর কখন যায় তার ঠিক নেই। আইপিএস কেনার সাধ্য নাই, তাই দুইটা পাখা কিনলাম। অন্তত রাইতে শান্তিতে একটু ঘুমানো যাবে।” দীর্ঘ সময় পর এই ব্যবসায় প্র্রাণ ফিরে আসায় খুশি বিক্রেতারাও। বানিয়াচং উপজেলার কাগাপাশা বাজারের দীর্ঘদিনের পাখা বিক্রেতা নুরুল ইসলাম জানান, কারেন্টের পাখার লাইগা হাতপাখা কেউ জিগাইতও না। কিন্তু এইবার যে গরম পড়ছে আর ঘন ঘন কারেন্ট যাইতাছে, মানুষ দলে দলে পাখা কিনতে আইতাছে। আগে সারাদিনে ১০টা পাখা বেচা কষ্ট আছিল, এখন ৫০-৬০টা পাখা বেচতাছি। মাল আনলে রাইখা পারতাছি না, সবই কাইড়া নিয়া যায়। তালগাছের পাতা সংগ্রহ করা, রোদে শুকানো, তারপর নিপুণ হাতে রং দিয়ে নকশা করা সব মিলিয়ে দম ফেলার সময় নেই কারিগরদের। একজন প্রবীণ কারিগর কানুু দাস জানান, এইবার পাইকারি দরে অনেক পাখা বিক্রি করছি, কারিগররা দিনরাত কাজ করতাছে। তিনি আরো জানান, চাহিদা বাড়ার কারণে গত বছরের তুলনায় পাখার দাম কিছুটা বেড়েছে। আকার ও নকশা ভেদে প্রতিটি তালপাখা ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং সুতোর নকশা করা পাখা ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেবল গ্রাম নয়, শহর থেকেও পাইকাররা এসে পাখা নিয়ে যাচ্ছেন। ব্যবসয়ী আকরাম হক জানান, লোডশেডিং আর প্রচন্ড তাপপ্রবাহের হাত থেকে বাঁচতে সাময়িকভাবে হাতের পাখা স্বস্তি দিচ্ছে সত্য, তবে জনজীবনের স্বাভাবিক গতি ফেরাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদু্যুতের বিকল্প নেই। একই সাথে আমাদের দেশীয় এই হস্তশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন বলে মনে করি।
Tag
আরও খবর