রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:
রায়পুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠেছে। সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে নিজের খেয়াল খুশিমতো অফিসে আসা যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। এরই মাঝে বিভিন্ন প্রকল্পে রমিজ উদ্দিনের অনিয়মের বিষয়গুলো নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এতে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ৩৬টি ওয়াশব্লকের কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ঠিকাদারদের সঙ্গে বিলের টাকা ভাগবাঁটোয়ারা করে নিয়েছেন এই উপ-সহকারী প্রকৌশলী। টুইন পিট ল্যাট্র্রিন প্রকল্পে ও আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল, গভীর নলকূপসহ বিভিন্ন প্রকল্পের নামমাত্র কাজ দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। গত প্রায় ২ বছর ধরে উপজেলা ও ইউপি চেয়ারম্যান না থানায় উপজেলাজুড়ে নলকূপ বরাদ্দের নামে চলছে ব্যাপক অনিয়ম হরিলুট। সরকারি কোন নীতিমালা না মেনে টাকার বিনিময় বেশির ভাগই সচ্ছল ও প্রভাবশালী ব্যক্তি নলকূপ দেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের যৌথ হরিলুটে যেমন ইচ্ছা তেমন করে স্থাপন করছে গভীর নলকূপগুলো। মিনি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজ শুরু করে বছরের পর বছর ফেলে রাখা হয়েছে। মানা হয় না কোন নিয়ম-নীতি। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণ কাজ পড়ে থাকায় ভোগান্তিতে পড়ে সুবিধাভোগীরা। বর্তমানে ওই প্রকল্পটি জনগণের কোনো কাজেই আসছে না। সবমিলিয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের বর্তমান অবস্থা হযবরল। গত ৪ বছর ধরে একই স্টেশনে থেকে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে তিনি অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন।
কেরোয়া ইউনিয়নের সমাজ সেবক শাহআলম বলেন, আমাদের কেরেয়ো এলাকার নলকূপের লিস্টকৃত তালিকায় নাম থাকার পরে বহু কল তিনি এখন স্থাপন করেনি। পরে জানতে পারি অতিরিক্ত টাকার বিনিময় নলকূপগুলো অন্যত্র বিক্রি করে দেয়। তিনি পার্শ্ববতী রামগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় কোন নিয়ম-নিতীর মনে না। এছাড়াও দীর্ঘ বছর এই কর্মস্থানে থানায় নিজেদের খেয়াল খুশিমতো সব করে থাকেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপজেলার মধ্যে এ বিভাগটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কিন্তু উপ-সহকারী প্রকৌশলী রমিজ উদ্দিনের অনিয়মের কারণে কর্মচারীরাও অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। ফলে কার্যক্রম স্থবির হয়ে রয়েছে। ওয়াশ ব্লকের কাজ এখন পর্যন্ত সমাপ্ত দেখালেও ২০২২-২৩ অর্থ বছর থেকে শুরু হওয়া কাজের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লক এখনো আলোর মুখ দেখেনি। উনি নিজেই ঠিকাদারী কাজের তদারকী করায় সব মিলে নয়ছয় করে কাজ সমাপ্তি করে।
প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ওয়াশব্লক নির্মাণসহ নানা প্রকল্পের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। বিভিন্ন প্রকল্পের অনিয়মের বিষয় একাধিক বার তথ্য চাইলে তিনি সময় কালক্ষেপণ করেন। কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত না থাকার অস্বীকার করে উপ-সহকারী প্রকৌশলী রমিজ উদ্দিন সর্বশেষ বলেন, ওয়াশ ব্লকসহ সব প্রকল্পে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করে আসলে তারপর তথ্য দিবেন। নয়তো তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়। গত তিন দিন ধরে ওই অফিসে গেলেও তিনি অফিসে না থানায় কর্মচারীরা আবেদন নিতে রাজি হয়নি। তবে তিনি বেশি ভাগ সময় থাকেন অফিসারে বাহীরে। ফোনেও পাওয়া যায়না উনাকে। তবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ র্দীর্ঘদিনের।
এ ব্যাপারে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, কোন কাজের ব্যাপারে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমাকে এখনও কিছু জানাননি। আমি নিজেও তার কাছে থেকে কোন তথ্য চাইলে সময় মত পাচ্ছি না। অনেক বিষয় উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত না করার বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক স্যারকে জানানো হয়েছে।
১ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৮ মিনিট আগে