সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় সরকারি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণকাজে বাধা প্রদান, চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতেও অনুরূপ অভিযোগ থাকায় বিষয়টি এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগে অভিযুক্ত হাজী মোঃ নজরুল ইসলাম বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মোঃ জালাল উদ্দিন শ্যামনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণকাজ চলছিল।
প্রকল্পের জন্য জেলা প্রশাসন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের অনুমোদিত সরকারি জমিতে সিসি ব্লক প্রস্তুত এবং ভারী যন্ত্রপাতি রাখা হয়। গত ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া কাজ ১০ এপ্রিল পর্যন্ত নির্বিঘ্নে চললেও ওই দিন রাতে নজরুল ইসলাম কয়েকজন সহযোগী নিয়ে এসে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ভারী যন্ত্রপাতি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। পরবর্তীতে ১৪ এপ্রিল সকালে তিনি ৩০ থেকে ৪০ জন লোক নিয়ে পুনরায় প্রকল্প এলাকায় গিয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধরের হুমকি দেন। এ সময় স্কেভেটরের চালক ও সহকারীকে জিম্মি করে নির্মিত বাঁধের একটি অংশ ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।
বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতার কারণে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখেছেন এবং প্রকল্পের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদুর রহমান জানান, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মোঃ নজরুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, সরকারি সামাজিক বনায়নের জমিতে অবৈধভাবে ব্লক নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। পরিবেশ রক্ষার স্বার্থেই তিনি বাধা দিয়েছেন। এছাড়া পূর্বের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের ৮ মার্চ একই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও কাজ বন্ধের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছিল আর রাদ করপোরেশন। সে সময়ও ১২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মালামাল লুটপাট এবং আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ তোলা হয়েছিল এবং থানায় লিখিত অভিযোগসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে আবেদন করা হয়।
একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বারবার একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এই গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ নির্মাণকাজ দীর্ঘমেয়াদে ব্যাহত হতে পারে।
৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
১৭ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে
১৭ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে