পাটকে বলা হয়ে থাকে “সোনালি আঁশ”।পাট শুধু একটি কৃষিপণ্য নয়, এটি দেশের অর্থনীতি, ঐতিহ্য ও গ্রামীণ জীবনের প্রাণস্পন্দন। দেশের ‘সোনালি আঁশ’খ্যাত এই পাটকে ঘিরেই মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা-এর কৃষকদের প্রধান নির্ভরতা গড়ে উঠেছে। এ উপজেলায় চলতি মৌসুমের মোট কৃষিজমির ৭০ শতাংশের বেশি জমিতে পাট চাষ হয়ে থাকে। তবে মৌসুমের শুরুতেই জ্বালানি তেলের সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পাট চাষিরা।
উপজেলার অধিকাংশ কৃষিজমি দ্বিফসলা হওয়ায় রবি মৌসুমে পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়া ও সরিষা চাষ শেষে এখন শুরু হয়েছে পাট ও ধানের মৌসুমের প্রস্তুতি। যদিও ধানের আবাদ তুলনামূলক কম, প্রতিবছরের মতো এবারও অধিকাংশ কৃষক পাট চাষের দিকেই ঝুঁকেছেন। বর্তমানে জমি প্রস্তুতের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
কিন্তু জমি চাষের জন্য প্রয়োজনীয় পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে চাষের খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। এতে সময়মতো জমি প্রস্তুত করা নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
পাওয়ার টিলার মালিক রেজাউল করিম মোল্লা বলেন, “কৃষি কর্মকর্তার স্লিপে দিনে মাত্র ৫ লিটার তেল পাওয়া যায়। সেটার জন্যও পাম্পে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তাও প্রতিদিন তেল পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে ২০০ টাকা লিটার দরে তেল কিনতে হচ্ছে। এখন প্রশাসনের অভিযানের কারণে সেটাও পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে।”
একই ধরনের অভিযোগ তুলে পাওয়ার টিলার মালিক শফিকুল মাদবর বলেন, প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল প্রয়োজন, তার এক-তৃতীয়াংশও স্লিপে পাচ্ছি না। তাছাড়া দীর্ঘ সিরিয়াল তো আছেই। বাধ্য হয়ে বেশি দামে খোলা বাজার থেকে তেল কিনতে হচ্ছে, এখন সেটাও পাওয়া যাচ্ছে না।”
স্থানীয় কৃষকরা জানান, পেঁয়াজ ও রসুন চাষে আগেই বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। এখন তেলের কারণে জমি চাষের খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। পাটের ন্যায্যমূল্য না পেলে তাদের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “পাট চাষের জন্য কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে আমরা কাজ করছি। জ্বালানি তেলের বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ের একটি ইস্যু। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কৃষকদের ভোগান্তি কমানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সময়মতো আবাদ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
সচেতন মহলের মতে, দেশের কৃষি ও কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সহজলভ্য মূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না করা হলে কৃষকদের আগ্রহ কমে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে দেশের কৃষি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
১ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে