দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ১৫ জেলায় ঝড়ের আভাস চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী মেসির ডাবলে বিশ্বকাপের নকআউটে আর্জেন্টিনা বৈষম্য দূর করে শিক্ষাকে আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী বাঘায় বিশাল গাঁজার তাজা গাছ সহ একজন আটক রায়পুরে ৫ কিলোমিটার সড়ক এখন মরণফাঁদ, দেখার কেউ নেই শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত পলাশে বিএসটিআই এ-র অভিযান - ২০ হাজার টাকা জরিমানা ৪ বোতল কোরেক্স উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ পলাশে ছোট তারগাঁও সর: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত শ্যামনগরে প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ প্রতিরোধে অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা আ.লীগের অপতৎপরতা রুখতেই সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এনআইডি সংশোধনের সহজ উপায়ের খোঁজে ইসি শান্তিগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় অনিয়ম প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সংবাদ সম্মেলন প্রক্সি দিয়ে পরীক্ষায় পাস, চাকরিতে যোগ দিতে এসে আটক ২ বুডিরচর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেন মো: হ্যাপি ঈশ্বরগঞ্জ অগ্রণী ব্যাংকে আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত সারিয়াকান্দিতে পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টা, গাছ কেটে প্রাচীর ভাঙচুর নোয়াখালীর ভুয়া র‍্যাব গ্রেপ্তার উলিপুরে ৪৯ জন শিক্ষার্থীকে ফুলের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

সেনা চলে যেতেই মাথাচাড়া দেওয়ার আশঙ্কা অপরাধীদের




সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে করে স্থানীয় জনমনে স্বস্তির পরিবর্তে চরম উদ্বেগ, নিরাপত্তাহীনতা এবং অনিশ্চয়তার ছায়া নেমে এসেছে।

রবিবার (৫ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ৮টার পর ৩৭ বীর ইউনিটের ক্যাপ্টেন মোঃ সাজিদের নেতৃত্বে ৫৪ জন সেনাসদস্য কালিগঞ্জ সরকারি পলিটেকনিক্যাল কলেজে স্থাপিত ক্যাম্প গুটিয়ে যশোর সেনানিবাসের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। নির্বাচনের প্রায় ৫১ দিন পর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সময়জুড়ে পরিচালিত সফল অভিযান শেষে এই প্রত্যাহার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেনাবাহিনীর উপস্থিতিকালে কালিগঞ্জে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক সহিংসতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন পর স্বস্তিতে চলাফেরা করতে পেরেছিল।

কিন্তু সেনাবাহিনী চলে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, সুযোগসন্ধানী ও অপরাধী চক্র আবার সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদগুলোতে রাতের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে শঙ্কা বাড়ছে।

কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ডা. শফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল অনবদ্য। এই মুহূর্তে তাদের প্রত্যাহার কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। একটি সুবিধাবাদী চক্র আবার সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তারা এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ নিতে পারে। আরও কিছুদিন সেনাবাহিনী থাকলে এই অশুভ শক্তিকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা সম্ভব হতো।


অন্যদিকে, বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আলম জানান, সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় ছিল। তবে সেনাবাহিনী চলে যাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ইউএনও এবং পুলিশ সম্মিলিতভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তবে সাধারণ মানুষের একাংশ পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। তাদের অভিযোগ, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি অপরাধীদের উৎসাহিত করতে পারে। এ কারণে তারা দ্রুত পুলিশি টহল বৃদ্ধি, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসীর মতে, সেনাবাহিনী যে নিরাপদ পরিবেশ বা ‘সেফ জোন’ তৈরি করে দিয়ে গেছে, তা ধরে রাখা এখন প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। যদি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে কালিগঞ্জ আবারও অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

সার্বিকভাবে, সেনাবাহিনীর প্রত্যাহারের পর কালিগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এখন প্রশাসনের সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতার বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Tag