সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ঘোড়াপোতা মোড়ে অবস্থিত নলতা ডায়াবেটিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি উঠেছে। ভুক্তভোগী রোগী জাফরিন আক্তার ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দেবহাটা উপজেলার ঘোনাপাড়া গ্রামের ওমর ফারুকের স্ত্রী জাফরিন আক্তার প্রসব ব্যথা নিয়ে গত ১৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে খণ্ডকালীন চিকিৎসক ডা. নাসরিন নাহার ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে অনুমোদনবিহীন অপারেশন থিয়েটারে সিজার অপারেশন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অপারেশনের পর থেকেই রোগীর ক্ষতস্থানে মারাত্মক সংক্রমণ দেখা দেয়। পরবর্তীতে ১৭ ডিসেম্বর আবারও হাসপাতালে নিয়ে গেলে দ্বিতীয়বার অপারেশন করা হয়। কিন্তু তাতেও অবস্থার উন্নতি না হয়ে আরও অবনতি ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে চিকিৎসা না দিয়ে রোগীর সাথে দুর্ব্যবহার করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এ অবস্থায় রোগীর জীবন রক্ষার্থে তাকে সাতক্ষীরার বুশরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শরিফুল ইসলাম পুনরায় অপারেশন করে আগের চিকিৎসায় গুরুতর ত্রুটি ছিল বলে জানান।
ঘটনার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে পরিচালক মিলন হোসেন দায় এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। যদিও তিনি দাবি করেন, চিকিৎসা বাবদ রোগীর স্বামীকে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে এ দাবি অস্বীকার করে রোগীর স্বামী ওমর ফারুক বলেন, তারা কোনো টাকা পাননি।
এ ঘটনায় গত ২৮ জানুয়ারি সাতক্ষীরার সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এর প্রেক্ষিতে ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ডালিয়া আক্তার সাথীকে প্রধান করে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অসংগতি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে, অভিযুক্ত চিকিৎসককে রক্ষার জন্য প্রভাবিত হয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। প্রতিবেদনে গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসার কথা উল্লেখ করা হলেও এর কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. নাসরিন নাহার বলেন, আমার জুনিয়র কোনো ডাক্তার কিভাবে আমার বিষয়ে তদন্ত করে? অন্যদিকে তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. ডালিয়া আক্তার সাথী জানান, তিনি তার প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন, বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে।
এদিকে অনুমোদনবিহীন হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে একই চিকিৎসকরা চেম্বার করা এবং পরে সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেই তদন্ত করা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ঘুষের বিনিময়ে তদন্তকে প্রভাবিত করা হয়েছে। এর আগেও এই হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নলতা ডায়াবেটিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের প্রকৃত মালিকানা নিয়েও এলাকায় নানা গুঞ্জন রয়েছে।
৫ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ৩৭ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
১৩ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে
১৮ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে
১৯ ঘন্টা ০ মিনিট আগে