ক্ষেতলালে উৎসবমুখর পরিবেশে বারুণী স্নান ও গঙ্গাপূজা
ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি :
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ত্রয়োদশ গঙ্গাপূজা ও বারুণী স্নানোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) উপজেলার তুলসীগঙ্গা নদীর বিলেরঘাটে এই পুণ্যস্নানের আয়োজন করা হয়।
ভোর থেকেই স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত পুণ্যার্থী তুলসীগঙ্গা নদীর তীরে সমবেত হতে থাকেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, চৈত্র মাসের এই বিশেষ তিথিতে গঙ্গাস্নান করলে জীবনের যাবতীয় পাপ, গ্লানি ও দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
আয়োজক কমিটির সদস্যরা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও বিলেরঘাটে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পূজা-অর্চনা শেষে পুণ্যার্থীরা নদীতে স্নান করেন। অনেকে পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় তর্পণও করেন।
তারা আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি এই তিথিতে গঙ্গা স্নান করে একমনে ক্ষমা প্রার্থনা করলে ঈশ্বর সব পাপ ক্ষমা করে দেন। তাই প্রতিবছরই এখানে লোকসমাগম বাড়ছে।”
শাস্ত্রীয় বর্ণনা অনুযায়ী, স্কন্দ পুরাণে উল্লেখ আছে—চৈত্র মাসের কৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে শতভিষা নক্ষত্রের যোগ হলে তাকে ‘বারুণী’ বলা হয়। সনাতন ধর্মমতে, হিমালয় কন্যা গঙ্গার অপর নাম বারুণী। এই তিথিতে স্নান করলে শত সূর্যগ্রহণের গঙ্গাস্নানের সমান পুণ্য লাভ করা যায় বলে হিন্দু ধর্মগ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্নানোৎসবকে কেন্দ্র করে নদীর তীরে এক ছোটখাটো মেলার আয়োজন হয়েছে। স্থানীয়দের অংশগ্রহণে পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। উৎসবটি নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।