◼️তানভীর আহমেদ রাসেল : জাতি হিসেবে আমাদের নামে নানা অভিযোগ। বলা হয় আমরা অসভ্য, অসামাজিক, বর্বর। বলা হয় আমরা দেশের প্রচলিত আইন মানি না, অন্যের সুবিধা-অসুবিধা ভাবি না, দেশের প্রতি ভালোবাসার স্লোগান দিলেও তা লালন করি না। প্রশ্ন হলো, সত্যিই কি আমরা এমন? উত্তরটা একটু পরে দিচ্ছি।
ফেসবুকের নিউজফিডে প্রায়ই ভেসে আসে কুমিল্লায় এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর নির্বাচনী প্রচারণার খবর। হাসনাতের মতো একজন সৎ ও সাহসী পাঞ্জেরীকে পেয়ে মানুষের উৎসাহ চোখে পড়ার মতো। ধনী-গরিব, বৃদ্ধ-যুবক, এমনকি শিশুরাও যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে আর্থিক সহযোগিতা দিতে এগিয়ে আসছে। যেখানে তথাকথিত ভণ্ড নেতারা বিরিয়ানি দিয়ে জোর করে লোক জড়ো করতেও হিমশিম খায়, সেখানে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ একেবারেই ভিন্ন ছবি আঁকে।
মাদ্রাসার কোমলমতি শিশুরা আতর ও মিসওয়াক হাতে তাদের প্রিয় পাঞ্জেরীকে বরণ করে নিচ্ছে। সেই দৃশ্য দেখে হাসনাতের চোখে জল এসে যায়। আবার দেখা যায়, সত্তরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ শীতের পিঠা ভর্তি একটি প্লেট হাতে দৌড়ে এসে বলেন, “আপনার চাচী আপনার জন্য পিঠা পাঠিয়েছেন।” এই নিখাঁদ ভালোবাসা কোনো ক্ষমতার জন্য নয়, কোনো লোভের জন্য নয়। এই ভালোবাসা একজন সৎ, যোগ্য ও নির্ভীক নেতার প্রতি, যার মধ্যে মানুষ খুঁজে পায় সততা, নিষ্ঠা ও কর্তব্যপরায়ণতা।
যুগের পর যুগ এ দেশের আপামর মানুষের সঙ্গে রাজনৈতিক দল ও তাদের নির্বাচিত নেতারা প্রতারণা করে এসেছে। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকে তারা সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে রাষ্ট্র পরিচালনার যন্ত্রকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। সীমাহীন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে শোষণ করা হয়েছে বছরের পর বছর। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, রাস্তা-ঘাটসহ নানা স্থাপনার নামে কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ আনা হয়েছে। স্থাপনা নির্মাণও হয়েছে, কিন্তু নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে সেই অর্থকে বাণিজ্যে পরিণত করা হয়েছে হাজার কোটি টাকায়। তাদের লালিত বাহিনী পাড়া-মহল্লা ও অলিগলিতে চাঁদাবাজি করেছে, মানুষের উপর চালিয়েছে নির্মম আচরণ। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারকে হরণ করা হয়েছে।
ব্রিটিশরা দুইশ বছরে যা করতে পারেনি, এ দেশের স্বার্থান্বেষী, বিশ্বাসঘাতক ও প্রতারক কিছু সংখ্যক নেতারা মাত্র চুয়ান্ন বছরেই তা করে ফেলেছে। ফলে অতিষ্ঠ জনসাধারণ এই বাস্তবতা থেকে মুক্তি চায়। তারা এমন নেতৃত্ব চায় যারা দলের চেয়ে মূল্যবোধে বিশ্বাসী; যারা ক্যামেরার সামনে নয়, বাস্তবে জনতার পাশে দাঁড়ায়; যারা সংখ্যার পক্ষে নয়, নীতির পক্ষে অবস্থান নেয়। মানুষ এমন নেতা চায়, যিনি সাধারণ মানুষের চোখের পানির মূল্য বোঝেন, সাধারণকে নিজের কাতারে রেখে সম্মান করেন। যারা দাসত্ব, গোলামি ও শো-আপের রাজনীতির বিপরীতে কাজ করেন। সাধারণ মানুষ পোস্টারনির্ভর রাজনীতির অবসান চায়, অমুক ভাই-তমুক ভাই নামের মুখরোচক অর্থহীন স্লোগানের বিলোপ চায়। তারা সাম্য ও ইনসাফের বাংলাদেশ দেখতে চায়।
এই আকাঙ্ক্ষারই প্রতিচ্ছবি হলো হাসনাতের মতো যোগ্য নেতৃত্বের প্রতি মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন। এখানেই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে। আমরা অসভ্য নই, আমরা বর্বর নই। আমরা কেবল সৎ নেতৃত্বের অপেক্ষায় থাকা এক অবহেলিত ও বিবেকবান জাতি।
লেখক : তানভীর আহমেদ রাসেল
সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ তরুন কলাম লেখক ফোরাম, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখ।
৭ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ১ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
১২ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
২ দিন ৫ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
২ দিন ৭ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
২ দিন ৮ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে