রোটার‍্যাক্ট ক্লাব অব রাজশাহী ইউনিভার্সিটির নেতৃত্বে ওয়াসিফ-তামিম ‎সুন্দরবনের তলদেশে সুপেয় পানির বিশাল ভাণ্ডার: উপকূলীয় সংকটে নতুন আশার সঞ্চার জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হলো শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ : প্রধানমন্ত্রী গোয়ালন্দে অভিযানে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও ৫৮টি চায়না দুয়ারী জব্দ, জেলে আটক রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় বৃদ্ধ গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় বাংলাদেশ নৌ-পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের অফিস উদ্বোধন, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল নাসিরনগরে প্রান্তিক পেশাজীবীদের মাঝে অনুদান বিতরণ দেশের ৫ বিভাগে ৬ মাসের মধ্যে চালু হচ্ছে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নাগেশ্বরীতে বৃদ্ধাকে টিনেরঘড় নির্মাণ করে দিল মানবতার ডাক সামাজিক ফাউন্ডেশন রায়পুরে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা ২০২৬ শুরু বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ডিএমপি বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও কমলো চৌদ্দগ্রাম চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত সোনাইমুড়িতে ইয়াবা সহ আটক ২ গোয়ালন্দে মিলের বাউন্ডারি করতে অসহায় ৪টি পরিবারের বসতবাড়ি উচ্ছেদের চেষ্টা সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা চিলমারীতে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে আহত ২জন, প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত। জাবিপ্রবির নতুন উপাচার্যের সঙ্গে সাংবাদিক সমিতির মতবিনিময় জাতীয় চা দিবসে উৎপাদনে শ্রেষ্ঠ কমলগঞ্জের শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগান, শনিবার শ্রীমঙ্গলে ষষ্ঠ জাতীয় চা দিবসে পুরস্কার পাচ্ছেন মহসিন মিয়া মধু

তানজিলার মা’ সংগ্রামের নাম, মায়ের আরেক নাম

শুধুমাত্র মায়েরাই বোধহয় সন্তানের জন্য জীবনের সবটুকু উজাড় করে দিতে পারেন। সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে নিজেকে নিঃস্ব করতেও যাঁরা দ্বিধা করেন না, তাঁদের মধ্যেই একজন হলেন চৌগাছার ‘তানজিলার মা’। নিঃশব্দ সংগ্রামের এই নারী আজ সমাজের সামনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তানজিলার বাবা মারা যান ২০০২ সালে। তখন তানজিলা ছিল খুবই ছোট, সঙ্গে ছিল তার আরও একটি ছোট ভাই। স্বামীহারা এই নারী এক মুহূর্তের জন্যও ভেঙে পড়েননি। সংসারের সমস্ত দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে শুরু করেন কঠিন জীবনযুদ্ধ। নিজের দুঃখ-কষ্টের কথা ভুলে গিয়ে একটাই লক্ষ্য স্থির করেন—যে করেই হোক, ছেলে-মেয়েকে শিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন। চৌগাছা উপজেলার অনেকেই তাঁকে চেনেন। নিয়মিত উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়ানো ছিল তাঁর নিত্যদিনের বাস্তবতা। কখনও ভাতা, কখনও প্রশিক্ষণ—যা পেয়েছেন, তাই দিয়েই সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানোর চেষ্টা করেছেন। তবে এসব সুযোগ ছিল অল্প ও অনিয়মিত। তারপরও তিনি হাল ছাড়েননি। এক সময় চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তানজিলার মাকে নিয়মিত দেখা যেত। প্রায়ই এসে বিনীত কণ্ঠে বলতেন, “মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতে পারছি না, যদি একটু সহযোগিতা করেন।” সামর্থ্যের মধ্যে থেকে তখন সহযোগিতার চেষ্টা করা হয়েছে বলেই জানা যায়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) হিসেবে যশোরে যোগদানের পরও তিনি হাল ছাড়েননি। যশোরে গিয়ে সরাসরি দেখা করে জানান, নানা জনের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে তিনি মেয়েকে অনার্স পর্যন্ত পড়িয়েছেন। বর্তমানে তানজিলা যশোরের এম এম কলেজে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। আর তার ছোট ভাই চৌগাছার একটি কলেজে পড়াশোনা করছে। এই দীর্ঘ পথচলায় তানজিলার মা কতটা কষ্ট করেছেন, কতটা অপমান, অবহেলা আর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে—তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। হয়তো ব্যক্তিগত জীবনে তিনি কেমন মানুষ, তা অনেকেরই জানা নেই। কিন্তু মা হিসেবে তিনি নিঃসন্দেহে অনন্য, অসাধারণ। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো—অসংখ্য ত্যাগ আর সংগ্রামের পর মেয়েকে মাস্টার্সে ভর্তি করাতে পারলেও এখন তাঁর আর সামর্থ্য নেই প্রয়োজনীয় বই কিংবা চাকরির প্রস্তুতির বই কেনার। জীবনের শেষ শক্তিটুকু দিয়েও তিনি আজ অসহায়। এই প্রতিবেদনটির মাধ্যমে সমাজের সচেতন ও হৃদয়বান মানুষের কাছে একটি মানবিক আহ্বান—যদি কেউ এগিয়ে এসে তানজিলার পড়াশোনার বই কিংবা চাকরির প্রস্তুতির জন্য সামান্য সহযোগিতা করেন, তবে হয়তো এই মায়ের দীর্ঘ লড়াই কিছুটা হলেও সফলতার আলো দেখবে। ‘তানজিলার মা’ কেবল একজন ব্যক্তি নন—তিনি আমাদের সমাজের হাজারো সংগ্রামী মায়ের প্রতিচ্ছবি। তাঁর গল্প আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়, মনে করিয়ে দেয়—একজন মায়ের ত্যাগ কতটা নিঃস্বার্থ আর সীমাহীন হতে পারে।
Tag
আরও খবর