আটকের ৬ ঘণ্টা পর মুচলেকা নিয়ে সাবেক ইউপি মেম্বারকে ছেড়ে দিল এসআই পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলে ছাত্রশিবিরের বৃক্ষ রোপণ ও চারা বিতরণ ত্রিমুখী সংঘর্ষে আহত ৮ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শেরপুরের ধোবারচর জাগরণী কিশোরী সংলাপ কেন্দ্রের র‍্যালি, আলোচনা সভা ও বৃক্ষচারা বিতরণ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শেরপুরের ডোবারচর জুঁই মহিলা সমবায় সমিতির উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ গলাচিপায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী-শ্বশুরবাড়ির চারজনের বিরুদ্ধে মামলা ‘তুরস্কের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ’ লাখাইয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচী। গলাচিপায় বজ্রাঘাতে কৃষকের মৃত্যু সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ রংপুরে এইচবিসি ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ঝিনাইগাতীর দুপুরিয়ায় র‍্যালি ও বৃক্ষচারা বিতরণ শেরপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বৃক্ষচারা বিতরণ বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে নালিতাবাড়ীর রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়নে বর্ণাঢ্য আয়োজন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে কারিতাসের আয়োজনে ঝিনাইগাতীতে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও নাটক প্রদর্শনী ঝিনাইগাতীতে কারিতাসের আয়োজনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন ‎বিষ, প্লাস্টিক ও শিল্পবর্জ্যের আগ্রাসনে অস্তিত্ব সংকটে সুন্দরবন: বিপন্ন জীববৈচিত্র্য শ্রীবরদীতে জুলুঙ্গা রজনীগন্ধা সংলাপ ফোরামে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উদযাপন

নিরাপত্তায় সহযোগিতা, সার্বভৌমত্বে ছাড় নয় : নিরাপত্তা উপদেষ্টা

দেশচিত্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশের সময়: 21-11-2025 09:10:36 am


বাংলাদেশ নিরাপত্তা সহযোগিতায় উন্মুক্ত, কিন্তু তা যেন দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপে রূপ না নেয়। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের (সিএসসি) জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সপ্তম সম্মেলনে বক্তৃতার সময় এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। দিল্লিতে ভারতের ফরেন সার্ভিস একাডেমি সুষমা স্বরাজ ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।


অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গত সোমবারের রায় অনুযায়ী জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে ভারতের কাছে ফেরত চাওয়া-সংক্রান্ত কূটনৈতিক নোট হস্তান্তর হয়েছে কি না এ বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য প্রকাশ করছে না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একইভাবে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দিল্লি সফর এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে তার বৈঠক নিয়েও মন্ত্রণালয় এখনও কিছু জানায়নি। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ-সংক্রান্ত প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।


সিএসসির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সপ্তম সম্মেলনে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জটিলতা মোকাবিলায় পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান, অভিন্ন স্বার্থ ও সুবিধা ভাগের নীতিতে বাংলাদেশের অঙ্গীকার সম্মেলনে পুনর্ব্যক্ত করেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ অঞ্চল গঠনে বাংলাদেশ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা কোনো অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক কারণকে অন্য কোনো রাষ্ট্র বা জনগোষ্ঠীর জন্য হুমকিতে পরিণত হতে দিতে পারি না।’ বাংলাদেশের প্রত্যাশা- সিএসসি একটি উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমান মর্যাদাভিত্তিক আঞ্চলিক বহুপক্ষীয় সংস্থা হিসেবে গড়ে উঠবে।


বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও কৌশলগত প্রভাবের ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য।


তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ যৌথ সমৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি স্বাধীন, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ভারত মহাসাগর নিশ্চিত করার পক্ষে। এই দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তি হলো জাতীয় সার্বভৌমত্ব, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি শ্রদ্ধা।


সাইবার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ড. রহমান বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রতি ভুয়া ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের হুমকির মুখে পড়েছে। তাই দেশের সাইবার স্পেস ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় বাংলাদেশ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, যাতে দেশের ভেতর থেকে কোনো কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি না করে।


এর আগে গত বুধবার ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন ড. খলিলুর রহমান। বৈঠক বিষয়ে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনের বিবৃতিতে জানানো হয়, কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের (সিএসসি) সপ্তম জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে গিয়ে ড. রহমান দোভালের সঙ্গে দেখা করেন। তারা সিএসসির কার্যক্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। ড. রহমান দোভালকে তার সুবিধামতো বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণও জানান।


কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের এমন বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার পাশাপাশি বর্তমান প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা ইস্যুটিও আলোচনায় আসা স্বাভাবিক। তবে কোন ধরনের আলোচনা হয়েছে- তা ড. খলিলুর রহমানের আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের পরই জানা যাবে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।


অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গত সোমবারের রায় অনুযায়ী জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে ভারতের কাছে ফেরত চাওয়া-সংক্রান্ত কূটনৈতিক নোট হস্তান্তর হয়েছে কি না এ বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য প্রকাশ করছে না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একইভাবে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দিল্লি সফর এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে তার বৈঠক নিয়েও মন্ত্রণালয় এখনও কিছু জানায়নি।


বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, ‘এই সংবাদ সম্মেলন থিম্পু সফরকে কেন্দ্র করে। এখান থেকে অন্য কোনো আলোচনায় যাওয়া অসৌজন্যমূলক হবে।’ সাংবাদিকরা তখন আলাদা করে চিঠি পাঠানোর প্রসঙ্গ তুললে তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক বলতে আমরা সার্ক ও বিমসটেককে বোঝাচ্ছি- আমরা আমাদের বিষয়েই থাকি।’


পরে বিকালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকেও সাংবাদিকরা একই প্রশ্ন করলে তিনি সংক্ষেপে বলেন, ‘কোনো মন্তব্য নেই।’ চিঠি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কেন গোপন রাখা হচ্ছে- সময়ের আলোর এ প্রশ্নেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি। তবে এর আগে সচিবও এ বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে কৌশলে বিরত ছিলেন।


অন্যদিকে বৃহস্পতিবার এক পৃথক সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল আরও স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের এক্সট্রাডিশনের জন্য আমরা ভারতকে চিঠি দিচ্ছি।’ তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে থাকা প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে ভারতকে তার দায়বদ্ধতা পালন করতে হবে। ‘ওনারা এখন কনভিকটেড মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত, সুতরাং আমরা মনে করি ভারতের বাড়তি দায়িত্ব রয়েছে তাদের হস্তান্তর করার জন্য,’ যোগ করেন তিনি। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্তদের দেশে ফেরাতে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সহায়তা নেওয়া সম্ভব কি না- সরকার সে সম্ভাবনাটিও বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি।


গত সোমবার জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলার রায় ঘোষণার পর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানান, ভারতের কাছে কূটনৈতিক চিঠি পাঠানো হবে- সোমবার রাতেই বা পরদিন সকালে। পরে মঙ্গলবার তিনি বলেন, চিঠি প্রস্তুত হচ্ছে এবং সে দিনই পাঠানো হতে পারে। তবে চিঠির সঙ্গে রায়ের কপি পাঠানো হবে না, একটি নোট ভার্বালের মাধ্যমেই রায়ের বিষয়টি জানিয়ে হস্তান্তরের অনুরোধ জানানো হবে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা কোনো মন্তব্য না করে নীরব অবস্থান বজায় রাখেন। সূত্র : দৈনিক সময়ের আলো 

আরও খবর