আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রধান প্রসিকিউটরের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে সশস্ত্র বাহিনীর আর কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির কোনো পরিকল্পনা নেই।
শতাধিক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।
শনিবার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে এ-সংক্রান্ত এক পোস্টে এই তথ্য জানান প্রেস সচিব।
পোস্টে শফিকুল আলম লিখেছেন, ‘আইসিটির প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে প্রতিরক্ষা বাহিনীর আর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির কোনো পরিকল্পনা নেই।’
জনগণকে গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রেস সচিব যোগ করেন, ‘এসব সাধারণ জনগণ এবং বিশেষত সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘এই বিদ্বেষপূর্ণ গুজবের উদ্দেশ্য হলো আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশকে অস্থিতিশীল করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংস্থাটির সীমান্তবর্তী ও বহিঃদেশীয় গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে সরকার সংস্কারমূলক পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।’
এর আগে ঢাকা সেনানিবাসের মেসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়াদের মধ্যে ১৫ জনকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জন কর্মরত এবং একজন এলপিআর-এ থাকা কর্মকর্তা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মামলা-সংক্রান্ত বিষয়ে সেনাবাহিনীর পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিট হয়েছে, তাদের মধ্যে ১৫ জন বর্তমানে সেনা হেফাজতে রয়েছেন। আমরা মোট ১৬ জনকে সেনা হেফাজতে আসার জন্য বলেছিলাম, তাদের মধ্যে ১৫ জন এসে হেফাজতে রয়েছেন।
তিনি জানান, একজন কর্মকর্তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি সকালে বাসা থেকে বের হয়েছেন। এরপর আর ফেরেননি। তার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তিনি মেজর জেনারেল কবির। তিনি যাতে বিদেশে চলে যেতে না পারেন, সেজন্য তৎপরতা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
মো. হাকিমুজ্জামান বলেন, সেনাবাহিনীর কাছে কারও বিরুদ্ধে গুমের ওয়ারেন্টের কোনো কপি আসেনি। সেনাবাহিনী কোনো ওয়ারেন্ট পেপার পায়নি।
তিনি বলেন, ওয়ারেন্টভুক্তদের ২২ অক্টোবরের মধ্যে আদালতে হাজির করার নির্দেশ আছে, আইনি ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে এই ওয়ারেন্ট নিয়ে। কাজেই ২২ অক্টোবর এদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার বিষয়ে আইনের ব্যাখ্যা পাওয়া সাপেক্ষে সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, গুমের শিকার হওয়া প্রতিটি পরিবারের প্রতি সেনাবাহিনী সহানুভূতিশীল। সব অপরাধের বিচারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান সেনাবাহিনী বিচার প্রক্রিয়া ও গুম কমিশনকে সহায়তা করে যাচ্ছে।
মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান বলেন, সেনাবাহিনী বিচারের পক্ষে। ইনসাফের সঙ্গে কোনো কম্প্রোমাইজ হবে না।
১০ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
১৬ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
১ দিন ৬ ঘন্টা ৭ মিনিট আগে
১ দিন ১০ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে
১ দিন ১০ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
১ দিন ১১ ঘন্টা ৩৭ মিনিট আগে
১ দিন ১২ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে