ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলার ৭নং চর-নিলক্ষীয়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম বিজয়নগর।যা সদর উপজেলার শেষ এলাকা। যুগের পর যুগ ধরে এই অঞ্চলের প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কাঁচা রাস্তার বেহাল দশা। একটুখানি বৃষ্টি বা বর্ষা নামলেই যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। রাস্তা পরিণত হয় কাদাপানির এক হাহাকারে। এমন অবস্থা সৃষ্টি হয় যে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় গ্রামের হাজারো মানুষকে।
একটুখানি বৃষ্টি বা বর্ষা নামলেই যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। রাস্তা পরিণত হয় কাদাপানির এক হাহাকারে। এমন অবস্থা সৃষ্টি হয় যে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় গ্রামের হাজারো মানুষকে।সপ্তাহে ৪-৫ দিন
ছোট থেকে বড় দূর্ঘটনা ঘটে।
তাছাড়া এই রাস্তাগুলো দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, অসুস্থ রোগী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু রাস্তাগুলো যেন তাদের অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষাকালে ছোট যানবাহন যেমন অটো, রিকশা, সিএনজি চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি হেঁটে চলাও দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। কাদায় পিছলে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও প্রায়শই ঘটে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়ে।
এই অঞ্চলে ভালো কোনো স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা কিংবা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য শহরে যেতে বাধ্য হয়। আর যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই কাঁচা রাস্তা, যা তাদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিভাবকেরা বাধ্য হয়ে সন্তানদের নিয়ে শহরে বসবাস শুরু করছেন। ফলে গ্রামে ধীরে ধীরে মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে-একটা সময় এই জনপদগুলো জনশূন্যায়ে পড়বে এমন আশঙ্কাও করছেন সচেতন মহল।
বছরে এক বা দুইবার ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সামান্য বরাদ্দে রাস্তার পাশে গর্ত করে কিছু কাদা বা মাটি ফেলা হয়। কিন্তু সে কাজও এমন নিম্নমানের যে এক বৃষ্টিতেই তা নষ্ট হয়ে পড়ে। কাজের দীর্ঘস্থায়ী কোনো পরিকল্পনা নেই, নেই টেকসই কোনো পদক্ষেপ।
এত অভিযোগ, এত আবেদন, এত প্রতিবেদন, তবুও কাজ হচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতন নাগরিকরা কাদামাটির ছবি পোস্ট করে বারবার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। স্থানীয় পত্রপত্রিকায় বহুবার সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের টনক নড়ছে না।
অথচ এই বিজয়নগর গ্রাম ময়মনসিংহ সদর উপজেলার কৃষি ফলনে বিরাট ভুমিকা পালন করে আসছে। শহরের লাগোয়া এমন গ্রামে যদি এতটা অবহেলা হয়, তাহলে দূরবর্তী গ্রামের অবস্থা কী হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত যদি এই রাস্তাগুলো পাকা না করা হয়, তাহলে একদিকে যেমন মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে, অন্যদিকে শহরমুখী মানুষের স্রোত বাড়বে। একসময় হয়তো পুরো গ্রামই জনমানবশূন্য হয়ে পড়বে। কারণ মানুষ উন্নয়ন চায়, নিরাপদ চলাচল চায়, সন্তানদের ভালো ভবিষ্যৎ চায়-আর গ্রামে সেটা মিলছে না বলেই শহরের দিকে যাত্রা।
অনেকবার এলাকাবাসী মানববন্ধন করার পরও আশ্বাস ছাড়া ফলপ্রসু কিছু হয়নি।
তাই এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে পুরো রাস্তাটি পাকা করে একটি টেকসই সড়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক। যাতে এই রাস্তায় পন্যবাহী সকল যানবাহন চলাচল ও মানুষের জীবন যাত্রা সহজ হয়।
এই রাস্তা যেন হয় গ্রামের প্রাণ, উন্নয়নের গেটওয়ে এবং মানুষের স্বস্তির একমাত্র অবলম্বন।
৫ ঘন্টা ০ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ১ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে