শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে আশাশুনি উপজেলায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। পূজা মণ্ডপগুলোতে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিমায় রংতুলি, সাজসজ্জা আর আলোকসজ্জায় দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবাই শারদীয় উৎসবকে সামনে রেখে উচ্ছ্বসিত।উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে এবার মোট ১০৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বড় থেকে ছোট প্রায় প্রতিটি মণ্ডপেই সমান উৎসাহে চলছে সাজসজ্জার কাজ। প্রতিমা তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শেষ। এখন চলছে রং করা, অলংকরণ আর সাজসজ্জার চূড়ান্ত ধাপ।স্থানীয় প্রতিমা শিল্পী উত্তম পরামান্য জানান, প্রতিমা তৈরির কাজে এবার খরচ বেড়েছে আগের তুলনায়। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক মণ্ডপকেই অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। তবে পূজার আনন্দ ভাগ করে নিতে শিল্পীরা ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করছেন।আশাশুনি পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি আমাদের সামাজিক মিলনমেলা। প্রতিটি গ্রামে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিমা সাজসজ্জা থেকে মণ্ডপ নির্মাণ—সবখানেই মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ চোখে পড়ছে।”পূজা উপলক্ষে আশাশুনির বাজারগুলোতেও কেনাকাটার ধুম পড়েছে। নতুন শাড়ি, ধুতি, অলংকার ও পূজার নানান উপকরণ কেনার ভিড়ে জমজমাট বাজার। স্থানীয় দোকানদারদের মুখে হাসি ফিরেছে।পুলিশ ও প্রশাসন জানিয়েছে, প্রতিটি মণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদ্যাপন নিশ্চিত করতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ভলান্টিয়ার ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।উপজেলার প্রতিমা শিল্পী রতন পাল বলেন, “আমরা দিন-রাত কাজ করছি। পূজা মানেই আনন্দ। সেই আনন্দ সবার ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দিতে প্রতিমায় প্রাণ ঢেলে দিচ্ছি।”গ্রামীণ মণ্ডপগুলোতে সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হবে আলোকসজ্জার ঝলকানি। ঢাকের বাজনা, ধূপ-ধুনোর গন্ধ আর ভক্তদের আনাগোনায় পূজার দিনগুলো জমে উঠবে এক অনন্য সামাজিক উৎসবে। আশাশুনির মানুষ এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে মহাষষ্ঠীর দিনের জন্য। কয়েক দিনের মধ্যেই প্রতিমা দর্শন, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও আনন্দ-উল্লাসে ভরে উঠবে গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই।
১ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে