জাবিপ্রবি প্রশাসনের উদ্যোগে ৭৫০টি 'টার্নিটিন' অ্যাকাউন্ট পাচ্ছেন গবেষক ও শিক্ষার্থীরা শিগগিরই আরব সাগর থেকে শত্রুদের হটিয়ে দেওয়া হবে: মোজতবা খামেনি সৌদি আরবে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি ও বিদ্যমান সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির ভুরুলিয়ায় বিএনপির তিন অঙ্গসংগঠনের প্রতিবাদ সমাবেশ নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ১৭১ আশাশুনির প্রতাপনগরে ১৫০ মিটার ওয়াবদা বেড়িবাঁধের বড় অংশ নদীগর্ভে ★১৪ মৌজার ৬ হাজার বিঘা মাছের ঘের-ফসলি জমি ঝুঁকিতে, আতঙ্কে এলাকাবাসী কমলগঞ্জে অভয় চরণ উচ্চ বিদ্যালয়ে সততা স্টোরের উদ্বোধন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ গ্রামাঞ্চলে ইটের বদলে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারের করতে হবেঃবন ও পরিবেশ মন্ত্রী দেশীয় প্রযুক্তিতে নৌবাহিনীর নির্মিত টাগবোট ‘টিয়াখালী-৪’ লঞ্চিং: জাহাজ নির্মাণ শিল্পে নতুন মাইলফলক ‎ বাঘায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের গুলিতে একজন গুলিবিদ্ধ শার্শায় সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বাগআঁচড়ায় বিএনপির বিক্ষোভ ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী গ্রেফতার পবিপ্রবির বরিশাল ক্যাম্পাসে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস -২০২৬ পালিত রায়পুরে বাড়ির রাস্তা বন্ধের চেষ্টা, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা শেরপুরে ‘আনসাং ওমেন নেশন বিল্ডার্স অ্যাওয়ার্ড’ বিজয়ী সমাজকর্মী রাজিয়া সামাদকে সংবর্ধনা বেগমগঞ্জে ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ১ আসামী গ্রেপ্তার শেরপুরে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা তেলের ধাক্কায় বাড়ছে কৃষি উৎপাদন খরচ বিঘাপ্রতি ব্যয় বেড়েছে, ফসলের ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় গোয়ালন্দের কৃষক গোয়ালন্দে মাদক নির্মূলে অভিভাবক সমাবেশ শিক্ষার্থীদের প্রতি অভিভাবকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস পালিত।

সভাপতি: মিলন সাধারণ সম্পাদক: তুর্কি শৈলকুপা কৃষক সংগ্রাম সমিতির থানা সম্মেলন ও কাউন্সিল


ঝিনাইদহের শৈলকুপা কৃষক সংগ্রাম সমিতির থানা সম্মেলন জাতীয় পতাকা ও সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলন করে সকালে উদ্বোধন করা হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর বুধবার উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির নেতৃবৃন্দ। কৃষক সংগ্রাম সমিতির ৯ম থানা সম্মেলনে শৈলকুপা থানা শাখার সভাপতি  মো: মিলন হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি কেন্দ্রীয় সহ সাধারন সম্পাদক বি এম শামীমুল হক ও বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সভাপতি ওলিয়ার রহমান।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে বি এম শামীমুল হক বলেন, কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে কৃষক কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি ও উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়াসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। বলতে গেলে এখনও আমাদের দেশের কৃষক প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল হয়েই তার কৃষিকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দেখা যায় উজানের পাহাড়ি ঢলের ফলে অকাল বন্যার কারণে হাওড় অঞ্চলের কৃষকদের প্রায়ই ব্যাপক ফলসহানি ঘটে থাকে। অন্যদিকে দেশের উত্তর অঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলে কখনও খরা, কখনও বন্যায় ব্যাপক ফসলহানি ঘটে থাকে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের এক ব্যাপক অংশ স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রূপ নিয়েছে। অবাধ জোয়ার-ভাটা না থাকার কারণে জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততায় আক্রান্ত হয়ে ফসল ফলানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মূল কারণ হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন এবং অপরিকল্পিত বাঁধ, ব্রিজ কালভার্ট, রাস্তাঘাটসহ নানা ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ। ভারত সরকার কর্তৃক নির্মিত ফারাক্কা ব্যারেজসহ বিভিন্ন বাঁধ, গ্রোয়েন নির্মাণ করে একতরফা পানি প্রত্যাহার ইত্যাদির ফলে দেশের অধিকাংশ নদ-নদী ভরাট হয়ে একদিকে পানিধারণ ক্ষমতা কমে গেছে, অন্যদিকে নাব্যতা হ্রাস সঙ্কটের তীব্র বৃদ্ধি করেছে।


উপরোক্ত সঙ্কটের সাথে যুক্ত হয়ে জিকে ও বিএমডিএ প্রকল্পের সেচ সুবিধা না পেয়ে কৃষকরা দিশেহারা। কুষ্টিয়ায় গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের পানির ওপর নির্ভরশীল কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরার কয়েক লাখ কৃষক। যার অংশ হিসেবে শৈলকুপার কৃষকরাও প্রয়োজনীয় সেচের পানি পায় না। গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জিকে প্রজেক্ট) পদ্মা নদীর দক্ষিণ তীরের বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক গৃহীত একটি প্রকল্প। ১৯৩ কিলোমিটার প্রধান খাল, ৪৬৭ কিলোমিটার শাখা খাল ও ৯৯৫ কিলোমিটার প্রশাখা খালের মাধ্যমে সেচ প্রকল্পের পানি কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার ১৩টি উপজেলায় সরবরাহ করা হয়। (গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প, বাংলাপিডিয়া) ফারাক্কা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা থেকে পাম্পের সাহায্যে প্রয়োজনীয় পানি উত্তোলন প্রায়ই সম্ভব হয় না, কেননা পাম্পগুলো পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে যে স্থানে বসানো হয়েছিল, সেখানে এখন আর ন্যূনতম প্রয়োজনীয় পানির স্তর থাকছে না। যা একটু থাকছে তাও সেচযন্ত্র বিকল থাকার ফলে সেচ দিতে পারে না। সুবিধার অভাবে বিপাকে কৃষক। ভূগর্ভ থেকে পাম্পের মাধ্যমে পানি তুলে সেচ দিলে যেখানে একরপ্রতি ন্যূনতম ৮-১০ হাজার টাকা খরচ লাগে, সেখানে এই প্রকল্পের পানিতে একরে সেচ খরচ পড়ত মাত্র ২ হাজার টাকা।


সম্মেলনে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বৈরাচারী খুনি শেখ হাসিনা সরকার ৫ আগস্ট '২৪ দেশ ছেড়ে ভারতে পালায়। ৮ আগস্ট ক্ষমতাসীন করা হয় মার্কিনের বিশ্বস্ত দালাল ডঃ ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে। মার্কিন তার এক দালালের পরিবর্তে আরেক দালালকে ক্ষমতায় এনে স্বীয় লক্ষ্য অর্জনে তৎপর থাকে। এ ঘটনার মধ্যে দিয়ে এদেশে মার্কিনের অবস্থান আরও অগ্রসর হয়। প্রতিপক্ষ সাম্রাজ্যবাদী চীন-রাশিয়া তাদের অবস্থান ধরে রেখে অগ্রসর হতে সচেষ্ট থাকে। এই পরিবর্তনে দুর্বল ও ক্ষতিগ্রস্থ হয় সাম্রাজ্যবাদের দালাল নয়াঔপনিবেশিক-আধাসামন্ততান্ত্রিক ভারত। মার্কিন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাম্রাজ্যবাদী শোষণ-লুণ্ঠন তীব্রতর করা এবং জনগণকে বিভ্রান্ত, বিভক্ত ও বিপথগামী করার জন্য সংবিধানসহ ব্যাপক 'সংস্কার কর্মসূচি" সামনে এনে তা কার্যকরী করতে সর্বাত্মক তৎপর। এজন্য মার্কিন নাগরিক এবং আটলান্টিক চুক্তি সংস্থার গবেষক আলী রীয়াজকে আনা হয়েছে। মার্কিন পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার কথা বলেছে। এই নির্বাচনের মধ্যদিয়ে সাম্রাজ্যবাদ বিশেষত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালাল দল বা জোটকে ক্ষমতায় আনতে তৎপর। ফলে এই নির্বাচিত সরকার বা পরবর্তীতে যে কোন নামের সরকার ক্ষমতায় আসুক এরা প্রভু সাম্রাজ্যবাদ বিশেষ করে মার্কিনের স্বার্থরক্ষা করবে।


 বক্তারা আরো বলেন, আসুন কৃষক-জনগণের জরুরি দাবি-দাওয়াসহ আশু ৭ দফা দাবি আদায়ে কৃষক-জনগণের লড়াইয়ের সংগঠন 'বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি'র পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হোন, শৈলকুপা থানা সম্মেলন সফল করুন ও বজ্রকণ্ঠে আওয়াজ তুলুন-আন্তর্জাতিক নদী আইনানুসারে গঙ্গা বা পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকারকে যথাযথ ভূমিকা নিতে হবে। অবিলম্বে আন্তর্জাতিক নদী সনদে স্বাক্ষর করতে হবে। জিকে সেচ প্রকল্পে বড়-ছোট সকল পাম্প সচল করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও কৃষকদের জমিতে যাতে সহজেই পানি পৌঁছায় তার জন্য খালগুলোর প্রয়োজনীয় ও উপযোগি সংস্কার করতে হবে। ধানসহ সকল কৃষিপণ্য ও ফসলের উৎপাদন ব্যয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ মূল্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। ভূমিহীন গরীব কৃষকের হাতে জমি ও তাদের কাজের নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। কৃষি জমি ধ্বংসের সকল কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।জাতীয় স্বার্থে মোবারকগঞ্জ চিনিকলসহ দেশের সকল কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন ও যথাযথ ব্যবস্থাপনা করতে হবে। বন্ধ প্রতিষ্ঠান চালু করতে হবে। পাটের ন্যূনতম মূল্য মণপ্রতি ৪ হাজার টাকা দিতে হবে। জনস্বার্থে সবজির সংরক্ষণাগার নির্মাণ করে সারা বছরব্যাপী সুলভমূল্যে সবজি প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। চিত্রা, বেগবতি, কুমার, নবগঙ্গা, কালি নদী, গড়াইসহ সকল নদ-নদী থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে খনন করতে হবে। কৃষকের উৎপাদিত ফসল, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি হাটে বিক্রি করার সময় অতিরিক্ত হাট তোলা/খাজনা আদায় বন্ধ করতে হবে। অবিলম্বে হাটে বাজারে হাটতোলার তালিকা টাঙ্গিয়ে দিতে হবে। একই সাথে হাট-ঘাট ইজারাপ্রথা বাতিলের দাবিতে কৃষক আন্দোলন গড়ে তুলুন। কৃষককে এনজিও ঋণের দায় থেকে মুক্ত করতে হবে। একইসাথে সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার ও সুদ মুক্ত কৃষি ঋণ দিতে হবে। গ্রাম ও শহরে রেশনিং-এর ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশে "মানবিক করিডোর" প্রদান, চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়া এবং আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধে বাংলাদেশকে মার্কিনের নেতৃত্বে পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদীদের পক্ষে আগ্রাসী যুদ্ধে সম্পৃক্ত করার ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। মার্কিনসহ সকল সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দালাল বিরোধী গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ হোন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি মিলনায়তনে কাউন্সিল অধিবেশনে মিলন হোসেনকে সভাপতি ও

সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান তুর্কিসহ ২১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি নির্বাচিত হয়। সভাপতি: মিলন

সাধারণ সম্পাদক: তুর্কি 

শৈলকুপা কৃষক সংগ্রাম সমিতির থানা সম্মেলন ও কাউন্সিল 


ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি 


ঝিনাইদহের শৈলকুপা কৃষক সংগ্রাম সমিতির থানা সম্মেলন জাতীয় পতাকা ও সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলন করে সকালে উদ্বোধন করা হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর বুধবার উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির নেতৃবৃন্দ। কৃষক সংগ্রাম সমিতির ৯ম থানা সম্মেলনে শৈলকুপা থানা শাখার সভাপতি  মো: মিলন হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি কেন্দ্রীয় সহ সাধারন সম্পাদক বি এম শামীমুল হক ও বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সভাপতি ওলিয়ার রহমান।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে বি এম শামীমুল হক বলেন, কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে কৃষক কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি ও উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়াসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। বলতে গেলে এখনও আমাদের দেশের কৃষক প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল হয়েই তার কৃষিকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দেখা যায় উজানের পাহাড়ি ঢলের ফলে অকাল বন্যার কারণে হাওড় অঞ্চলের কৃষকদের প্রায়ই ব্যাপক ফলসহানি ঘটে থাকে। অন্যদিকে দেশের উত্তর অঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলে কখনও খরা, কখনও বন্যায় ব্যাপক ফসলহানি ঘটে থাকে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের এক ব্যাপক অংশ স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রূপ নিয়েছে। অবাধ জোয়ার-ভাটা না থাকার কারণে জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততায় আক্রান্ত হয়ে ফসল ফলানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মূল কারণ হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন এবং অপরিকল্পিত বাঁধ, ব্রিজ কালভার্ট, রাস্তাঘাটসহ নানা ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ। ভারত সরকার কর্তৃক নির্মিত ফারাক্কা ব্যারেজসহ বিভিন্ন বাঁধ, গ্রোয়েন নির্মাণ করে একতরফা পানি প্রত্যাহার ইত্যাদির ফলে দেশের অধিকাংশ নদ-নদী ভরাট হয়ে একদিকে পানিধারণ ক্ষমতা কমে গেছে, অন্যদিকে নাব্যতা হ্রাস সঙ্কটের তীব্র বৃদ্ধি করেছে।


উপরোক্ত সঙ্কটের সাথে যুক্ত হয়ে জিকে ও বিএমডিএ প্রকল্পের সেচ সুবিধা না পেয়ে কৃষকরা দিশেহারা। কুষ্টিয়ায় গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের পানির ওপর নির্ভরশীল কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরার কয়েক লাখ কৃষক। যার অংশ হিসেবে শৈলকুপার কৃষকরাও প্রয়োজনীয় সেচের পানি পায় না। গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জিকে প্রজেক্ট) পদ্মা নদীর দক্ষিণ তীরের বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক গৃহীত একটি প্রকল্প। ১৯৩ কিলোমিটার প্রধান খাল, ৪৬৭ কিলোমিটার শাখা খাল ও ৯৯৫ কিলোমিটার প্রশাখা খালের মাধ্যমে সেচ প্রকল্পের পানি কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার ১৩টি উপজেলায় সরবরাহ করা হয়। (গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প, বাংলাপিডিয়া) ফারাক্কা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা থেকে পাম্পের সাহায্যে প্রয়োজনীয় পানি উত্তোলন প্রায়ই সম্ভব হয় না, কেননা পাম্পগুলো পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে যে স্থানে বসানো হয়েছিল, সেখানে এখন আর ন্যূনতম প্রয়োজনীয় পানির স্তর থাকছে না। যা একটু থাকছে তাও সেচযন্ত্র বিকল থাকার ফলে সেচ দিতে পারে না। সুবিধার অভাবে বিপাকে কৃষক। ভূগর্ভ থেকে পাম্পের মাধ্যমে পানি তুলে সেচ দিলে যেখানে একরপ্রতি ন্যূনতম ৮-১০ হাজার টাকা খরচ লাগে, সেখানে এই প্রকল্পের পানিতে একরে সেচ খরচ পড়ত মাত্র ২ হাজার টাকা।


সম্মেলনে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বৈরাচারী খুনি শেখ হাসিনা সরকার ৫ আগস্ট '২৪ দেশ ছেড়ে ভারতে পালায়। ৮ আগস্ট ক্ষমতাসীন করা হয় মার্কিনের বিশ্বস্ত দালাল ডঃ ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে। মার্কিন তার এক দালালের পরিবর্তে আরেক দালালকে ক্ষমতায় এনে স্বীয় লক্ষ্য অর্জনে তৎপর থাকে। এ ঘটনার মধ্যে দিয়ে এদেশে মার্কিনের অবস্থান আরও অগ্রসর হয়। প্রতিপক্ষ সাম্রাজ্যবাদী চীন-রাশিয়া তাদের অবস্থান ধরে রেখে অগ্রসর হতে সচেষ্ট থাকে। এই পরিবর্তনে দুর্বল ও ক্ষতিগ্রস্থ হয় সাম্রাজ্যবাদের দালাল নয়াঔপনিবেশিক-আধাসামন্ততান্ত্রিক ভারত। মার্কিন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাম্রাজ্যবাদী শোষণ-লুণ্ঠন তীব্রতর করা এবং জনগণকে বিভ্রান্ত, বিভক্ত ও বিপথগামী করার জন্য সংবিধানসহ ব্যাপক 'সংস্কার কর্মসূচি" সামনে এনে তা কার্যকরী করতে সর্বাত্মক তৎপর। এজন্য মার্কিন নাগরিক এবং আটলান্টিক চুক্তি সংস্থার গবেষক আলী রীয়াজকে আনা হয়েছে। মার্কিন পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার কথা বলেছে। এই নির্বাচনের মধ্যদিয়ে সাম্রাজ্যবাদ বিশেষত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালাল দল বা জোটকে ক্ষমতায় আনতে তৎপর। ফলে এই নির্বাচিত সরকার বা পরবর্তীতে যে কোন নামের সরকার ক্ষমতায় আসুক এরা প্রভু সাম্রাজ্যবাদ বিশেষ করে মার্কিনের স্বার্থরক্ষা করবে।


 বক্তারা আরো বলেন, আসুন কৃষক-জনগণের জরুরি দাবি-দাওয়াসহ আশু ৭ দফা দাবি আদায়ে কৃষক-জনগণের লড়াইয়ের সংগঠন 'বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি'র পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হোন, শৈলকুপা থানা সম্মেলন সফল করুন ও বজ্রকণ্ঠে আওয়াজ তুলুন-আন্তর্জাতিক নদী আইনানুসারে গঙ্গা বা পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকারকে যথাযথ ভূমিকা নিতে হবে। অবিলম্বে আন্তর্জাতিক নদী সনদে স্বাক্ষর করতে হবে। জিকে সেচ প্রকল্পে বড়-ছোট সকল পাম্প সচল করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও কৃষকদের জমিতে যাতে সহজেই পানি পৌঁছায় তার জন্য খালগুলোর প্রয়োজনীয় ও উপযোগি সংস্কার করতে হবে। ধানসহ সকল কৃষিপণ্য ও ফসলের উৎপাদন ব্যয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ মূল্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। ভূমিহীন গরীব কৃষকের হাতে জমি ও তাদের কাজের নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। কৃষি জমি ধ্বংসের সকল কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।জাতীয় স্বার্থে মোবারকগঞ্জ চিনিকলসহ দেশের সকল কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন ও যথাযথ ব্যবস্থাপনা করতে হবে। বন্ধ প্রতিষ্ঠান চালু করতে হবে। পাটের ন্যূনতম মূল্য মণপ্রতি ৪ হাজার টাকা দিতে হবে। জনস্বার্থে সবজির সংরক্ষণাগার নির্মাণ করে সারা বছরব্যাপী সুলভমূল্যে সবজি প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। চিত্রা, বেগবতি, কুমার, নবগঙ্গা, কালি নদী, গড়াইসহ সকল নদ-নদী থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে খনন করতে হবে। কৃষকের উৎপাদিত ফসল, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি হাটে বিক্রি করার সময় অতিরিক্ত হাট তোলা/খাজনা আদায় বন্ধ করতে হবে। অবিলম্বে হাটে বাজারে হাটতোলার তালিকা টাঙ্গিয়ে দিতে হবে। একই সাথে হাট-ঘাট ইজারাপ্রথা বাতিলের দাবিতে কৃষক আন্দোলন গড়ে তুলুন। কৃষককে এনজিও ঋণের দায় থেকে মুক্ত করতে হবে। একইসাথে সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার ও সুদ মুক্ত কৃষি ঋণ দিতে হবে। গ্রাম ও শহরে রেশনিং-এর ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশে "মানবিক করিডোর" প্রদান, চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়া এবং আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধে বাংলাদেশকে মার্কিনের নেতৃত্বে পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদীদের পক্ষে আগ্রাসী যুদ্ধে সম্পৃক্ত করার ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। মার্কিনসহ সকল সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দালাল বিরোধী গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ হোন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি মিলনায়তনে কাউন্সিল অধিবেশনে মিলন হোসেনকে সভাপতি ও

সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান তুর্কিসহ ২১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি নির্বাচিত হয়। কৃষক ও কৃষি সমস্যা মুলত জাতীয় সমস্যা। কৃষকের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আলোচনা করা হয় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে।

Tag
আরও খবর







6ab9269fdcd75-270926082223.webp
কৃষকরাই দেশ গড়ার যোদ্ধা: রাষ্ট্রপতি

১ দিন ১১ ঘন্টা ০ মিনিট আগে