ময়মনসিংহ বিভাগের বৃহত্তম শাল-গজারির বন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ঝিনাইগাতী বনাঞ্চল। এক সময় ঝিনাইগাতী উপজেলার বনাঞ্চলসহ পাশের নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদী উপজেলায় এলাকাভেদে মাটির ঘরই ছিল বাসস্থানের একমাত্র অবলম্বন। শীত গরমে ঘরগুলো আরামদায়ক বাসস্থান। দৃষ্টিনন্দন ঘরগুলো ঐতিহ্যও বহন করে। শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলে মাটির ঘর তৈরি করা হতো। আজ আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেই পুরোনো ঐতিহ্যের মাটির ঘর বিলুপ্তের পথে। আর্থিক সচ্ছলতা ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে মাটির ঘর নির্মাণে আগ্রহ নেই মানুষের। এক সময় উপজেলার পাহাড়ি এলাকার ধনী গরিব প্রায় প্রতিটি বাড়িতে মাটির ঘর ছিল। সরেজমিন ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ অঞ্চলের কৃষাণ-কৃষাণী ও তাদের ছেলে-মেয়েরা মিলেই অল্প কয়েক দিনেই তৈরি করতেন মাটির ঘর। মাটিগুলো কোদাল দিয়ে ভালো করে গুঁড়িয়ে নেয়া হতো। তারপর পরিমাণ মতো পানি মিশিয়ে থকথকে কাদা বানাতেন। সেই মাটি দিয়েই হয় ঘর। অল্প-অল্প করে কাদা মাটি বসিয়ে ৭ ফুট থেকে ৮ ফুট উচ্চতার পূর্ণাঙ্গ ঘর তৈরি করতে সময় লাগতো মাত্র মাস খানেক। সম্পূর্ণ হলে তার উপর ছাউনি হিসেবে ব্যবহার হয় ধানের খড়। এমনভাবে ছাউনি দেয়া হয় যেন ঝড়-বৃষ্টি কোন আঘাতেই তেমন একটা ক্ষতি করতে না পারে। কাল পরিক্রমায় বর্তমানে অর্থনৈতিক সচ্ছল পরিবারের লোকজন মাটির দেয়াল দিয়ে উপরে টিনের চালা দেন তারা। আবার ধনীদের বাড়িতে থাকতো বিভিন্ন নকশা করা দুই তালা মাটির ঘর। কারো কারো বাড়িতে শত বছরের মাটির তৈরি দু’তলা বাড়ি লক্ষ্য করা যায়। ঝিনাইগাতী উপজেলার হলদীগ্রাম এলাকার আলাল উদ্দিন জানান, তাদের বাড়িতে একাধিক মাটির ঘর ছিল। আর্থিক সচ্ছলতা এবং এলাকায় ইটভাটার কারণে বাপ-দাদার আমলের মাটির ঘরটিও ভেঙে পাকাঘর তৈরি করেছেন। তবে তাদের এলাকায় এখনও কিছু কিছু বাড়িতে মাটির ঘর রয়েছে।
১ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে