দক্ষিণ নড়াইল শিমুলিয়া মহাবিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উদযাপন ইসলামপুরে জুয়া প্রতিরোধের নতুন আইনে প্রথম মামলায় দুই যুবক কারাগারে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে শ্যামনগরে জামায়াতের গণমিছিল ও সমাবেশ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে পীরগাছায় ইসলামী আন্দোলনের দোয়া মাহফিল শ্রীমঙ্গল আইডিয়াল স্কুলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে রচনা, চিত্রাঙ্কন, আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজন জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে লালপুরে জামায়াতের গণমিছিল, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি বিগত সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণেই জ্বালানি সংকট: বাণিজ্যমন্ত্রী যে ডকুমেন্টারিতে আবু সাঈদের ছবি নেই, সেটা কোনো ডকুমেন্টারি নয় ৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে পবিপ্রবিতে প্রদর্শনী বিতর্ক অনুষ্ঠিত দেশে আরো একটি বিপ্লব আসন্ন জামায়াত আমীর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে মৌলভীবাজারে খেলাফত মজলিসের গণমিছিল ও সমাবেশ জাবিপ্রবিতে জুলাই-বিরোধী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড কর্মকাণ্ড তুলে ধরে ছাত্রশিবিরের ফেস্টুন নোয়াখালীতে প্রবাসীর স্ত্রীকে পিপ্তল ঠেকিয়ে চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তার-১ রায়পুরে প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী স্কুল এন্ড কলেজে '৩৬ শে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস' পালিত জয়পুরহাটে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৩ লালপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যু , আহত ২ ঝিনাইগাতীতে মোবাইল কোর্টে তিন প্রতিষ্ঠানে সোয়া লাখ টাকা জরিমানা শ্রীমঙ্গলে হাজী সোনা মিয়া সুরজান বিবি আলিয়া মাদ্রাসায় গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালিত *র‍্যাব-১৫ এর শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে অপহরণের শিকার ০৩ ভিকটিম উদ্ধার; অপহরণচক্রের সদস্য গ্রেফতার।* প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র স্থানীয় নেতৃত্বের কোন্দলের শিকার বিএনপির ত্যাগী ও তৃণমূলের জনপ্রিয় কাজী সোহেল

প্রচন্ড তাপদাহ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বাড়ছে খাদ্য ও পানীর সংকট

ছবি-মধুপুর বনের লহুরিয়া হরিণ প্রজজন কের্ন্দের জলাশয়ে পানি না থাকায় এভাবে বাহির থেকে নিয়ে দেয়া পানিতে জলের চাহিদা মেটাচ্ছে হরিণের দল।মধুপুর বনের লহুরিয়া হরিণ প্রজজন কের্ন্দের জলাশয়ে পানি না থাকায় এভাবে বাহির থেকে নিয়ে দেয়া পানিতে জলের চাহিদা মেটাচ্ছে হরিণে

টাঙ্গাইলের মধুপুর শালবন পৃথিবীর এক প্রাচীন পত্রঝরা অরণ্য। ‘গড়’ হিসেবে পরিচিত এই বনের আদি বাসিন্দা মান্দি (গারো) ও কোচ-বর্মণ জাতি। মান্দি ভাষায় এই বন ‘বলসাল ব্রিং’ এবং মধুপুর গড় ‘হা.বিমা’ নামে পরিচিত।

মধুপুর শালবনের অভ্যন্তরে টিকে থাকা প্রাণীকুলর অবস্থা এই তীব্র তাপদাহের কারণে মরণাপন্ন।  ত্রাহি  ত্রাহি অবস্থা বিরাজ করছে। চলছে ব্যাপক তাপদাহ। গাছপালা কমে যাওয়ায় বনের পরিবেশ আগের মতো নেই। পরিবেশ বিদ্বেষী আগ্রাসী গাছ কাটার ফলে দিন দিন পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে। দিন দিন শাল বন উজাড় হচ্ছে। আর সে সব জায়গায় সরকারের বিভিন্ন প্রজেক্টের মাধ্যমে গাছ লাগানো হচ্ছে। শাল বনের লাল মাটির মধুপুর বনের পরিবেশ সম্মত গাছ হচ্ছে শাল সেগুন, জারুল, আমলকি, হরতকি, আগরসহ নানা দেশি প্রজাতি। আজুগি গাছের আজ দেখা মেলে না। অধিক ছায়া সমৃদ্ধ গাছ হারিয়ে গেছে বনের অভ্যন্তর থেকে। ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে ফাপিয়ে উঠে বনের পরিবেশ। বনের মধ্যে সামাজিক বনায়নে বিদেশি প্রজাতির গাছ লাগানোসহ আনারসের চাষে ঝুঁকার কারণে পরিবেশ আরো বিপন্ন হচ্ছে। কারণ হিসেবে স্থানীয়রা জানিয়েছে, এসব আনারস কলাসহ বিভিন্ন ফল ফসলের বাগানে রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে পরিবেশ আরো মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শালবনের অভ্যন্তরে প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে উঠা জলাশয়গুলোও বিলীন হয়ে যাচ্ছে অধিক হারে। 

স্থানীয় ভূমি খেকোরা এসব জলাশয় ভরাট করে কৃষি রাজ্যে পরিনত করছে। জলাশয় গুলো সারা বছর পানি থাকতো। বন্যপ্রাণীরা এ বনের বাইদ জলাশয়ে জলের চাহিদা মেটাতো। গোসলকরাসহ বন্যপ্রাণীদের অবাধ বিচরণ লক্ষ করা গেছে। এখন জলাশয়গুলো ভরাটের ফলে এখন আর সারা বছর পানি পাওয়া যায় না। যার ফলে পানি সংকটে কষ্ট করছে বন্যপ্রাণীরা। বনের খাদ্য বৈচিত্র কমে যাচ্ছে। জলাশয় বিলীন হচ্ছে। গাছপালা কমে যাওয়ার ফলে বনের পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে। এসময়ে দেশে চলমান তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে কষ্টের মাত্রা বেড়ে গেছে প্রাণীকূলে। 

গাছাবাড়ি গ্রামের আব্দুস ছাত্তার (৪৩) জানান, মধুপুর বনের অভ্যনÍরে চৌরাবাইদ, মুনারবাইদ,  গুইলমারি, জিকুশি, শইলমারি, দিগলাকোনাসহ অনেক জলাশয় ছিল। সারা পানি থাকত। বনের পশুপাখিরা গোসল করত। পানি পান করত। এখন এসব বাইদ বা জলাশয় ভরাট ও খনন করে চাষাবাদ করা হচ্ছে। ফলে পাণীয় জলের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বৃহত্তর ময়মনসিংহ আদিবাসী কালচারাল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের সভাপতি অজয় এ মৃ বলেন, এক সময় মধুপুর বন গহীন অরণ্য ছিল। প্রচুর ঝোপঝাড় ছিল। ঝোপঝাড়ে পশুপাখি প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেত। বনের মধ্যে জলাশয়ের পানিতে চলতো পশুপাখিদের জীবন। প্রাকৃতিক বন উজাড় অপর দিকে সামাজিক বনে বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। এ জন্য তাপদাহে বন্যপ্রাণীদের কষ্ট বাড়ছে। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক বন বাড়াতে হবে। সামাজিক বনায়ন বন্ধ করা দরকার বলে তিনি মনে করেন। 

জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক জানান, দিন দিন বন উজাড়ের ফলে বন্যপ্রাণীদের খাবার কমে গেছে। পরিবেশের ভারসাম্য হারাচ্ছে। পশুপাখি আশ্রয় ও খাদ্য সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বেলার বিভাগীয় সমন্বয়ক গৌতম চন্দ্র বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। জীব বৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। বৃষ্টি কমে যাচ্ছে। এজন্য জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কাজ করা দরকার। বন্যপ্রাণীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা দরকার। জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ও পরিবেশর সহকারী বন সংরক্ষক (টাঙ্গাইল উত্তর) আশিকুর রহমান বলেন, মধুপুর মূলত উঁচু জায়গা তারপরও জাতীয় উদ্যানের গড়গড়িয়া বনবিথী রেস্ট হাউজের পাশে জলাশয়ে পানি রয়েছে এখানে বানররা পানি খেয়ে থাকে। 

তারমতে, পানীয় জলের সমস্যার চেয়ে খাদ্য সমস্যা বেশি। বনের জায়গা দখলের ফলে বনের পশুপাখিদের খাদ্য কমে গেছে। মধুপুর বনের বন্যপশুপাখিরা অনেকাংশে ভালো আছে বলে তিনি মনে করেন। 

বন উজাড় অবৈধ দখল বন্ধ করে সামাজিক বনায়নের নামে প্রাকৃতিক ধ্বংস বন্ধের দাবি স্থানীয়দের। প্রাকৃতিক বন রক্ষা পেলে বাড়বে ঝোপঝাড়। নিরাপদ আবাসস্থল ফিরে পাবে বন্যপ্রাণীরা। বাড়বে খাদ্যের যোগান। বনের দখল হওয়া জলাশয়গুলো উদ্ধার করে আগের মত মুক্ত করে বন্যপ্রাণীদের জন্য অবমুক্ত করার দাবি স্থানীয়দের। 


Tag
আরও খবর





6a721f9c39040-040826112132.webp
দেশের ১২ জেলায় বন্যার শঙ্কা

১ দিন ১ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে